
কলকাতার ইডেন গার্ডেন, বহু ক্রিকেটপ্রেমী মানুষের কাছে স্বপ্নের জায়গা। পছন্দের টিমের খেলা দেখার জন্য লক্ষ লক্ষ মানুষ ভিড় করেন ইডেন গার্ডেনে। জানেন আপনার পছন্দের ইডেন গার্ডেনের কিভাবে হয়ে উঠল আজকের ইডেন গার্ডেন? আজকের বিনোদনের জায়গার পিছনে লুকিয়ে রয়েছে এক ব্যর্থ প্রেমিকার কান্নার গল্প।
সালটা ১৮৪০। ব্রিটিশ শাসনকালে তখন ভারতের গভর্নর জেনারেল ছিলেন লর্ড অকল্যান্ড। তিনি তাঁর দুই বোন এমিলি ও ফ্যানি ইডেনের নামেই এই বাগানের নামকরণ করেন। এই বিনোদন ক্ষেত্র তৈরীর আড়ালে লুকিয়ে আছে বেদনাদায়ক কাহিনী।
১৮৩৬ সালে মার্চ মাসে দুই বোনকে নিয়ে আসেন অকল্যান্ড। থাকতে শুরু করেন রাজভবনে কলকাতায় এসে প্রচুর পশুপাখি পোষেন দুই বোন। প্রকৃতির প্রতি ভালবাসা থেকে ১৮৪১ সালে গঙ্গার কাছে একটি বিশাল বাগান তৈরী শুরু করেন তাঁরা। মায়ানমারের প্রোম জিনিস নিয়ে বাগানে বানানো হয়েছিল বিশাল প্যাগোডা। যা ছিল বেশ আকর্ষণীয়। এই বাগানে বিকেলে হাঁটতে আসতেন বহু ইংরেজরা। শোনা যায় বিকেলে এই বাগান হয়ে উঠত মায়াবী।
জনশ্রুতি আছে, লর্ড অকল্যান্ডের বোন ফ্যানি ইডেনের সঙ্গে এক ব্রিটিশ অফিসারের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে । আজকের ইডেন গার্ডেন ছিল তাঁদের ভালোবাসার মুহূ্র্ত কাটানোর জায়গা। প্রেমিকের সঙ্গে ফ্যানি প্রায়ই আসতেন বাগানে। তাঁদের সুখ , দুঃখের গল্প ভাগ করে নেওয়া, ভালবাসা বিনিময়ের জায়গা ছিল এই বাগান। প্রকৃতির সৌন্দর্যের মাঝে বসে পশুপাখির মাঝে ভালবাসা বিনিময় করতেন তাঁরা। শোনা যায় পরে ফ্যানি ও তাঁর প্রেমিকের বিচ্ছেদ ঘটলে ফ্যানি খুব কষ্ট পান এবং বাগান তৈরির কাজ অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
ফ্যানির মৃত্যুর পর তাঁর স্মৃতিতে এবং তাঁর বোন এমিলি ইডেনের ইচ্ছায় লর্ড অকল্যান্ড এই বাগানটি সম্পূর্ণ করেন এবং এর নামকরণ করেন ‘ইডেন গার্ডেন’।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই বাগান পরিচয় বদলে গিয়ে হয়ে উঠেছে আজকের ইডেন গার্ডেন। এমিলি ইডেনের ব্যর্থ প্রেমের সাক্ষী ইডেন গার্ডেন আধুনিক রূপে সেজেছে। আলো ঝলমলে স্টেডিয়াম, নিত্যনতুন সুবিধা, আন্তর্জাতিক ম্যাচের ভিড়ের মাঝেও আজকের ক্রিকেটের স্বর্গরাজ্য ‘ইডেন গার্ডেন’ বহন করে চলেছে বহু ইতিহাস।