
কলকাতা: বাংলার ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জন পর্বের শেষবেলায় পরপর কড়া পদক্ষেপ নির্বাচন কমিশনের। বাংলার সাত আধিকারিক দ্রুত সাসপেন্ড (নিলম্বিত) করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। এই মর্মে রাজ্যের মুখ্যসচিবকে পদক্ষেপ করার জন্য নবান্নে একটি চিঠিও পাঠিয়েছে নয়াদিল্লি। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই সাত আধিকারিকই বাংলার এসআইআর পর্বের কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। AERO-র দায়িত্ব পালন করছিলেন তাঁরা। এবার সেই আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কাজে অসদাচারণ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগ তুলেছে কমিশন।
এর আগেও রাজ্যের চার আধিকারিককে সাসপেন্ড করে তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। কিন্তু বাস্তবে তেমনটা হয়নি। এফআইআর না-দায়ের হওয়ায় শুক্রবার দিল্লিতে নির্বাচন সদনে তলব করা হয়েছিল রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে। নয়াদিল্লিতে গিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ হতে হয়েছিলে তাঁকে। রাজ্য অভিযুক্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে ‘গড়িমসি’ করছে বলেও শুনতে হয়েছিল তাঁকে। পাশাপাশি, চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর করার জন্য মঙ্গলবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয় কমিশন। এই আবহেই রবিবার এল রাজ্যে আরও সাত আধিকারিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করার নির্দেশ।
সংশ্লিষ্ট নির্দেশিকায় সাত আধিকারিকের নাম, কর্মস্থলের কথা উল্লেখ করেছে নির্বাচন কমিশন। তাতে দেখা গিয়েছে, মুর্শিদাবাদ জেলা থেকে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তিন আধিকারিককে — সামশেরগঞ্জের এইআরও শেফাউর রহমান, ফরাক্কার এইআরও নীতীশ দাস, সুতির এইআরও শেখ মুর্শিদ আলম।
সাসপেন্ড নির্দেশে রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার দুই আধিকারিকের নাম — ক্যানিং পূর্বে এইআরও সত্যজিৎ দাস এবং জয়দীপ কুণ্ডু। পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ডেবরার বিডিও তথা এইআরও দেবাশিষ বিশ্বাসকে। জলপাইগুড়ি জেলার অন্তর্গত ময়নাগুড়ি থেকে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এইআরও ডালিয়া রায়চৌধুরীকে।