
কলকাতা: শহরে ফের সক্রিয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (Enforcement Directorate)। উল্টোডাঙার এক বহুতলের তৃতীয় তলায় হানা দিয়েছে ইডি। ফ্ল্যাটে ইতিমধ্যেই নিয়ে যাওয়া হয়েছে তিনটি টাকা গোনার মেশিন। পাশাপাশি আরও একটি টাকা গোনার মেশিন প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত সূত্র মারফত যা খবর, প্রায় দেড় কোটি টাকার সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। ফ্ল্যাটের ভিতরে এখনও রয়েছেন ইডি গোয়েন্দারা। বুধবার সকাল থেকে উল্টোডাঙার ওই বহুতলের ফ্ল্যাটে অভিযান চালাচ্ছেন ইডির আধিকারিকরা। জানা গিয়েছে, ওই ফ্ল্যাটটি উমেশ আগরওয়ালের। উমেশের ছেলের রমেশ আগরওয়ালের সঙ্গে অনলাইন গেমিং অ্যাপ প্রতারণা কাণ্ডে ধৃত আমির খানের যোগসাজশ রয়েছে বলে অভিযোগ। সেই সূত্র ধরেই এদিন সকাল থেকে অভিযান চালাচ্ছেন ইডির অফিসাররা।
প্রাথমিকভাবে সূত্রের খবর, ওই ফ্ল্যাটের ভিতরে একটি আলমারি ভেঙে একটি ল্যাপটপ ও বেশ কিছু নথির সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। শুধু উল্টোডাঙার এই ফ্ল্যাটেই নয়, শহরের আরও বেশ কয়েকটি জায়গায় ইডির তদন্তকারী আধিকারিকরা তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছেন বলে জানা গিয়েছে। মধ্য কলকাতা ও দক্ষিণ কলকাতার আরও দুই ব্যবসায়ীর বাড়িতে তল্লাশি চলছে বলে খবর। এদিন সকাল প্রায় আটটা নাগাদ উল্টোডাঙার ওই ফ্ল্যাটে পৌঁছে গিয়েছিলেন ইডির আধিকারিকরা। সঙ্গে রয়েছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরাও। এদিকে মানিকতলা থানার পুলিশও এদিন সন্ধেয় পৌঁছে গিয়েছিলেন ঘটনাস্থলে। যদিও পুলিশকর্মীরা ওই বহুতলের বাইরেই ছিলেন।
উল্লেখ্য আমির খানের অনলাইন গেমিং অ্যাপ প্রতারণা কাণ্ডে ইতিমধ্য়েই প্রচুর পরিমাণে নগদ টাকা উদ্ধার করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। শুধু তাই নয়, ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগের সন্ধানও পাওয়া গিয়েছে। ই-নাগেটস প্রতারণা কাণ্ডে কলকাতা পুলিশ এবং এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট উভয় তদন্তকারী সংস্থায় পৃথক পৃথক তদন্ত করছে। উভয়েই ইতিমধ্যে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগের খোঁজ পেয়েছে। এবার এই প্রতারণার ফাঁদ আরও কতদূর ছড়িয়ে রয়েছে, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। সেই সূত্র ধরেই এদিন উল্টোডাঙা সহ কলকাতার একাধিক জায়গায় ইডির অভিযান বলে জানা গিয়েছে।