Pratik-Ur Rahaman Joining TMC: ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ ছেড়ে এবার ‘মা-মাটি-মানুষ’ জিন্দাবাদ, তৃণমূলের ঝান্ডা প্রতীক-উরের হাতে

এমনকী সিপিএম ছাড়ার পর প্রতীক-উর এও বলেছিলেন, বাংলায় যত রাজনৈতিক দল আছে সবাই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তবে তিনি যে তৃণমূলেই যাবেন তা মুখে না বললেও রাজনীতির অলিগলিতে শাসকদলের যোগদানের জল্পনাই ছড়াচ্ছিল। লোকসভা নির্বাচনে যে অভিষেকের বিরুদ্ধে তিনি লড়াই করেছিলেন, সেই অভিষেকের হাত ধরেই অবশেষে লাল পতাকা ছেড়ে ঘাসফুল পতাকা তুলে নিলেন তিনি।

Pratik-Ur Rahaman Joining TMC: ইনকিলাব জিন্দাবাদ ছেড়ে এবার মা-মাটি-মানুষ জিন্দাবাদ, তৃণমূলের ঝান্ডা প্রতীক-উরের হাতে
প্রতীক-উর-রহমানের যোগদানImage Credit source: Facebook

| Edited By: অবন্তিকা প্রামাণিক

Feb 21, 2026 | 6:36 PM

আমতলা: সব জল্পনার হল অবসান। অবশেষে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড-হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) হাত ধরে আমতলার পার্টি অফিসে তৃণমূলে যোগ দিলেন সদ্য প্রাক্তন সিপিএম নেতা প্রতীক-উর-রহমান। বিগত এক সপ্তাহ ধরে তাঁর দলবদল নিয়ে জল্পনা চলছিল। পরবর্তীতে তিনি নিজেই জানিয়ে দিয়েছিলেন ২১ ফেব্রুয়ারি তিনি তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের সিদ্ধান্ত নেবেন। এমনকী সিপিএম ছাড়ার পর প্রতীক-উর এও বলেছিলেন, বাংলায় যত রাজনৈতিক দল আছে সবাই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তবে তিনি যে তৃণমূলেই যাবেন তা মুখে না বললেও রাজনীতির অলিগলিতে শাসকদলের যোগদানের জল্পনাই ছড়াচ্ছিল। লোকসভা নির্বাচনে যে অভিষেকের বিরুদ্ধে তিনি লড়াই করেছিলেন, সেই অভিষেকের হাত ধরেই অবশেষে লাল পতাকা ছেড়ে ঘাসফুল পতাকা তুলে নিলেন তিনি।

এ দিন প্রতীক-উর বলেন,”বাংলার গৌরব নিয়ে আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লড়াই করছেন। এই সময় বিজেপিকে আটকাতে তৃণমূল প্রয়োজন। বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সব থেকে বড় শক্তি তৃণমূল। তাই আমি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে এসেছি।

অভিষেক বলেন, “আমি ওকে দেখেছি মিটিং মিছিলে। সিপিএম-কে দেখা যায় না। যেটুকু দেখা যায় এদেরই দেখা যায়। ব্যক্তিগত ভাবে আমি প্রতীকুর কে দেখেছি কোনও দলকে আক্রমণ করেনি। বিজেপির বিরুদ্ধে আমাদের যে লড়াই…। SIR নিয়েই যদি বলি, বাংলার জন্য এক বিহারের জন্য এক। দ্বিচারিতা করছে। সিপিএমও তো একটা রাজ্যে রয়েছে। তাঁরাও লড়ুক। সিপিএম-এর মতাদর্শ কী?” তিনি এও বলেন, “সিপিএম-এর মতাদর্শ কী? তৃণমূলের মতাদর্শ প্রান্তিক মানুষকে পরিষেবা দেওয়া। সিপিএম তো কাউকে ভাতাও দেয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় করেনি, কেন কম্পিউটার বন্ধ করেছিলেন।” অভিষেক বলেন, “প্রতীক-উরকে বলা হচ্ছে তৃণমূলের সঙ্গে ডিল করেছেন। ডিল হল, বিধানসভার টিকিট পাচ্ছে। প্রতীক-উর নিজে বলেছে আমি টিকিট নেব না। যে ছেলেটা এতদিন দল করল তাঁকেই চেনন না। আপনি আগেই বলে দিলেন গদ্দার, বলে দিলেন বেইমান। কারণ আপনার কাছে বশ্যতা স্বীকার করেননি। খুব গায়ে জ্বালা সেলিমবাবুদের। সংবাদ মাধ্যমে স্নো পাউডার মেখে ঘুরে বেড়ানো নেতা বলছেন সেটিং হয়ে গেছে। আমি এটা সংবাদ মাধ্যমে বলতাম না।” তৃণমূল সাংসদ আরও বলেন, “আমি কিছু বলার আগেই ও বলছে আমি বিধানসভা নির্বাচনে টিকিটের জন্য় আসিনি। সংগঠনে কাজ করব। ভাল কর্মী কোথায় পাবেন? সব দলেই ভাল খারাপ আছে। যাঁদের চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই মানুষের জন্য কাজ করতে চায় এর জন্য কাউকে দরকার নেই। সিপিএম-এর লোকাল-জোনাল কমিটি। আলিমুদ্দিনের নেতারা সার্টিফিকেট দেবে? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মহাশ্বেতা দেবীর মতো লেখক বলেছিলেন, মমতার বয়স বাড়ছে, এনার্জি বাড়ছে। মহাশ্বেতার মতাদর্শ কী? অর্মত্য সেনের মতাদর্শ কী? তাঁরা বামপন্থী নয়? যাঁকে এরা স্ট্যাম্প দিয়েছে তাঁকে মহম্মদ সেলিমের স্ট্যাম্পের দরকার পড়ে না।”
অভিষেক বলেন, “একটা গ্রামে আগুন লাগে, কাউকে না পেলে দমকলে প্রথম ফোন করে তৃণমূল নেতা। ১৫০০ টাকায় কী হয়? হয়ত কিছু হয় না। আগামী দিনে পাঁচ জায়গায় ইন্টারভিউ দিতে হয় গাড়ি ভাড়া করে ইন্টারভিউ দিতে যাবে। মায়ের কাছে হাত পাততে হয় না। পাঁচ বছরের জন্য ১৫০০ টাকা করে দেওয়া বছরে ১৮০০০ টাকা। পাঁচ বছরে ৯০ হাজার টাকা। যাঁরা বলে তাঁরা ৯০ টাকা মানুষকে দিয়েছে?” প্রতীক-কুররা সিপিএম থেকে যাওয়ার পর রাজনীতিতে এসেছে। হঠাৎ করে বলে দিল ডিল। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় চাওয়া-পাওয়ার জন্য আসেনি। কানহাইয়া কুমার চলে গেছে কংগ্রেসে। সব ধান্দাবাজ। বাকিরা ধোয়া তুলসি পাতা? ৩৫ শতাংশ ভোটে ওদের থেকেই ভোট যায় বিজেপিতে। আয়নায় নিজের মুখ দেখা উচিত। যাঁদের কারণ সিপিএম শূন্য তাঁরা ব্যক্তি আক্রমণে নেমেছে? কার সঙ্গে লড়বেন ঠিক করুন। যাঁরা বিজেপির টাকায় উঠছে বসছে, বিজেপির থেকে টাকায় টাকা নিয়ে বাংলায় আগুন জ্বালানোর চেষ্টা করছে তাঁদের সঙ্গে রাতের অন্ধকারে মিটিং? ২০২১ সালেও করেছিল। এত বড় পার্টি, কখনও হুমায়ুন কবীর, কখনও আব্বাস সিদ্দিকি লজ্জালাগে না? আপনারা তৃণমূলের মতাদর্শ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন? মন্দির-মসজিদের রাজনীতি আমরা করি? তরুণরা যাঁরা একবুক আশা নিয়ে রাজনীতিতে আসুন, আমি যতদিন আছি…মানুষ কতদিন বেঁচে আছে সব ভগবানের হাতে…আমি অন্তত সুযোগ করে দেব।”

অভিষেক বলেন, “অনেককে সুযোগ করে দিয়েছি। দেবাংশুকেও তো সুযোগ দিয়েছি। সবাইকে বলব আসুন।”

প্রতীক-কুর রহমান বলেন, “আমি সিপিএম-এ ছিলাম তখন বলেছিলাম লক্ষ্মীর ভান্ডার ভীক্ষা নয় অধিকার চাই। পরে দল বলল ভীক্ষা বলা ঠিক হবে না। লোকের মধ্যে রিয়্যাকশন আছে। ভোট আরও কমে যাচ্ছে। আমরা বললাম ভাতা বাড়াতে হবে। পরোক্ষভাবে তৃণমূলের স্কিমের কথাই তো মেনে নিলাম।”

প্রতীক-কুর রহমান আরও বলেন, “আমার নীতি বিজেপিকে আটকাব। বলছে না ডিল হয়েছে-বিজেপিকে পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে আটকাব। সিপিএম-এ ছিলাম তখন বিজেমূল-বিজেমূল বলে রটিয়েছে। তৃণমূল সেটা ভুল প্রমাণের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টে গেলেন আর প্রতিদিন তৃণমূল সিপিএমকে বলছে, বিজেপির বি টিম। ভোট ট্রান্সফার করেছ এটা প্রমাণ করতে হুমায়ুনের সঙ্গে সেলিম বসলেন। ওয়েলফেয়ার পার্টির নেতাদের নিয়ে আলিমুদ্দিনে বসলেন।

তিনি আরও বলেন, “গতকাল বলল-যাঁরা তোমায় মেরেছিল তাঁদের হয়ে লড়ছ। আমি মার কাদের জন্য খেয়েছিলাম। আমি তো থাকতে চেয়েছিলাম দলে দমবন্ধ পরিস্থির মধ্যে আমি মুখ খুলেছি। অনেকেই মুখ খুলেছে। প্রসাদের মধ্যে ঘুমন্ত শিশু জেগে উঠেছে প্রশ্ন রাজা তোর কাপড় কোথায়?” প্রতীক উর বলেন, “শুভেন্দু দুদিন আগে সেলিমকে আক্রমণ করেছেন। লোকসভা নির্বাচনে কতবার ফোন করেছিলেন কী কতা হয়েছিল…ঠিক আছে আস্তে আস্তে বেরবে।” প্রতীক উর বলেছেন, “আমায় একমাস আগে ভোটে দাঁড় করানো হয়েছে। সবাই জানত আমি হারব. এখন আমার কী বলার আছে ভোট লুঠ হয়েছে সেইটাই বলেছি।”