
কলকাতা: তিনি রাজ্যের একজন প্রাক্তন সাংসদ। কেন্দ্রীয় সরকারের গ্রুপ এ অফিসারও ছিলেন। এসইউসিআই(সি)-র সেই প্রাক্তন সাংসদ তরুণ মণ্ডলের নাম বাদ পড়ল ভোটার তালিকা থেকে। সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এই নিয়ে প্রাক্তন সাংসদ শনিবার CEO দফতরে আসেন। চিঠি পাঠিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের কাছে। চিঠির প্রতিলিপি পাঠালেন লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা ও রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে।
২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগরের সাংসদ ছিলেন তরুণ মণ্ডল। কংগ্রেস ও তৃণমূল জোটের সমর্থনে এসইউসিআই(সি) প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি। পেশায় চিকিৎসক বছর সাতষট্টির তরুণ মণ্ডল বর্তমানে হাওড়ার বি গার্ডেন এলাকায় বাস করেন। দক্ষিণ হাওড়া বিধানসভার ভোটার তিনি। এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিবেচনাধীন তালিকায় নাম এসেছিল তাঁর। এরপর নানা নথিপত্র জমা দেন তিনি। তবে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায় তাঁর নামের পাশে ‘ডিলিটেড’ লেখা।
নাম বাদ যাওয়ার পর এদিন সিইও দফতরে আসেন প্রাক্তন এই সাংসদ। সঙ্গে ছিল এসইউসিআই(সি)-র প্রতিনিধি দল। রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি জমা দেন তাঁরা। প্রাক্তন সাংসদ হিসেবে তরুণ মণ্ডলের পরিচয়পত্র, পিপিও, কেন্দ্রীয় সরকারের গ্রুপ এ অফিসার হিসাবে চাকরির নথিপত্র ও অন্যান্য কাগজপত্র মিলিয়ে এক ডজন নথি জমা দেওয়া হয়েছে।
পরে প্রাক্তন সাংসদ ও এসইউসিআই(সি)-র প্রতিনিধি দল জানায়, সিইও-র তরফে তাঁর ওএসডি জানিয়েছেন এখন ট্রাইবুনালে আবেদন করা ছাড়া কমিশনের কিছু করার নেই। এরপর হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালকে চিঠি লেখেন তরুণ মণ্ডল। হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বেই জুডিশিয়াল অফিসাররা বিবেচনাধীন ভোটারদের নথি খতিয়ে দেখছেন। প্রধান বিচারপতিকে চিঠি প্রাক্তন সাংসদ লিখেছেন, ‘আমি সাংসদ ছিলাম। আমার এই অবস্থা হলে রাজ্যের সাধারণ মানুষ এখন কোন অবস্থায় রয়েছেন!’ এই চিঠির প্রতিলিপি পাঠালেন লোকসভার সাংসদ ও রাষ্ট্রপতিকে।