Mamata-21 July: ‘লড়াইয়ের সবচেয়ে বড় জোগানদার’, ডিম-ভাত নয়, এই দুঃসময়েও আজ মমতার ২১ জুলাইয়ে কর্মীদের খিদে মেটাতে পাতে পড়ল কী?
Mamata Banerjee 21 July: ক্ষমতার শিখরে থাকাটা এক ক্ষণস্থায়ী মোহ। আজ চেয়ার আছে, কাল নেই। চেয়ার চলে গেলে তো আর পেট চালানো থামানো যায় না, থামে না লড়াইয়ের তাগিদও। তাই ক্ষমতায় আসার আগের সেই পুরনো ভরসাতেই ফিরতে হয়েছে আবার—মুড়ি।

কলকাতা: দলের দুঃসময় এসেছে বলে ডিম-ভাতের পাত খালি? তাতে কী! কর্মীদের পাতে আজ শুধুই শুকনো মুড়ি আর কাঁচা লঙ্কা। কিন্তু চেহারায় বিষাদের লেশমাত্র নেই, চোখে-মুখে স্পষ্ট জেদ—’কুছ পরোয়া নেহি!’
বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে কালীঘাট তৃণমূলের কর্মীদেরই একাংশ বলছেন, রাজনীতির পিচ সবসময় সমান থাকে না। ক্ষমতার আলো যখন তীব্র ছিল, তখন থালায় হয়তো ছিলপিল করত গরম ডিম-ভাত, মণ্ডা-মিঠাই। কিন্তু আজ পকেটে টান, দরজায় দুর্দিন। তবুও ঝাণ্ডা ধরা হাত দুটো কিন্তু আলগা হয়নি। এক কর্মী বললেন, “ক্ষমতার অলিন্দে পৌঁছানোর বহু আগেই তো এই শুকনো মুড়িই ছিল লড়াইয়ের সবচেয়ে বড় জোগানদার। মিছিলে হাঁটার আগে কিংবা পোস্টার মেরে ক্লান্ত দুপুরে ওই একমুঠো মুড়িই চাঙ্গা করত শরীর।” আজ পরিস্থিতি বদলেছে। কিন্তু আজও বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে জড়ো হওয়া কর্মীদের মধ্যে থামেনি লড়াইয়ের তাগিদও। তাই ক্ষমতায় আসার আগের সেই পুরনো ভরসাতেই ফিরতে হয়েছে আবার—মুড়ি।
ডিম-ভাত হয়তো সুদিনের সাময়িক বিলাসিতা, কিন্তু শুকনো মুড়িটা হলো লড়াইয়ের আসল জ্বালানি। আরেক কর্মী বললেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দমিয়ে রাখা যাবে না। পেট খালি থাকলেও রাজনৈতিক জেদ আর শুকনো মুড়ির চিবোনোর শব্দেই ফুটে ওঠে চরম বার্তা—লড়াইটা এখনও শেষ হয়ে যায়নি!”
আগের একুশে জুলাইয়ের ছবিটাই ছিল অন্য। এক উৎসবের মেজাজ! একুশে জুলাইয়ের শহিদ সমাবেশে দূর-দূরান্তের জেলা থেকে লাখ লাখ দলীয় কর্মী-সমর্থক কলকাতায় আসতেন। দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে আসা হাজার হাজার মানুষের খিদে মেটাতে ডিম-ভাতের আয়োজন করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কালের নিয়মে এই ডিম-ভাত শুধু খাবারের তালিকায় সীমাবদ্ধ থাকেনি; এটি হয়ে উঠেছিল কর্মী-সমর্থকদের মিলনমেলার প্রধান আকর্ষণ। আর বঙ্গ রাজনীতিতেও ডিম-ভাত হয়ে ওঠে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
