Mukul Roy: ভাইফোঁটা দিতেন মুখ্যমন্ত্রী, দলের সবকিছু থাকত নখদর্পণে, তবুও কেন তৃণমূল ছেড়েছিলেন মুকুল রায়?

Why Mukul Roy Left TMC: সারদা কেলেঙ্কারি ও নারদা স্টিং অপারেশন কাণ্ডে মুকুল রায়ের নাম জড়ানোর পর থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়তে থাকে। দলের একাংশ বলতে থাকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর তিনিই দলকে নিয়ন্ত্রণ করছেন। তাঁর ছেলে শুভ্রাংশু রায়কে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হচ্ছে।

Mukul Roy: ভাইফোঁটা দিতেন মুখ্যমন্ত্রী, দলের সবকিছু থাকত নখদর্পণে, তবুও কেন তৃণমূল ছেড়েছিলেন মুকুল রায়?
মুকুল রায়।Image Credit source: X

| Edited By: ঈপ্সা চ্যাটার্জী

Feb 23, 2026 | 9:22 AM

কলকাতা: প্রয়াত মুকুল রায়। তৃণমূল কংগ্রেসের একটা অধ্য়ায়ের অবসান হল মুকুল রায়ের প্রয়াণে। যখন কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূল কংগ্রেস তৈরি হবে কি না, এই সংশয়ে অনেকেই মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়ের সঙ্গ ছাড়ছিলেন, তখন দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে ছিলেন মুকুল রায়। দলের অগ্রগতির ক্ষেত্রে মুকুল রায়ের ভূমিকা অনস্বীকার্য ছিল। সাংগঠনিক ক্ষমতা অসাধারণ ছিল তাঁর। প্রতিটা বুথ স্তরের সমস্ত খবর তাঁর নখদর্পণে ছিল। এতটাই দল অন্তপ্রাণ ছিলেন যে তৃণমূলের পার্টি অফিসেই সপরিবারে থাকতেন তিনি। দলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড ছিলেন মুকুল রায়। তবে এত কিছুর পরও কেন তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হল দলের প্রতিষ্ঠার সময়ের সদস্য মুকুল রায়ের?

২০০৬ সালে জমি অধিগ্রহণ অভিযান, সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী ছিলেন মুকুল রায়। পরবর্তী সময়ে জাহাজ মন্ত্রী, রেলমন্ত্রী হয়। ২০১১ সালে পালাবদলের পরও অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন মুকুল রায়। এরপরেই ছিল ২০১৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচন। এই নির্বাচনে সাংগঠনিক ভূমিকা পালন করেন। ওই সময়ই দেড় বছর ধরে মুকুল রায়ের নেতৃত্বে দলবদলের কর্মসূচি চলে। প্রায় প্রতিদিনই শরিক দলের নেতা-কর্মীদের ভাঙিয়ে তৃণমূলে যোগদান করাতেন। বাংলার রাজনীতির সমীকরণে বদল আসে মুকুল রায়ের এই ‘দলবদল কর্মসূচি’র দৌলতেই।

তবে সারদা কেলেঙ্কারি ও নারদা স্টিং অপারেশন কাণ্ডে মুকুল রায়ের নাম জড়ানোর পর থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়তে থাকে। দলের একাংশ বলতে থাকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর তিনিই দলকে নিয়ন্ত্রণ করছেন। তাঁর ছেলে শুভ্রাংশু রায়কে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হচ্ছে। এই সবকিছুকে কেন্দ্র করেই বর্ষীয়ান নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। তাদের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ে। অভিযোগ ওঠে, যে মুকুল রায় নিজে সর্বেসর্বা হয়ে উঠছেন। বলা হয় যে প্রশাসনকে প্রভাবিত করার ক্ষমতাও ছিল মুকুল রায়ের।

এরপরে নারদা মামলায় সিবিআই ডাক পড়ে। তারপর থেকে দলের সঙ্গে দূরত্ব আরও বাড়ে। ওই সময়ে মুকুল রায় নিজের মতো করে সংগঠন চালাতে শুরু করেন। নিজাম প্যালেসে লোকজন দেখা করতে শুরু করে। তারপরই জল্পনা তৈরি হয় যে আলাদা একটি দল তৈরি করতে চলেছেন তিনি।

তবে সেই জল্পনায় জল ঢেলে দীর্ঘ ১৯ বছরের সম্পর্ক ছেদ করে ২০১৭ সালে তিনি তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দেন। প্রথম সভা করেন রাণী রাসমণি রোডে। এখান থেকেই তিনি বিশ্ববাংলার লোগো দেখিয়ে বলেছিলেন, বিশ্ববাংলা একটি কোম্পানির নাম। তৃণমূল কংগ্রেস এখন পারিবারিক কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে।

একুশ সালের নির্বাচনের আগেই তৃণমূলে মুকুল রায়ের চির প্রতিদ্বন্দ্বী শুভেন্দু অধিকারীও বিজেপিতে যোগ দেন। ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে মুকুল রায় বিজেপির টিকিটে কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হিসাবে ভোটে লড়েন এবং ৩৫ হাজার ৮৯ ভোটের ব্যবধানে তৃণমূলের তারকা প্রার্থী কৌশানী মুখোপাধ্যায়কে হারিয়ে জয়লাভ করেন।

তৃণমূলের মতো বঙ্গ বিজেপির ভিত গড়তেও বিশেষ ভূমিকা রেখেছিলেন মুকুল রায়। ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে ১৮টি আসন পায় বিজেপি। তবে বিজেপির সঙ্গে বেশিদিন থাকেননি মুকুল রায়। ২০২১ সালের ১১ জুন তারিখে তিনি বিজেপি ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে ফিরে আসেন। তবে আগের মতো ছিলেন না মুকুল রায়। শারীরিকভাবে, মানসিকভাবে। তাঁর স্ত্রীর প্রয়াণের পরই আচরণে অসঙ্গতি লক্ষ্য করা যায়। একাধিকবার অসংলগ্ন কথাবার্তা ধরা পড়ে ক্যামেরায়। কখনও তিনি বলেছিলেন যে “যাহাই বিজেপি, তাহাই তৃণমূল”, কখনও আবার বলেছিলেন যে বিজেপি জিতবে। এদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেও, বিজেপির বিধায়ক পদ ছাড়েননি তিনি। এই নিয়ে তীব্র বিতর্কও হয়। আদালত পর্যন্ত জল গড়ায়। কিন্তু মানবিকতার খাতিরেই মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ রেখে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট।