Mamata Banerjee: আচমকা কালীঘাটে মমতার বাড়ির সামনে বাড়ানো হল পুলিশকর্মীর সংখ্যা, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বললেন…
Mamata Banerjee Alleges Heavy Police Deployment Outside Kalighat Home: তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন বলেন, "বারুইপুরে নৃশংস ঘটনা ঘটেছে। উনি যাওয়ার কথা ভেবেছিলেন। নজরবন্দি করে দিদিকে আটকাতে পারবে? কী ভাবছে? এত পুলিশ হঠাৎ এখানে কেন, এটা জেনে আমাকে আসতে হয়েছে। এটা ঠিক হচ্ছে না।"

কলকাতা: রবিবার সন্ধের পর আচমকা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়ির সামনে বাড়ানো হয় পুলিশকর্মীর সংখ্যা। তৃণমূলের আইটি সেলের তরফে সোশ্যাল মিডিয়ায় তা নিয়ে ভিডিয়ো করা হয়। তারপরই শোরগোল পড়ে রাজনৈতিক মহলে। একের পর এক ‘কালীঘাট তৃণমূলের’ নেতা-নেত্রী মমতার বাড়িতে আসেন। কেন পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। নিশানা করেন বর্তমান সরকারকে। শেষ পর্যন্ত ফেসবুকে ভিডিয়ো বার্তায় মুখ খোলেন স্বয়ং মমতা। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, তিনি বারুইপুরে যেতে চাওয়ায় তাঁর বাড়ির সামনে পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।
বারুইপুরে ১১ বছরের এক নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগে এদিন দিনভর উত্তপ্ত ছিল এলাকা। তৃণমূলের আইটি সেলের তরফে সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভ ভিডিয়ো করে বলা হয়, নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যেতে চেয়েছিলেন মমতা। তিনি যাতে যেতে না পারে সেজন্যই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে পুলিশ বাড়ানো হয়েছে।
মুখ খুললেন মমতা-
তাঁর বাড়ির সামনে পুলিশকর্মীর সংখ্যা বাড়ানো নিয়ে শোরগোল পড়ার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় মমতা বলেন, “যখন থেকে ঘটনাটি শুনেছি, তখন থেকে আমি খুব উদ্বিগ্ন। আমি ভেবেছিলাম, তাদের পরিবারের কাছে আমি একাই যাব। শোকসন্তপ্ত পরিবারের সঙ্গে দেখা করব। তাদের কথা শুনে আসব। কিন্তু, দেখুন আমার বাড়ির সামনে রুটমার্চ হচ্ছে। প্রায় এক হাজার পুলিশ, সিআরপিএফ, আইবি, সিআইডি সবাই মিলে জমায়েত হয়েছে। আমাকে নাকি নজরবন্দি করে রাখা হয়েছে শুনছি। মুখে না বললেও নাকি হাউস অ্যারেস্ট করে রাখা হয়েছে। এমন কী ঘটল যে আমার বাড়ির সামনে রুটমার্চ করতে হচ্ছে? আজকে তো আমি একা। তাহলে আমাকে নিয়ে এত ভয় কেন? আমি যেতে না পারলেও পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছে। বাদ বাকিটা উহ্য রাখছি।”
মমতার বাড়ির সামনে পুলিশকর্মী বাড়ানোর খবর পেয়ে আসেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। তিনি বলেন, “দিদিমণি বাড়িতে রয়েছেন। দিদিমণি লেখাপড়া করছেন। একটা পোস্ট হয়েছে তৃণমূলের তরফে। তাতেই আসমুদ্রহিমাচল কেঁপে উঠেছে।” মমতার বাড়িতে আসেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন। তিনি বলেন, “বারুইপুরে নৃশংস ঘটনা ঘটেছে। উনি যাওয়ার কথা ভেবেছিলেন। নজরবন্দি করে দিদিকে আটকাতে পারবে? কী ভাবছে? এত পুলিশ হঠাৎ এখানে কেন, এটা জেনে আমাকে আসতে হয়েছে। এটা ঠিক হচ্ছে না।” এক্স হ্যান্ডলে বারুইপুরের ঘটনা নিয়ে সরব হয়েছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
কী বলছে বিজেপি?
বিজেপি নেতা বিমলশঙ্কর নন্দ বলেন, “আমরা সবসময় চাই যাতে শান্তি বজায় থাকে। কিন্তু, গত ১৫ বছরের একটা সামাজিক বিশৃঙ্খলার রেশ থেকে যাচ্ছে। শোনা যাচ্ছে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নাকি ওই চত্বরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। আমি একটাই অনুরোধ করব, দয়া করে কোনও অশান্তি পাকাবেন না। আপনারা পশ্চিমবঙ্গের যে পরিস্থিতি তৈরি করেছিলেন, তার ফল এখনও ভোগ করতে হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে যদি আটকানো হয়, তাতে অন্যায় কিছু হয়নি। আইনসঙ্গত বিষয়। কেউ কোথাও গেলে গোলমালের সম্ভাবনা থাকলে তাঁর অগ্রগমনকে রোধ করা যায়। এটা ভারতীয় আইন ব্যবস্থাতেই রয়েছে।
প্রসঙ্গত, বারুইপুরে নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই নৃশংস ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোরতম পদক্ষেপ করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গেও দেখা করবেন মুখ্যমন্ত্রী।
