
কলকাতা: রাজ্য জমি দিচ্ছে না বলে বাংলাদেশ সীমান্তের একটা বড় অংশে কাঁটাতার লাগানো যাচ্ছে না, এমন অভিযোগ দীর্ঘ সময় ধরেই সামনে এসেছে। এবার এক প্রাক্তন সেনাকর্মীর করা মামলায় বড় নির্দেশ দিল হাইকোর্ট। জমি কেন্দ্রের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য রাজ্যকে সময় বেঁধে দিল আদালত। প্রায় ১৮০ কিমি জমির জন্য টাকা দিয়েছে কেন্দ্র। আগামী মার্চ মাসের ৩১ তারিখের মধ্যে সেই জমি হস্তান্তরের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট।
‘রাজ্য কেন অধিকার প্রয়োগ করছে না?’, প্রশ্ন হাইকোর্টের
আজ মঙ্গলবার হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথী সেনের ডিভিশন বেঞ্চে ছিল মামলার শুনানি। প্রধান বিচারপতির প্রশ্ন, ‘রাজ্য কেন জমি অধিগ্রহণ করছে না নিজস্ব অধিকার বলে? জমি অধিগ্রহণ আইনের ৪০ নম্বর ধারা অনুযায়ী জোর করে জমি অধিগ্রহণ কেন করা হবে না? এটা জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন।’
বিচারপতি পার্থসারথী সেন বলেন, ‘আমরা অবাক হয়ে যাচ্ছি, যে রাজ্য আন্তর্জাতিক সীমানার অংশীদার, তারা নিজেরা উদ্যোগ নিচ্ছে না?’
যে জমি অধিগ্রহণের টাকা দিয়ে দিয়েছে কেন্দ্র, অধিগ্রহণও হয়ে গিয়েছে, কিন্তু টাকা হস্তান্তর করা হয়নি, সেই জমি যত দ্রুত সম্ভব হস্তান্তর করতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এ ক্ষেত্রে এসআইআর প্রক্রিয়ার অজুহাত দেওয়া চলবে না বলেও পর্যবেক্ষণ প্রধান বিচারপতির।
জমি অধিগ্রহণের বিষয়ে এখনও রাজ্য ক্যাবিনেটের অনুমোদন মেলেনি। সেই বিষয়ে জাতীয় নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে আইন অনুযায়ী জরুরি ভিত্তিতে সীমান্তের জমি অধিগ্রহণ করা যায় কি না, সে বিষয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের বক্তব্যের উপর মামলার শুনানি করবে আদালত। সব পক্ষকে হলফনামা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ২ এপ্রিল ফের শুনানি এই মামলার।
মঙ্গলবারের শুনানি, একনজরে-
অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল অশোক চক্রবর্তী জানান, জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় যেহেতু এখানে জড়িয়ে রয়েছে, সেদিকে তাকিয়ে জেলা কালেকটর সরাসরি আইন অনুযায়ী জমি অধিগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
মামলাকারীর পক্ষের আইনজীবী জানান, ২০১৩ সালের আইনের ৪০ ধারায় সেই সুযোগ রয়েছে। যেখানে জাতীয় নিরাপত্তা জড়িত, সেখানে জরুরি ভিত্তিতে জমি অধিগ্রহণ করতে এই আইন প্রয়োগ করা যায়।
২০১৬ থেকে কীভাবে ড্রাগের পাচার চলেছে তাও উল্লেখ করা হয় মামলায়। এডিশনাল সলিসিটর জেনারেল বলেন, “একাধিকবার রাজ্যকে জানানো হয়েছে। তারপরও রাজ্য ক্যাবিনেট কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছয়নি।”
রাজ্যের আইনজীবী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, জোর করে জমি অধিগ্রহণ রাজ্যের বিরোধী। তাই এক্ষেত্রে সেকশন ৪০ লাগু করা হবে না। অত্যন্ত জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া সেকশন ৪০ প্রয়োগ করা যায় না।
রাজ্য জানায় যে সমস্ত জমির পেমেন্ট দেওয়া হয়ে গিয়েছে, সেই সব জমি ২০২৬-এর মার্চের মধ্যে সেই হস্তান্তরের কাজ সম্পন্ন করা হয়ে যাবে। দু-একটি জেলার ক্ষেত্রে এক-দু মাস সময় বেশি লাগতে পারে।
এদিন রাজ্য জানায়, দক্ষিণ দিনাজপুরে মে মাসে, জলপাইগুড়িতে জুন মাসে ও মুর্শিদাবাদেও জুন মাসে জমি হস্তান্তর করা হবে।