Rachna Banerjee on TMC: ‘ফুটপাথের মেয়েকে তুলে এনে দাঁড় করালেন না কেন?’, নিজের ‘দাম’ বোঝালেন রচনা
Rachna Banerjee: কখনও সাংসদ মহুয়া মৈত্র, কখনও সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা বিধায়ক কুণাল ঘোষ, কেউই ছেড়ে কথা বলছেন না। অবশেষে প্রথমবার টিভি ৯ বাংলায় বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন রচনা। তাঁর বক্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূলের প্রতীকে তিনি জেতেননি, তারকা মুখ বলেই তিনি জয়ী হয়েছেন।

কলকাতা: মাত্র দু’বছর আগে রাজনীতিতে পা রেখেছিলেন। তারপর পালা-বদলের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) হাত ছেড়েছেন তিনি। যোগ দিয়েছেন NCPI–তে। আর তা নিয়ে কালীঘাটপন্থী নেতাদের ক্রমগাত কটাক্ষ শুনতে হচ্ছে হুগলির সাংসদ তথা দিদি নম্বর ১ খ্যাত অভিনেত্রী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। কখনও সাংসদ মহুয়া মৈত্র, কখনও সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা বিধায়ক কুণাল ঘোষ, কেউই ছেড়ে কথা বলছেন না। অবশেষে প্রথমবার টিভি ৯ বাংলায় বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন রচনা। তাঁর বক্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূলের প্রতীকে তিনি জেতেননি, তারকা মুখ বলেই তিনি জয়ী হয়েছেন।
হুগলির সাংসদ টিভি ৯ বাংলাকে বলেন, “সবাই বলছে তৃণমূলের লোগো ছিল বলে আমরা সবাই জিতেছি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ ছিল বলে জিতেছি। মমতা অবশ্যই মুখ কিন্তু রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় না থাকলে হুগলি জেলা আসত।” তাঁর যুক্তি, ভোটে জেতার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রয়োজন ছিল কোনও তারকা মুখ। আর তিনি জনপ্রিয় তারকা বলেই হুগলি থেকে বিজেপির লকেট চট্টোপাধ্যায়কে হারাতে তাঁকে তুরুপের তাস হিসাবে ব্যবহার করে সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
রচনা বলেন, “রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আপনি ব্যবহার করেননি? তাহলে গড়িয়াহাট থেকে কিংবা ফুটপাথ থেকে একটা মেয়েকে তুলে নিয়ে গিয়ে হুগলিতে দাঁড় করালেন না? রচনাকে কেন দাঁড় করালেন? রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আপনার দরকার ছিল, সেলিব্রেটি স্ট্যাটাস আপনার দরকার ছিল। আর রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেই সেই সিটটা উনি পেয়েছেন। শুধু তৃণমূলের লোগো নিয়ে একজন রাম-শ্যাম-হরিকে দাঁড় করালে এই সিটটা পেতেন না।”
একটা সময় ছিল, রচনা সঞ্চালক থাকার সময় তাঁর শো দিদি নম্বর ওয়ানে রুটি বেলেছিলেন মমতা। ভাইরালও হয় সেই ভিডিয়ো। সেই সময় ‘দিদি’ কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলেন রচনা। পরে মিলল টিকিট। আর টিকিট পাওয়ার পর শিল্প-কারখানার ধোঁয়া দেখেছিলেন হুগলিতে। ৪ মে-র পর সব বদলে গেল। এখন এই রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, আগে যদি জানতেন দলের বিরুদ্ধে বালিচুরি, কয়লাচুরি, মাটিচুরির অভিযোগ রয়েছে তাহলে হয়ত তৃণমূলেই যোগদান করতেন না।
এই নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে কুণাল ঘোষ বলেন, “এই সব এলিমেন্টকে সাংসদ করেছে। ওকে দিদি নম্বর ওয়ান থেকে বাদ দিয়েছে। ওর মাথার ঠিক নেই। অতই যদি দম সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে বিদ্রোহ করুন না।”
