Kalyan on rachna: ‘ভগবানের কী খেলা…দিদি নম্বর ১ থেকে দু’দিনের মধ্যে তাড়িয়ে দিয়েছে’, রচনাকে তুলোধনা কল্যাণের
Kalyan banerjee: সাংসদ আরও বলেন, "বড় বড় বাইট দিচ্ছে। আরে এলাকার উন্নয়ন তুমি কী করবে ভাই? তুমি তো এলাকাতেই আস না। যে এলাকাতেই ছিল না দু'বছর...। যাঁর হুগলি সংসদীয় ক্ষেত্রের ভৌগলিক জ্ঞান নেই। জানেই না হয়ত সাতটা বিধানসভার নাম বলতে পারবে না। এখন শুধু আরবানার ফ্ল্যাট, বিমানবন্দর-দিল্লি-পার্টি এর বাইরে কিছু নেই। এখন ও ডাকলে পাঁচটা লোক যাবে না। পেপারওয়ালা আর দুধওয়ালা ছাড়া কেউ যাবে না ওঁর বাড়ি।"

হুগলি: ‘এই লড়াই জিততে হবে। আমাদের ধক রাখতে হবে…’ তৃণমূল স্তরের তৃণমূল কর্মীদের উজ্জীবিত করতে এমনই মন্তব্য করলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। পাশাপাশি যে সকল সাংসদরা তৃণমূল ছেড়ে NCPI-তে যোগদান করেছেন তাঁদের বিশ্বাসঘাটক বলে কটাক্ষ করেছেন তিনি। একযোগে আক্রমণ করেছেন অভিনেত্রী তথা হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এ দিন নিশানায় ছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, মিতালী বাগ, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, স্বর্ণকমল সাহার পুত্র সন্দীপন সাহা এবং জাভেদ খানও। তৃণমূলের ক্ষমতা হাত থেকে ফস্কে যেতেই সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে কয়েকজন বিক্ষুব্ধ সাংসদ NCPI-তে যোগদান করেন। সেই তালিকায় নাম আছে রচনার। আজ হুগলিতে তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে সভা করতে গিয়ে কল্যাণের কটাক্ষ, “এই রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় বলছে, শুধু কি তৃণমূলের জন্য জিতেছি? আমি তো আমার জন্যও জিতেছি। বলি শুনুন, আপনার কোনও দাম নেই। অভিনেত্রী দিদি নম্বর ১ বলে লোকে দাঁড়িয়ে ভিড় করে দেখতে গিয়েছিল। ভগবানের কী খেলা। পাপ করলে পাপের ফল দিতে হবে। দিদি নম্বর ওয়ান থেকে দু’দিনের মধ্যে তাড়িয়ে দিয়েছে। আবার তখন বলছে ওরা ভদ্রতা জানে না। আরে তুমি কোন ভদ্রতা জানো হে? তুমি বিশ্বাসঘাতক।”
এখানে যেটা না বললেই নয়, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম সাংসদ হয়ে যে সময় হুগলিতে আসেন, কয়েকদিনের মধ্যে তৎকালীন চুঁচুড়ার বিধায়ক অসিত মজুমদারের সঙ্গে তাঁর ঝামেলা বাধে। বিভিন্ন ইস্যুতে দু’জনই একে অপরের বিরুদ্ধে কটাক্ষ করেছিলেন। তাঁদের সেই ঝামেলায় বারেবারে হস্তক্ষেপ করেছেন কল্যাণ। অসিত-রচনার দ্বন্দ্ব মিটিয়েছেন। হাতে হাত মিলিয়ে কাজের বার্তা দিয়েছেন। কখনও আবার অসিতকে আলাদাভাবে বুঝিয়েছেন মিলেমিশে কাজ করার। এরপর ভোটের পর কী হল তা সকলের জানা। আজ দেখা গেল কল্যাণের পাশের চেয়ারে বসে দলের পুরনো কর্মী অসিত। কিন্তু সাংসদের পাশে নেই কল্যাণ।
এ দিন শ্রীরামপুরের সাংসদ আরও বলেন, “বড় বড় বাইট দিচ্ছে। আরে এলাকার উন্নয়ন তুমি কী করবে ভাই? তুমি তো এলাকাতেই আস না। যে এলাকাতেই ছিল না দু’বছর…। যাঁর হুগলি সংসদীয় ক্ষেত্রের ভৌগলিক জ্ঞান নেই। জানেই না হয়ত সাতটা বিধানসভার নাম বলতে পারবে না। এখন শুধু আরবানার ফ্ল্যাট, বিমানবন্দর-দিল্লি-পার্টি এর বাইরে কিছু নেই। এখন ও ডাকলে পাঁচটা লোক যাবে না। পেপারওয়ালা আর দুধওয়ালা ছাড়া কেউ যাবে না ওঁর বাড়ি।”
”
