New Flat Price: এখনই সব বুকড! ৩ বছরেই কলকাতায় ৪০ লাখের ফ্ল্যাট ৫২ লাখে, কেন বাড়ছে এত দাম?
New Flat Price: গৃহঋণ সংস্থাগুলির সংগঠন ও ন্যাশনাল হাউজিং ফিনান্সেরও দাবি, আগামী দু- বছরে দেশের ছোট- বড় শহরে ফ্ল্যাট - বাড়ির দাম বাড়বে। কতটা বাড়বে? তারা বলছে, গড়ে বছরে ৮ শতাংশ শতাংশ দাম বাড়ার সম্ভাবনা।

কলকাতা: আপনি কী মধ্যবিত্ত? চাকরি বা ব্যবসা করেন? ফ্ল্যাট বা বাড়ি কেনার কথা ভাবছেন? যদি সেরকম কোনও প্ল্যান থাকে, তা হলে কয়েকটা বিষয় মাথায় রাখা দরকার। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্সের দাবি, আগামী তিন-চার বছরে ভারতের অধিকাংশ শহরে ফ্ল্যাট ও বাড়ির দাম অনেকটা বাড়বে। কার্যত ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা। ফ্ল্যাট ও বাড়ির দাম কতটা বাড়তে পারে, সেটা নিয়ে দেশজোড়া একটা সমীক্ষা করেছিল রয়টার্স। সেখানে এই সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। সমীক্ষায় দাবি, ২০২৫ সালে ভারতে জমি – বাড়ির দাম গড়ে সাড়ে ৬ শতাংশ বাড়বে। ২০২৬ সালে ৭ শতাংশ ও ২০২৭ সালে সর্বোচ্চ সাড়ে ৭ শতাংশ দাম বাড়ার সম্ভাবনা।
কতটা বাড়তে পারে দাম?
ধরুন মিঃ এক্স ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দাঁড়িয়ে ভাবছেন, তিনি ২০২৭ সালে একটা ফ্ল্যাট কিনবেন বা বুক করবেন। ফ্ল্যাটের দাম ৪০ লক্ষ টাকা। তিনি যদি ফ্ল্যাটটা এখনই ফিক্সড প্রাইসে বুক না করেন, তা হলে ২০২৭ সালে কিন্তু দামটা অনেকটা বেড়ে যাবে। তখন হয়ত মিঃ এক্সকে ৫২ লক্ষ টাকা দিয়ে ফ্ল্যাট কিনতে বা বুক করতে হবে। এর থেকে বেশি দাম গুণতে হলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই।
গৃহঋণ সংস্থাগুলির সংগঠন ও ন্যাশনাল হাউজিং ফিনান্সেরও দাবি, আগামী দু- বছরে দেশের ছোট- বড় শহরে ফ্ল্যাট – বাড়ির দাম বাড়বে। কতটা বাড়বে? তারা বলছে, গড়ে বছরে ৮ শতাংশ শতাংশ দাম বাড়ার সম্ভাবনা। আর নির্মাণকারী সংগঠনগুলি বলছে, বছরে অন্তত ১০ শতাংশ করে দাম বাড়বে। অর্থাত্ এখন যে ফ্ল্যাটের দাম ৪০ লাখ, কয়েকদিন পর সেটাই হবে ৪৪ লাখ। শুধু নির্মীয়মান ফ্ল্যাট নয়, তৈরি হয়ে যাওয়া ফ্ল্যাট কিনতেও বাড়িতে দাম দিতে হবে। লোকসভা ভোটের পরও কলকাতার ও শহরতলির আশেপাশে ফ্ল্যাটের দাম অনেকটা বেড়ে গিয়েছিল। তা নিয়েও চাপানউতোর বেড়েছিল। কিন্তু, ফ্ল্যাট – বাড়ির দাম রাতারাতি কীভাবে বেড়ে যাচ্ছে? কেউই তখন স্পষ্ট কোনও উত্তর দিতে পারেননি।
বছরের শেষে উত্তরটা ধীরে ধীরে পরিষ্কার হচ্ছে। কী সেটা? এককথায় বলতে গেলে, উচ্চবিত্ত বা প্রিমিয়াম ক্যাটেগরির গ্রাহকদের কেনাকাটা। তথ্য বলছে, গত দু-বছরে প্রিমিয়াম ক্যাটেগরির গ্রাহকরা একের পর এক দামি ফ্ল্যাট – বাড়ি কিনছেন। দেশের ছোট – বড় অধিকাংশ শহরে ৯০ শতাংশ প্রিমিয়াম হাউসিং ফুললি বুকড। এমনকি ৫০ কোটি টাকা দামের হাই- প্রিমিয়াম ফ্ল্যাটও খালি পড়ে নেই। কলকাতায় এই মহূর্তে একাধিক প্রিমিয়াম হাউজিংয়ের কাজ চলছে। ২০২৭ বা ২০২৮ সালে সেগুলো রেডি হওয়ার কথা। কিন্তু এখনই এর অধিকাংশ বুকড হয়ে গিয়েছে। যাঁর টাকাপয়সা আছে, তিনি একের জায়গায় দু-তিনটি ফ্ল্যাট কিনে রাখছেন। আর ঠিক এই কারণেই এমআইজি ও এলআইজি ফ্ল্যাটের দাম নাগালের বাইরে যাওয়ার উপক্রম।
প্রিমিয়াম ফ্ল্যাটের চাহিদা বাড়লে মধ্যবিত্তদের ফ্ল্যাটের দাম বাড়বে কেন?
শহরের এক আবাসন সংস্থার কর্তা বিষয়টা বুঝিয়ে বললেন। প্রিমিয়াম ফ্ল্যাটের দাম বাড়লে নির্মাণ সংস্থাগুলি ওখানেই টাকা ঢালে। অ্যাফোর্ডেবেল হাউজিং-র সংখ্যা কমে। ডিমান্ড বেড়ে যায়। এই সুযোগে ফ্ল্যাটের দাম অনেকটা বাড়িয়ে দেয় প্রোমোটাররা। ফ্ল্যাট কিনতে গিয়ে অনেকেই আর কিনে উঠতে পারেন না। তখন ফ্ল্যাট রেন্টে নেওয়া ছাড়া উপায় থাকে না। আবাসন সংস্থার কর্তা বললেন, বিশেষত যারা নতুন বিয়ে করেছেন বা করার কথা ভাবছেন, তাদের কাছে এটা একটা জ্বলন্ত সমস্যা। তবে আমার মনে হয়, শুধু তাঁরা নয়, যারাই ফ্ল্যাট – বাড়ি কেনার কথা ভাবছেন, তারাই ভুক্তভোগী। শহরের আরেক আবাসন সংস্থার কর্তা আবার নতুন একটা ইনপুট দিলেন। তাঁর বক্তব্য, গোটা দেশেই আবাসন ক্ষেত্রটা হাওয়ায় ফুলেফেঁপে উঠেছে। সেদিন প্রিমিয়াম ক্রেতারা ফ্ল্যাট কেনা বন্ধ করবেন, সেদিন আবাসনের উপর বিরাট ধাক্কা আসবে। এক ধাক্কায় ফ্ল্যাটের দাম অনেকটা পড়ে যাবে।
