
কলকাতা: ভোট পরবর্তী হিংসা মামলার বিচার কী করে পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ থেকে ডিভিশন বেঞ্চে চলে গেল, তাই নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠল প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে। প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের বেঞ্চে এই সংক্রান্ত ১৪ টি মামল আজ ওঠে শুনানির জন্য। তার মধ্যে হিংসায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের আবেদনের মামলাও ছিল। সেই মামলায় মামলাকারি তথা আইনজীবী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল শুনানির আবেদন করলে প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, “যে মামলা পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চে শুনানি চলেছে, রায় হয়েছে, সেই মামলা কী করে নতুন নির্দেশ ছাড়া ডিভিশন বেঞ্চে ফিরে যায়?”
আইনজীবীরা এই ব্যাপারে কোনও স্পষ্ট জবাব দিতে না পারায় ডিভিশন বেঞ্চ রেজিস্ট্রিকে আগামী দিনে এই ব্যাপারে কোর্টকে দিশা দেওয়ার জন্য আহ্বান করেন। একইসঙ্গে সব পক্ষের আইনজীবীদের এতদিনের এই মামলার দেওয়া যাবতীয় রায় পরে আদালতকে পরামর্শ দিতে বলা হয়েছে। তার জন্য আগামী সপ্তাহে মামলার পরবর্তী শুনানি।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের বিধানসভা ভোট পরবর্তী হিংসার মামলা শোনার জন্য তৎকালীন প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দাল পাঁচ বিচারপতির বৃহত্তর বেঞ্চ গঠন করেন। সেই মামলায় সিবিআই তদন্ত, ক্ষতিপূরণ-সহ গুচ্ছ অর্ডার হয়। ২০২৩ সালে হঠাৎ সেই মামলা তৎকালীন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চে বিচার চলতে থাকে।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর অনেক জায়গায় রাজনৈতিক সংঘর্ষ, বাড়িঘর ভাঙচুর, খুন, ধর্ষণ, লুঠপাট, ভয় দেখিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করার মতো অভিযোগ ওঠে। শাসক দলের কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে মূলত অভিযোগ ওঠে বিরোধী দলগুলির কর্মী ও সমর্থকদের ওপর হামলা চালানোর।
কলকাতা হাই কোর্টে একাধিক মামলা দায়ের হয়। পরে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। আদালত বলে, অভিযোগগুলির নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। অনেক মামলায় CBI তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। কোথাও বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়। খুন ও ধর্ষণের মতো গুরুতর মামলাগুলিতে কেন্দ্রীয় তদন্ত বিশেষ গুরুত্ব পায়।
মামলাটি কলকাতা হাইকোর্টের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চে ছিল। তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দল, বিচারপতি হরিশ টন্ডন, বিচারপতি ইন্দ্রপ্রসন্ন মুখোপাধ্যায়, বিচারপতি সৌমেন সেন, বিচারপতি সুব্রত তালুকদারের এজলাসে ছিল। তবে এই বিচারপতিরা এখন কেউই আর হাইকোর্টে নেই।