West Bengal SIR: অপেক্ষায় ৩৪ লক্ষ, সুপ্রিম-নির্দেশের পরও ভোট ক’জন দিতে পারবে? সংখ্যার হিসেব কী বলছে
SIR Tribunal: পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর প্রথম প্রকাশ হওয়া চূড়ান্ত তালিকায় প্রায় ৬৩ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়ে। এরপর ৬০ লক্ষের কিছু বেশি নাম ছিল বিচারাধীন তালিকায়। মূলত লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি বা তথ্যগত অসঙ্গতির কারণে এই ৬০ লক্ষ নাম সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়েছিল। পরে সব সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট বেরনোর পর আরও ২৭ লক্ষ নাম বাদ পড়ে।

নয়া দিল্লি: আর্টিকল ১৪২ প্রয়োগ করে এসআইআর মামলায় কমপ্লিট জাস্টিস বা সম্পূর্ণ ন্যায়বিচার দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের সিদ্ধান্তে খুশি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটাধিকার নিয়ে যে গেল গেল রব উঠেছিল, তা থেকে কিছুটা স্বস্তি। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ বলছে, প্রতি দফা ভোটের দু দিন আগে নামের নিষ্পত্তি হলেই সেই ভোটার ভোট দিতে পারবেন। কিন্তু প্রশ্ন হল, ২৩ ও ২৯ এপ্রিলের ভোটের আগে ঠিক কতজন সেই সুযোগ পাবেন?
কত আবেদন জমা পড়েছে?
পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর প্রথম প্রকাশ হওয়া চূড়ান্ত তালিকায় প্রায় ৬৩ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়ে। এরপর ৬০ লক্ষের কিছু বেশি নাম ছিল বিচারাধীন তালিকায়। মূলত লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি বা তথ্যগত অসঙ্গতির কারণে এই ৬০ লক্ষ নাম সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়েছিল। পরে সব সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট বেরনোর পর আরও ২৭ লক্ষ নাম বাদ পড়ে। অর্থাৎ সব মিলিয়ে বাদ পড়া নামের সংখ্যা ৯০ লক্ষের বেশি।
তবে ২৭ লক্ষ বিচারাধীন নাম বাদ পড়লেও সুপ্রিম কোর্ট বলছে, ৩৪ লক্ষ ভোটার আবেদন করেছেন ট্রাইব্যুনালে। অর্থাৎ শুধুমাত্র ওই ২৭ লক্ষই নয়, বাদ পড়া আরও অনেক ভোটার আবেদন করেছেন। আদালতে প্রশ্ন ছিল, বাদ পড়া ভোটারদের নাম ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি হয়ে গেলেও কি তাঁরা ভোট দিতে পারবেন না?
কী আছে সুপ্রিম নির্দেশে?
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ বলছে, ভোটের দুদিন আগেও নাম তোলা যাবে। অর্থাৎ ভোটার তালিকা ফ্রিজ হয়ে যাওয়ার যে নিয়ম রয়েছে, আর্টিকল ১৪২ প্রয়োগ করে সেই নিয়মের উর্ধ্বে নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, ২১ এপ্রিলের মধ্যে নাম নিষ্পত্তি হলেই ২৩ এপ্রিল ভোট দেওয়া যাবে। আবার ২৭ এপ্রিলের মধ্যে নাম নিষ্পত্তি হলে, ভোট দেওয়া যাবে ২৯ এপ্রিল।
কতজনের নিষ্পত্তি সম্ভব?
তথ্য বলছে, রাজ্যে মোট ১৯টি ট্রাইব্যুনাল কাজ করছে। ট্রাইব্যুনালগুলির মাথায় রয়েছেন ১৯ জন প্রাক্তন বিচারপতি। প্রতিদিন ১০টি করে আবেদন যাচাই করে পোর্টালে তুলছে প্রত্যেকটি ট্রাইব্যুনাল। ১০টি নাম নিষ্পত্তি হলে, আরও ১০টি আবেদন জমা পড়ছে। যদি ধরেও নেওয়া হয় যে প্রতিদিন প্রত্যেক ট্রাইব্যুনাল ১০টি করে আবেদনের নিষ্পত্তি করছে, তাহলে একদিনে সংখ্যাটা হয় ১৯০।
১৩ এপ্রিল থেকে কাজ শুরু করেছে ট্রাইব্যুনাল। প্রথম দফার ক্ষেত্রে সময় আছে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত। এই ৯ দিনের মধ্য তিনদিন ছুটি। ছুটির দিন কোথাও কাজ হয়েছে, কোথাও হয়নি। ৯ দিনের প্রতিদিন ১৯০টি করে নিষ্পত্তি হলেও সংখ্যাটা হয় ১,৭১০। অর্থাৎ কোনও অবস্থাতেই প্রথম দফার আগে দু হাজারের বেশি নামের নিষ্পত্তি হওয়া সম্ভব নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাই ভোট কতজন দিতে পারবেন, সেই সংশয় রয়েই যাচ্ছে।
