Uttarbanga Express: ‘ট্রেনের ভিতর একটা ডাক্তার নেই, শিয়ালদহর জায়গায় অন্য স্টেশনে হত আমি তো মরে যেতে পারতাম…’
Uttarbanga Express: বিমলেন্দুবাবুর অভিযোগ দূরপাল্লার ট্রেনে রেলের অব্যবস্থা নিয়ে। রেলের নজরদারির অভাবে সিট খুলে পড়ার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ তাঁর। একইসঙ্গে গোটা ট্রেন জুড়ে একজনও চিকিৎসক না থাকা ও প্রাথমিক চিকিৎসার কোনও ব্যবস্থা না থাকা নিয়েও মুখ খুলেছেন তিনি।

কলকাতা: শিয়ালদহগামী উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেসের মিডল বার্থ খুলে মাথায় পড়ে আঘাত পান এক যাত্রী। তারপর থেকেই কার্যত রেলের উপর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন যাত্রীরা। তাঁদের অভিযোগ, দূরপাল্লার ট্রেনে নেই কোনও ডাক্তার। এমনকী প্রাথমিক চিকিৎসার নূন্যতম ব্যবস্থা পর্যন্ত নেই। তারই মাশুল গুনতে হচ্ছে আজ যাত্রীদের।
রবিবার সকালে উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেস উল্টোডাঙ্গা স্টেশন ছেড়ে শিয়ালদহর দিকে ঢুকছে। অভিযোগ, সে সময় আচমকাই বি থ্রি (B3) কোচের ৪১ নম্বর সিটের উপর থাকা মিডলবার্থ নিজে থেকেই খুলে পড়ে এক যাত্রীর মাথায়। সেই সময় লোয়ার বার্থে বসেছিলেন যাত্রী বিমলেন্দু রায়। সেই সময় মাথায় এসে পড়ে সিট। কপালের ডানদিকে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। তাঁর প্রচুর রক্তক্ষরণ হতে থাকে। ট্রেনের ভিতরেই শুরু হইহট্টগোল।
ইতিমধ্যেই খবর যায় টিটির কাছে। কিন্তু টিটি এলেও কোনও লাভ হয়নি আহত যাত্রীর। কারণ গোটা ট্রেনে কোনও ফার্স্ট এইডের ব্যবস্থা ছিল না বলে অভিযোগ বিমলেন্দুর। ছিল না একজন চিকিৎসকও। ওই অবস্থায় শিয়ালদহ স্টেশন এসে পৌঁছানোর পরে সেখানেও কোনও চিকিৎসক পাননি তিনি। শেষমেষ রেল কর্তৃপক্ষ তাঁকে অ্যাম্বুলেন্সে করে এনআরএস হাসপাতালে পাঠায় চিকিৎসার জন্য। সেখানে ইনজেকশন দেওয়া হলেও মাথায় এত গুরুতর জোটের পরও স্ক্যান করানো হয়নি। গোটা ঘটনা জানিয়ে রেলের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই যাত্রী।
বিমলেন্দুবাবুর অভিযোগ দূরপাল্লার ট্রেনে রেলের অব্যবস্থা নিয়ে। রেলের নজরদারির অভাবে সিট খুলে পড়ার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ তাঁর। একইসঙ্গে গোটা ট্রেন জুড়ে একজনও চিকিৎসক না থাকা ও প্রাথমিক চিকিৎসার কোনও ব্যবস্থা না থাকা নিয়েও মুখ খুলেছেন তিনি। ওই ব্যক্তি বলেন, “শিয়ালদহ ঢোকার মুখে এই ঘটনা ঘটেছে। টিটির সাহায্যে আমি এনআরএস হাসপাতালে যাই। সেখানেই প্রাথমিক চিকিৎসা হয়। যেই সময় ঘটনা ঘটে তখন রেলের ভিতরে কোনও ডাক্তার নেই। আমি টিটিকে বলি একজন ডাক্তার থাকলে অন্তত এতটা রক্ত বেরত না। এটা শিয়ালদহে হয়েছে বলে রক্ষা পেয়েছি, যদি অন্য কোনও স্টেশনে হত মরে যেতে পারতাম। এটা তো রেলের দায়। আমার জায়গায় একটা ছোট বাচ্চাও থাকতে পারত। মৃত্যু হতে পারত।” যদিও, এই ঘটনার দায় রেল এড়িয়েছে। তাদের দাবি, মিডল বার্থের চেন ঠিকমতো লাগানো না থাকার জন্যই এই বিপত্তি হয়েছে।
