
কলকাতা ও নয়াদিল্লি: আত্মনির্ভরতায় জোর। একইসঙ্গে দেশের সামরিক শক্তিকে আরও শক্তিশালী করার প্রয়াস। এবার আরও একটি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করতে চলেছে ভারত। বঙ্গোপসাগরের একটি নির্দিষ্ট এলাকায় সম্ভাব্য ওই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার জন্য ভারত নোটিস টু এয়ারমেন (NOTAM) জারি করল। ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি এই NOTAM জারি থাকবে। ওই সময়ে সংশ্লিষ্ট আকাশসীমায় বেসামরিক বিমান চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। সেইসময় দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করা হবে বলে জানা গিয়েছে।
ভারত যে NOTAM জারি করেছে, তার দৈর্ঘ্য প্রায় ২,৫৩০ কিলোমিটার। ফলে মনে করা হচ্ছে, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করা হবে। যে অঞ্চলে NOTAM জারি হয়েছে, তা দেখে জল্পনা বেড়েছে যে, ভারত সম্ভবত একটি সমুদ্র-ভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাতে পারে। দূরপাল্লার স্ট্র্যাটেজিক কিংবা হাইপারসনিক শ্রেণির ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা হতে পারে। তবে কোন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা বা কোন প্ল্যাটফর্ম থেকে এই উৎক্ষেপণ হবে, তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি ঘোষণা করা হয়নি। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রের উপর বড় আকারের এই ধরনের পরীক্ষার আগে NOTAM জারি করা একটি রুটিন প্রক্রিয়া। এর উদ্দেশ্য মূলত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সামরিক এই পরীক্ষার সময় বেসামরিক বিমান চলাচলকে ওই নির্দিষ্ট এলাকা থেকে দূরে রাখা। উল্লেখযোগ্যভাবে, গত ডিসেম্বর মাসেও বঙ্গোপসাগরের উপর প্রায় ৩,২৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকাজুড়ে একই ধরনের NOTAM জারি করা হয়েছিল।
NOTAM কী?
NOTAM (Notice to Airmen) হল একটি বিজ্ঞপ্তি, যা জারি করা হয় যখন কোনও নির্দিষ্ট আকাশসীমা সাময়িকভাবে বেসামরিক বিমান চলাচলের জন্য বন্ধ রাখতে হয়। অতীতে পাকিস্তানের সঙ্গে উত্তেজনার সময়েও এ ধরনের নোটিস জারি করা হয়েছিল, যাতে কোনও যাত্রীবাহী বিমান সামরিক কার্যকলাপের মধ্যে পড়ে না যায়। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়।
কেন NOTAM জারি করা হয়?
NOTAM জারি হওয়ার পর নির্দিষ্ট আকাশসীমায় কোনও বেসামরিক বিমান প্রবেশ করতে পারে না। ফলে বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র কিংবা ড্রোন নির্বিঘ্নে অভিযান চালাতে পারে। আবার সামরিক পরীক্ষার সময় কোনওভাবেই সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা যাতে বিঘ্নিত না হয়, তা নিশ্চিত করা হয়।