ASHA Workers protest: কলকাতার বুকে ৮০ হাজার মহিলাদের নামিয়ে দেওয়ার পিছনে ভোটের প্ল্যান?

ASHA Workers: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের সাফ কথা, “রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য আপনারা হয়তো তাঁদের কিছু চাঁদাও দেন বলে শুনেছি।” তবে সেসব তোয়াক্কা না করেই রাস্তায় নামলেন ৮০ হাজারেরও বেশি স্বাস্থ্য কর্মী। আশা কর্মীদের ইউনিয়নের তরফে অন্তত তেমনটাই দাবি করা হল।

ASHA Workers protest: কলকাতার বুকে ৮০ হাজার মহিলাদের নামিয়ে দেওয়ার পিছনে ভোটের প্ল্যান?
কী বলছেন AIUTUC-র রাজ্য সম্পাদক অশোক দাস? Image Credit source: TV 9 Bangla GFX

Jan 21, 2026 | 7:01 PM

কলকাতা: ভোটের মুখে আশা কর্মীদের আন্দোলনে দিনভর তপ্তই হয়ে রইল কলকাতা। ভাতা বৃদ্ধি, বকেয়া মেটানো সহ একগুচ্ছ দাবিতে অনড় আন্দোলনেই রইলেন আশা কর্মীরা। যদিও আগেই সতর্ক করতে দেখা গিয়েছিল রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে। তাঁর সাফ কথা, “রাজনৈতিকভাবে আপনাদের ব্যবহার করতে চাইছে, সেই ফাঁদে পা দেবেন না। রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য আপনারা হয়তো তাঁদের কিছু চাঁদাও দেন বলে শুনেছি।” তবে সেসব তোয়াক্কা না করেই রাস্তায় নামলেন ৮০ হাজারেরও বেশি স্বাস্থ্য কর্মী। আশা কর্মীদের ইউনিয়নের তরফে অন্তত তেমনটাই দাবি করা হল। কিন্তু কী করে সম্ভব হল এত বড় আয়োজন? কারা থাকলেন নেপথ্যে?  

নেপথ্যে কারা?

এদিন শুরু থেকেই SUCI এর শ্রমিক সংগঠন AIUTUC-র পোস্টার দেখা গেল আশা কর্মীদের মধ্যে।  সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক অশোক দাস যদিও সাফ বলছেন “রাজনীতির ফাঁদে পা দেওয়ার প্রশ্ন নেই। কিন্তু তৃণমূল সরকার তো রাজনীতি মানে ভোট বোঝে। কিন্তু সমাজের যাতে ভাল হবে, তার জন্য যেটা করা দরকার সেটার নাম রাজনীতি।” এরপরই সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে তিনি বলেন, “স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে দিয়ে সরকার বলাচ্ছে আমরা রাজনীতি করছি। কিন্তু গোটা বাংলার সমস্ত আশা কর্মীরা এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। তাঁরা বিভিন্ন দলের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন, বিভিন্ন মতের মানুষ তাঁরা। কিন্তু কিছু দাবিতে তাঁরা একজোট হয়েছেন।”  

সামনে ভোট, অঙ্ক বদলাচ্ছে? 

এদিকে ২০১১ সালের পরিবর্তনের বছরে তৃণমূলের সঙ্গে জোট করেই ভোটে লড়েছিল এসইউসিআই। জমি আন্দোলনের সময়েও লাগাতার আওয়াজ তুলেছিল বামেদের বিরুদ্ধে। কিন্তু এখন হঠাৎ তৃণমূল বিরোধিতা? অশোক বাবু যদিও বলছেন, “সাংগঠনিক যে পদক্ষেপ শ্রমিক শ্রেণির পক্ষে যায় আমরা সেদিকেই যাব। গরিবরা যাঁকে বিশ্বাস করে আমরা তার সঙ্গে যাব। আমরা সমস্ত সময়ই অন্যায়ের বিরুদ্ধে থাকি। সে তৃণমূল, বিজেপি, কংগ্রেস কোনও বিষয় নয়। আমরা সব সময়ই শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থে ন্যায় সঙ্গত লড়াইয়ের পক্ষে দাঁড়াই।” 

এখানেই শেষ নয়, AIUTUC-র রাজনৈতিক উত্থান, ভাবনা, আদর্শের কথা বলতে গিয়েও বারবার শ্রমজীবী মানুষের পক্ষেই সওয়াল করলেন সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক। ইতিহাসের অবতারণা করে অশোক দাস বলেন, “আমাদের প্রাক্তন সভাপতির দাবি ছিল, আমাদের দাবি যখন এক, সমস্যা যখন এক, যাঁর বিরুদ্ধে লড়ছি সেটাও যখন এক তাহলে এত ভাগ হওয়ার দরকার কী? আশা কর্মীরা কে কোন দল করে আমরা জানি না, কে কোন সংগঠন করে আমরা জানি না। কিন্তু এদের দাবিগুলিকে সামনে রেখে আমরা এদের সংঘবদ্ধ করি। একসঙ্গে লড়াই করি।” তাঁর সাফ কথা, “আমরা ভোটের কথা ভাবি না। AIUTUC- সর্বদা শ্রমিক শ্রেণির মুক্তির স্বপ্ন দেখে। শ্রমিক শ্রেণির মুক্তি কখনও ভোটের মধ্যে দিয়ে আসে না। ১৯৫২ সাল থেকে ভারতে ভোট ব্যবস্থা। বহু সরকার গিয়েছে, বহু সরকার এসেছে। কিন্তু বাস্তবে শ্রমজীবী মানুষের মুক্তির পথ খোলেনি। তাই ভোটের দ্বারা এই মুক্তি সম্ভব নয় বলে আমরা মনে করি। এই জন্য আমরা ভোট কেন্দ্রিক রাজনীতি করি না।”