
কলকাতা: কল্য়াণ বলেছিলেন, তিনি ‘নারীবিদ্বেষী নন’, তাঁর ঘৃণা কেবল একজনেরই প্রতি। সে কে? তা নিয়ে কারওর মনেই কোনও দ্বিধা নেই। কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। লুকোছাপা নয়, কল্য়াণ-মহুয়া বিরোধিতা একেবারে খোলা আকাশের মতো। যা সবাই দেখেছে। একই ভাবে মহুয়াও যে তোপ দেগেছেন তাতে কোনও সন্দেহ নেই। কসবা কলেজে ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় কল্য়াণ-মদনের মন্তব্যকে তুলে ধরে সাংসদ বলেছিলেন, তাঁরা ‘নারীবিদ্বেষী’।
এই দ্বৈরথ কখনও দেখা গিয়েছে সমাজমাধ্য়মে। কখনও দেখা গিয়েছে মুখোমুখি। গতবছর অগস্ট মাসের কথা। রাজেন্দ্র প্রসাদ রোডে তৃণমূলের নতুন পার্টি অফিসের সামনে জড়ো হয় একের পর এক সাংসদদের গাড়ি। সেদিন ভার্চুয়াল বৈঠক করার কথা ছিল মুখ্যমন্ত্রীর। কার্যালয়ের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন কল্য়াণ বন্দ্য়োপাধ্যায়। এই সময় কার্যালয়ের গেটে ঢুকল একটি গাড়ি। নামলেন মহুয়া মৈত্র। আর এদিকে কল্যাণ বলে উঠলেন, “কার মুখ দেখলাম, আজ দিনটাই গেল…।” নেই কোনও রাখঢাক, সবটাই একেবারে সোজাসাপ্টা।
তবে এখন হয়তো পরিস্থিতি বদলেছে। রবিবার তৃণমূল সাংসদ সাগরিকা ঘোষের মেয়ের বিয়ের ছবি দেখে তো তেমনই বলছেন তৃণমূলেরই একাংশ। “মুখ দেখতে না-চাওয়া” কল্যাণের, ওই বিয়েবাড়িতে তোলা ৯০ ভাগ ছবিতে পাশে মহুয়া মৈত্র। তা হলে এখানে কি দ্বন্দ্বের ইতি? ছবিগুলি তো কিছুটা ওই দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। কখনও এক মুখ হাসি, কখনও হালকা মেজাজে খোশগল্প। কখনও যাওয়ার পথে একে অপরের দিকে ঘুরে তাকানো। কল্যাণ-মহুয়া রাজনৈতিক পর্বের এই অধ্যায় তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের কাছেও ‘অপরিচিত’।