
কলকাতা: খাগড়াগড় বিস্ফোরণ-কাণ্ডে তাঁকে ২৯ বছরের সাজা দিয়েছিল এনআইএ আদালত। জেএমবি জঙ্গি কওসরের বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছিল রাষ্ট্রদ্রোহিতা-সহ একাধিক মামলা। এবার সেই কওসরকেই কলকাতা পুলিশের এসটিএফ বা স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের দায়ের করা একটি মামলায় আট বছরের সাজা শোনাল বিচার ভবন।
বৃহস্পতিবার নাশকতা ও জঙ্গি কার্যকলাপের অভিযোগে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের দায়ের করা মামলাতেই সাজা শোনাল কলকাতার বিচার ভবন। কওসরকে মোট আট বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন বিচারক। এছাড়াও তাঁর বিরুদ্ধে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও ধার্য করেছে সংশ্লিষ্ট আদালত।
তাঁর চেহারা থেকে ঠাওর করা যায় না। চোখে নিষ্পৃহতা। কিন্তু কওসরের জঙ্গি ষড়যন্ত্রে র নানা দিকের কথা জেনে তদন্তকারীরাও বিস্মিত হয়ে যান। জেএমবি জঙ্গি নেতা জাহিদুল ইসলাম কওসর। কিন্তু সংগঠনে পরিচিতি বোমারু মিজান হিসাবে। ২০১৪ সালের খাগড়াগড় বিস্ফোরণকাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত ছিল এই কওসর। সেই মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণাও হয়েছে।
তবে শুধু খাগড়াগড় নয়, বুদ্ধগয়া বিস্ফোরণকাণ্ডেও নাম জড়িয়েছে কওসরের। ২০১৮ অগস্টে তাকে এই মামলায় গ্রেফতার করে এনআইএ। জেরায় কওসর জানিয়েছিলেন, বিস্ফোরণের পর দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন জায়গায় ঘোরে সে। কখনও কলের মিস্ত্রি, কখনও কারিগর সেজে ঘুরে বেরিয়েছিল কওসর। পশ্চিমবঙ্গ ও অসমকে কেন্দ্র করে জেহাদের প্রস্তুতি চালিয়েছিল এই জেএমবি জঙ্গি নেতা।
২০১৪ সালের ২ অক্টোবর বর্ধমানের খাগড়াগড়ে একটি বাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটে। দিনটা ছিল দুর্গাপুজোর অষ্টমী। বিস্ফোরণে মৃত্যু হয় ২ জনের। এরপরই তোলপাড় হয় রাজ্য়। তদন্তে নামে পুলিশ, আসে জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা। ঘটনাস্থল থেকে ৫৫টি ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস, আরডিএক্স, সিম কার্ড উদ্ধার করেন তদন্তকারীরা। পরবর্তীতে এই ঘটনায় মোট ৩১ জনকে গ্রেফতার করা হয়। ১৯ জন দোষ কবুল করে।