Bankra Mosque: ‘মানুষের ভালোর জন্য কিছু কিছু জায়গায় দেখতেই হবে’, বাঁকড়া মসজিদে নমাজ বন্ধ নিয়ে বললেন সংখ্যালঘুরাই
Kolkata Airport Bankra Mosque: বিমানবন্দরের অন্দরে মসজিদে নমাজ পড়া নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন, "সরকার কাউকে ধর্মপালনে কোনওরকম বাধা দিচ্ছে না। তবে জাতীয় সুরক্ষা ও বিমানবন্দরের নিরাপত্তা আগে দেখতে হবে।" সাধারণ সংখ্যালঘুদের অনেকেই এদিন সেটাই স্পষ্ট করে দিলেন।

কলকাতা: কলকাতা বিমানবন্দরের সেকেন্ডারি রানওয়ে সম্প্রসারণে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে বাঁকড়া মসজিদ। তাই এই মসজিদ সরাতে চায় রাজ্য সরকার। আপাতত এই মসজিদে নমাজ পড়া বন্ধ করা হয়েছে। আর শুক্রবার এর প্রতিবাদে মসজিদ চত্বরে প্রতিবাদের ডাক দিয়েছিলেন সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। পরে তিনি কর্মসূচি বাতিল করেন। সিদ্দিকুল্লা প্রতিবাদের ডাক দিলেও সাধারণ সংখ্যালঘু মানুষ বলছেন, “মানুষের ভালোর জন্য কিছু কিছু জায়গায় দেখতেই হয়।”
বাঁকড়া এলাকায় কোনও অশান্তির ঘটনা যাতে না ঘটে, তার জন্য এদিন সকাল থেকেই তৎপর ছিল পুলিশ। বাঁকড়া মোড় এলাকায় জারি করা হয় ১৬৩ ধারা। সকাল থেকেই বিশাল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়। বেলা প্রায় ১২টা নাগাদ বাঁকড়া মোড়ে পৌঁছন সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। সঙ্গে ছিলেন কয়েকজন সমর্থক। পুলিশের সঙ্গে তাঁরা কথা বলেন। কর্মসূচি অনুযায়ী তাঁরা নমাজ পাঠ করতে পারবেন কি না, সেই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেন পুলিশকে। তবে, পুলিশ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, জমায়েতের কোনওরকম অনুমতি নেওয়া হয়নি। সিদ্দিকুল্লা জানান, বাতিল হয়েছে তাঁদের কর্মসূচি। অন্য জায়গায় নমাজ পড়বেন তাঁরা।
সিদ্দিকুল্লা প্রতিবাদে নামার ডাক দিলেও সংখ্যালঘুদের অনেকেই বিমানবন্দরের ভেতর বাঁকড়া মসজিদে নমাজ বন্ধে খারাপ কিছু দেখছেন না। বাঁকড়া মসজিদে নমাজ বন্ধ নিয়ে এক সংখ্যালঘু ব্যক্তি বলেন, “বিভিন্ন জায়গা রয়েছে। ওখানে নমাজ পড়া হবে। অসুবিধার কিছু নেই। এবার চারিদিকে নমাজ পড়ব। পাশের মসজিদে যাঁরা নামাজ পড়তেন, তাঁরা সেখানে পড়বেন। বাকিরা বিভিন্ন জায়গায় পড়বেন।”
প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে আপনি কীভাবে দেখেন? এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “এই নিয়ে আমার কিছু বলার নেই। আইনগতভাবে যা হবে, তাই হবে। আমাদের কিছু বলার নেই। এটা সরকার, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং আদালত আইনগতভাবে যা সিদ্ধান্ত নেবে, সেটাই হবে।”
তাহলে কি সংখ্যালঘুদের আপত্তির কোনও কারণ নেই?
প্রশ্ন শুনে তিনি বলেন, “মানুষের ভালোর জন্য কিছু কিছু জায়গায় যা দেখতে হয়, সেটা দেখতেই হবে। তাছাড়া আমাদের সঙ্গে আলোচনা না করে বন্ধ করেছে তো, তাতে একটু আবেগে লেগেছে।” আলোচনা করে বন্ধ করা উচিত ছিল বলে তিনি মনে করেন।
অন্য আর এক সংখ্যালঘু ব্যক্তি বলেন, “আমরা জোর করে পড়ব না।” সার্ভিস রোডে নমাজ পড়তে চেয়ে পুলিশের কাছে আবেদন করেন তিনি। বলেন, “এই নিয়ে ২ জায়গায় চিঠি পাঠিয়েছি।” পুলিশ তখন জানতে চায়, সার্ভিস রোডে নমাজ পড়ার জন্য তাঁরা যে চিঠি পাঠিয়েছেন, তার জবাব পেয়েছেন? ওই ব্যক্তি জানান, তাঁরা কোনও জবাব পাননি। পুলিশ তখন তাঁদের মসজিদে গিয়ে নমাজ পড়ার অনুরোধ করেন। ওই ব্যক্তি ও অন্যরা পুলিশের অনুরোধ মেনে নেন।
প্রসঙ্গত, বিমানবন্দরের অন্দরে মসজিদে নমাজ পড়া নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন, “সরকার কাউকে ধর্মপালনে কোনওরকম বাধা দিচ্ছে না। তবে জাতীয় সুরক্ষা ও বিমানবন্দরের নিরাপত্তা আগে দেখতে হবে।” সাধারণ সংখ্যালঘুদের অনেকেই এদিন সেটাই স্পষ্ট করে দিলেন।
