
নয়াদিল্লি: রয়েছে প্রকল্প, রয়েছে ছাড়। কিন্তু তারপরেও বেসরকারি হাসপাতালে ঢুকে সাধারণ নাগরিককে চিন্তা করতে হয় পকেটে সিকি পয়সাও বেঁচে থাকবে তো? স্বাস্থ্যসাথী থাকলেও এই চিন্তা বরাবর। কারণ একটাই, রাজ্য়ের এই প্রকল্প প্রসঙ্গে বেসরকারি হাসপাতালগুলির অনীহা। যা আগেও দূরে সরিয়ে রাখা পরামর্শ দিয়েছিলেন মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। এবার সেই শহরের বেসরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্যসাথীর গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধিতেই বড় পদক্ষেপ কলকাতা পুরসভার।
স্বাস্থ্যসাথী বাধ্য়তামূলকভাবে নিলেই বেসরকারি হাসপাতালগুলি পাবে বিল্ডিং রুলে ছাড়, বাজেট প্রস্তাবে এমনই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল কলকাতা পুরসভা। প্রস্তাবিত বাজেট প্রস্তাব স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হল, এবার থেকে যে বেসরকারি হাসপাতাল বা সরকারি হাসপাতাল স্বাস্থ্যসাথী বাধ্যতামূলকভাবে গ্রহণ করবে, তাদের হাসপাতালের ভিতরে নির্মাণ, সম্প্রসারণ করার ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হবে। অর্থাৎ বিল্ডিং রুলে ফ্লোর এরিয়া বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ছাড় পাবে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
গোটা শহরজুড়ে ‘ব্য়াঙের ছাতার’ গজিয়ে উঠেছে বেসরকারি হাসপাতাল বা নার্সিংহোম। বেড়েছে সরকারি হাসপাতাল উপেক্ষা করে বেসরকারি হাসপাতালে যাওয়ার প্রবণতা। একটি রিপোর্টের মোতাবেক, এক দশকে শহরের বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে রোগীর সংখ্যা বেড়েছে ৩০ শতাংশ। এই পরিপ্রেক্ষিতে আগের তুলনায় বাড়াতে হয়েছে বেড ও হাসপাতালের চত্বরের পরিমাণও।
কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের আধিকারিকদের অনুমান, বিল্ডিং রুলের ক্ষেত্রে ছাড় পেলে বেসরকারি হাসপাতালগুলির ক্ষেত্রে অনেকটাই সুবিধা হবে। কিন্তু সুবিধা হবে সেবার মাধ্যমে। তাই শহরের বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে ছাড়ের বিনিময়ে স্বাস্থ্যসাথী বাধ্য়তামূলক করার প্রস্তাব দিল পুরসভা।
উল্লেখ্য, বেসরকারি হাসপাতাল-নার্সিংহোমগুলির স্বাস্থ্যসাথী প্রসঙ্গে অনীহা অসন্তুষ্ট করেছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। কয়েক বছর আগেই একটি প্রশাসনিক সভা থেকে রাজ্য়ের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে সাফ নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। জানিয়ে দিয়েছিলেন, স্বাস্থ্যসাথী কার্ড গ্রহণ না করলে, তাদের লাইসেন্স বাতিল করতেও দ্বিধাবোধ করবে না রাজ্য সরকার।