
কলকাতা: প্রতীক জৈনের বাড়ি ও আইপ্যাক (IPAC)-এর অফিসে ইডি-র তল্লাশি ঘিরে রাজনৈতিক তরজা এখনও তুঙ্গে। এনফোর্সমন্ট ডিরেক্টরেটের সঙ্গে তৃণমূলের লড়াই পৌঁছে গিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। একদিকে যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই তদন্তকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে পথে নেমেছেন, তখনই তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বড় প্রশ্ন তুলে দিলেন। একটি চ্যাটের স্ক্রিনশট শেয়ার করে কুণাল ঘোষের দাবি, ইডি-র তল্লাশির সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক যোগ নেই তো?
সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি কথোপকথনের স্ক্রিনশট পোস্ট করেছেন কুণাল ঘোষ। সেখানে ‘দাদা’ সম্বোধন করে কেউ কাউকে জানাচ্ছেন যে, ‘১৩ জন ইডি অফিসার কলকাতা যাচ্ছেন। গুলশন রাই নামে এক সাইবার এক্সপার্টও যাচ্ছেন। সিজিও কমপ্লেক্সে একটি জরুরি বৈঠক আছে।’ শেষে লেখা, ‘এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সচিব সকেত কুমারের সঙ্গে কথা হয়েছে।’ এই তথ্য কে কাকে দিচ্ছে, তা ওই ছবি থেকে পরিষ্কার নয়। তবে কুণালের সন্দেহ ওই দাদা শব্দটাকে কেন্দ্র করেই।
পোস্টে কুণাল লিখেছেন, “আইপ্যাক অফিসে তল্লাশির নামে বৃহত্তর চিত্রনাট্যের নেপথ্যকাহিনী? সূত্র মারফৎ পাওয়া দুই ব্যক্তির মধ্যে কথোপকথনের এই মেসেজ সত্য হলে চক্রান্তের পুরোপুরি তদন্ত দরকার।” ইডি-র তল্লাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছিল কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। কুণাল ঘোষ বলেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অফিস থেকে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে না তো? দাদা বলে সম্বোধন করে কাকে সেটা জানানো হচ্ছে। কোনও অফিসারকে নিশ্চয় দাদা বলা হয় না, সাধারণত কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তির ক্ষেত্রেই দাদা শব্দটা প্রয়োগ করা হয়ে থাকে।”
পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন বলে জানান কুণাল ঘোষ। সরকারি কাজ কোন দাদাকে জানানো হল, এটাই মূল প্রশ্ন তাঁর। বিজেপি এই বিষয়ে কোনও মতামত দিতে নারাজ। বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, “এটা তো বলতে পারব না। যে চ্যাট করেছে সে বলে পারবে। আর কুণাল ঘোষ দলের কথায় কাজ করেন, কোনও প্রতিক্রিয়া দেওয়া হবে না।”