TMC: গুজরাটিদের নিয়ে মহুয়ার মন্তব্যে বিতর্ক, ক্ষমা চাইলেন স্বয়ং মমতা

Mahua Moitra comments on Gujrati: মহুয়া মৈত্র বলেছিলেন, "ইংরেজদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার লড়াইয়ে বাঙালিরা নেতৃত্ব দিয়েছেন। গুজরাটি কজন ছিলেন? আপনি যখন কালাপানিতে যাবেন, কাদের নাম দেখতে পাবেন? কালাপানিতে যাঁদের কারারুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল, তাঁদের ৬৮ শতাংশ বাঙালি। এরপর রয়েছেন পঞ্জাবিরা।"

TMC: গুজরাটিদের নিয়ে মহুয়ার মন্তব্যে বিতর্ক, ক্ষমা চাইলেন স্বয়ং মমতা
গুজরাটিদের নিয়ে মহুয়া মৈত্রের মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়Image Credit source: TV9 Bangla

| Edited By: সঞ্জয় পাইকার

Apr 01, 2026 | 9:45 AM

কলকাতা: ভোটের বাংলায় গুজরাটিদের নিয়ে দলের সাংসদ মহুয়া মৈত্রের মন্তব্যে অস্বস্তিতে তৃণমূল কংগ্রেস। গুজরাটি সম্প্রদায়কে নিয়ে মহুয়ার বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে ভবানীপুরে গুজরাটি সম্প্রদায়ের মানুষ রীতিমতো ক্ষিপ্ত। তারই জেরে এবার ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর অসীম বসু সোশ্যাল মিডিয়ায় দলের সাংসদের মন্তব্যের নিন্দা করলেন। দল এই ধরনের মন্তব্য অনুমোদন করে না বলে জানালেন। একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি বার্তাও পড়ে শোনালেন তিনি। যেখানে মহুয়ার মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন স্বয়ং মমতা।

সোশ্যাল মিডিয়ায় দলের সাংসদের মন্তব্যের নিন্দা করে গুজরাটিদের বার্তা দেন তৃণমূল কাউন্সিলর অসীম বসু। কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া দলের অনুমোদন না নিয়েই ওই মন্তব্য করেছিলেন বলে জানান। সাংসদের মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইলেন। তাঁর বার্তা যাতে গুজরাটি সম্প্রদায়ের মানুষের মনের মধ্যে পৌঁছতে পারে, তাই হিন্দি এবং ইংরেজির পাশাপাশি গুজরাটি ভাষায় সাংসদের বক্তব্যকে নিন্দা জানালেন তিনি।

একইসঙ্গে তৃণমূল কাউন্সিলর বলেন, গুজরাটি ভাই-বোনেদের কাছে ক্ষমা চেয়ে স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি বার্তা পাঠিয়েছেন। সেই বার্তাটি পড়ে শোনান তিনি। সেখানে মমতা বলেন, “আমার গুজরাটি ভাই ও বোনেদের কাছে আমি ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা চাইছি। আমি আপনাদের জন্য গর্বিত। সংশ্লিষ্ট সাংসদের সঙ্গে এই নিয়ে কথা বলা হয়েছে। আমরা এই মন্তব্যকে অনুমোদন করছি না। এইরকম দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্যের জন্য আমি ক্ষমা চাইছি।”

তিনদিন আগে তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠকে কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া ঠিক কী বলেছিলেন? ওই সাংবাদিক বৈঠকে স্বাধীনতা আন্দোলনে বাঙালিদের অবদানের কথা তুলে ধরে মহুয়া বলেছিলেন, “ইংরেজদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার লড়াইয়ে বাঙালিরা নেতৃত্ব দিয়েছেন। গুজরাটি কজন ছিলেন? আপনি যখন কালাপানিতে যাবেন, কাদের নাম দেখতে পাবেন? কালাপানিতে যাঁদের কারারুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল, তাঁদের ৬৮ শতাংশ বাঙালি। এরপর রয়েছেন পঞ্জাবিরা। আপনাদের বড় হিরো বীর সাভারকার ছাড়া একজন গুজরাটির নাম বলতে পারবেন, যিনি ওখানে ছিলেন? আর বীর সাভারকার ক্ষমা চেয়ে চিঠি লিখেছিলেন।”

মহুয়ার এই মন্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর বাড়ে। জানা যায়, ৭০ নম্বর ওয়ার্ডে বসবাসকারী গুজরাটি সম্প্রদায়ের মানুষও বিষয়টি ভালোভাবে নেননি। তৃণমূল সূত্রে খবর, ৭০ নম্বর ওয়ার্ড গুজরাটি সম্প্রদায় অধ্যুষিত। বিগত নির্বাচনগুলিতে এই ওয়ার্ডে তৃণমূল সর্বত্র পিছিয়েছিল। ওয়ার্ডটি ভবানীপুর বিধানসভার মধ্যে পড়ে। বিধানসভা নির্বাচনে এখানে প্রার্থী স্বয়ং মমতা।

তৃণমূলেরই একাংশ বলছে, তৃণমূলের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া ভোটারদের যখন কাছে টানার চেষ্টা করছেন দলের সুপ্রিমো, তখন এই ধরনের মন্তব্যে ভুল বার্তা যাচ্ছে। রাজনীতির কারবারিরা বলছেন, কৃষ্ণনগরের সাংসদের বক্তব্যকে বিরোধী বিজেপি এই ওয়ার্ডে হাতিয়ার করতে পারে। তৃণমূলও যে তা আঁচ করতে পেরেছে, তা স্পষ্ট। তাই, দলের কাউন্সিলরকে দিয়ে গুজরাটি সম্প্রদায়ের মানুষজনকে বার্তা দেওয়া হল বলে রাজনীতির কারবারিরা মনে করছেন।

Follow Us