e

কলকাতা: একমাসের ব্যবধানে দ্বিতীয়বার বৈঠক। প্রথমে রাজ্যের সকল বিএলএ-দের নিয়ে আলোচনায় বসলেও, এবারের আলোচনাটা হয়েছে ‘রুদ্ধদ্বার’। শুক্রবার নিজের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুরের কাউন্সিলর ও বিএলএ-দের নিয়ে বৈঠকে বসলেন তৃণমূল সুপ্রিম মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। এসআইআর-কেই আলোচনার মুখ্য় কেন্দ্রবিন্দু রাখলেন তিনি।
সূত্রের খবর, বৈঠকেই কাউন্সিলর ও বিএলএ-দের স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন মমতা। ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা যুক্তিগত অসঙ্গতি দেখিয়ে যাদের ডাকা হয়েছে, সেই ভোটারদের তালিকা চেয়েছেন তিনি। বর্তমানে এসআইআর শুনানিতে ডাকা প্রায় প্রতিটি ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই শব্দবন্ধনী ব্যবহার করছে নির্বাচন কমিশন। তাই তৃণমূল সুপ্রিমো বুঝিয়ে দিয়েছেন, অল্পবিস্তর ভুলে যাদের নাম বাদ পড়ছে, শুনানিতে ডাকা হচ্ছে, শুধুমাত্র তাঁদের তালিকাই প্রদান করতে হবে বিএলএদের।
একুশের নির্বাচনে ভবানীপুরের ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডে সবথেকে বেশি লিড পেয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। নন্দীগ্রামের ঘটনার পর মান রক্ষা করেছিল ভবানীপুর। রাজনৈতিক মহল বলে, ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডের লিডেই ভর করে আবার ক্ষমতার শীর্ষে বসেছিলেন তিনি। আবার নির্বাচন এসেছে। ভোটমুখী বাংলায় এখন ‘হট টপিক’ এসআইআর। কিন্তু এই ভোটার তালিকার পরিমার্জনের কাজ মিটে গেলে তৃণমূল আর ৭৭নং ওয়ার্ডে লিড পাবে না, এমনটাই দাবি করেছিলেন রাজ্যে বিরোধী দলনেতা।
এসআইআর শুরুর পূর্বে শুভেন্দু বলেছিলেন, ‘ভবানীপুর তৃণমূলের জন্য নিরাপদ আসন ছিল না, আজও নেই। কারণ ভবানীপুরে সংখ্যালঘু আসন মাত্র ২০ শতাংশ। তাও চেতলার ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডের ১৭ হাজার ভোট লিড নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জিতেছেন। SIR-এ বাংলাদেশি সংখ্যালঘুদের নাম বাদ চলে যাওয়ার পরে ওই আসনেও লিড পাবেন না।’ আজ এসআইআর যখন একেবারে চূড়ান্ত পর্যায়ে, তৃণমূল সুপ্রিমোর নজরও সেই ৭৭নং ওয়ার্ডে। শুক্রবার বিএলএদের নিয়ে আয়োজিত বৈঠকে মমতা অভিযোগ তুলেছেন কারচুপির। তাঁর কথায়, ‘৭৭নং ওয়ার্ডে ইচ্ছাকৃত ভাবে বহু ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে।’ তাই কাউন্সিলর ও বিএলএদের এই মর্মে সতর্ক থাকতে বলেছেন তিনি।