Mamata Banerjee: ভবানীপুরে প্রার্থী মমতা, বললেন ‘একটা ভোটে হলেও জিতব’

Mamata Banerjee: এসআইআর শুরুর আগে থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর বিরোধিতা করেছেন। এমনকী, সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত চলে গিয়েছেন তিনি। এরপর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর তাঁর অভিযোগ কমিশন ইচ্ছাকৃত আসল ভোটারদের নাম বাদ দিচ্ছে বিজেপির অঙ্গুলীহিলনে।

Mamata Banerjee: ভবানীপুরে প্রার্থী মমতা, বললেন একটা ভোটে হলেও জিতব
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়Image Credit source: Facebook

Mar 02, 2026 | 6:07 PM

কলকাতা: ভোটের আগে একপ্রকার বড় ঘোষণা করেই দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) যে তিনিই প্রার্থী হচ্ছেন ভবানীপুর থেকে। আর সেখান থেকে তিনি যে ফের একবার জয়ী হচ্ছেন সে কথাও আজ, সোমবার (২ মার্চ ২০২৬) একপ্রকার ঘোষণা করে দিলেন তিনি। মমতা বলেছেন, নিজের কেন্দ্র থেকে একটি মাত্র ভোটে হলেও তিনি জিতবেন। আর মমতার এই মন্তব্যের পরই কটাক্ষ করতে শুরু করেছে বিজেপি।

এসআইআর শুরুর আগে থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর বিরোধিতা করেছেন। এমনকী, সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত চলে গিয়েছেন তিনি। এরপর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর তাঁর অভিযোগ কমিশন ইচ্ছাকৃত আসল ভোটারদের নাম বাদ দিচ্ছে বিজেপির অঙ্গুলীহিলনে। তিনি বলেন, “দিল্লির বিজেপির পার্টি অফিস থেকে নাম কাটছে আর এখানে রথযাত্রা পালন করছে। এই রথযাত্রা আপনাদের শেষ রথযাত্রা।” এরপর নিজের কেন্দ্রে নাম বাদ যাওয়া নিয়ে সরব হন তৃণমূলের সর্বময় নেত্রী। প্রশ্ন তোলেন, “ভবানীপুর ছোট কেন্দ্র। এখানে ২.৬ লক্ষ ভোটার আছে।” তারপর মধ্যেও এত নাম বাদ কীভাবে দেওয়া হল? তিনি বলেন,”লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সিতে ১৪ হাজার আরও ২০০০ কেটেছে নাম। আমি চেষ্টা করেছি। ভোটার কোথায় ! কেন মিসিং? কোথায় তাঁরা ? আমি তো চেষ্টা করেছি। সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছি। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে সহযোগিতা করেছি। ধৈর্য্য ধরেছি। কিন্তু ইচ্ছাকৃত নাম বাদ দিয়েছে।” এখানে উল্লেখ্য, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর দেখা গেল, মোট ৪৭ হাজারের বেশি নাম বাদ পড়েছে ভবানীপুরে। তবে আরও ১৪ হাজারের বেশি নাম অমীমাংসিত তালিকায় রয়েছে। ফলে আরও নাম বাদ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আর এই নাম বাদ যাওয়া নিয়ে সাধারণ মানুষ যে বিজেপিকে জবাব দেবে সেকথাও বলেছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, যাঁরা ভীরু একমাত্র তাঁরাই পিছন থেকে আক্রমণ করে। অর্থাৎ, ভোটে লড়াই করতে না পেরে সাধারণ মানুষের নাম বাদ দিয়ে-দিয়ে বিজেপি যে জিততে চাইছে সে কথাই অভিযোগ করেছেন তিনি।

সেই সময় ক্ষুব্ধ মমতা বলেন, “আমার কেন্দ্রে ৬০ হাজার ভোট কাটা হয়েছে।কিন্তু তারপরও আমি বলছি, আমি ভবানীপুর থেকে জিতব, এক ভোটে হলেও জিতব। আমার বিশ্বাস আছে, আমার বিশ্বাস আছে ভগবানে, বিশ্বাস আছে মায়ের উপর, বিশ্বাস আছে হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধদের প্রতি। আমি ধরনায় বসব, আমায় মরাল সাপোর্ট দেবেন।

বস্তুত, একুশের নির্বাচনে ভবানীপুরে রেকর্ড ভোটে জয়ী হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ৫৮,৮৩৫ ভোটে জমিতেছিলেন তিনি। প্রথমে সেই কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে জিতেছিলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। পরে উপনির্বাচন হতেই রেকর্ড ভোটে জয়ী হন মমতা।

জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “ভবানীপুর উপনির্বাচনে প্রথম যখন প্রার্থী হয়েছিলেন প্রায় ৭৫ হাজার ভোটে জিতেছেন, সেই মমতাকে ভোটের দু’মাস আগে কেন বলতে হচ্ছে ভবানীপুরে একটি মাত্র ভোটে হলেও জিতব। তার মানে তৃণমূলের বুকে হেরে যাওয়ার ভয় ঢুকেছে। আর এই ভয় গোটা বাংলাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। আর সারা বাংলা জুড়ে পরিবর্তনের হাওয়া।”