
কলকাতা: এসেছে ১২টি ইঞ্জিন। তাও আগুন নেভাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে তারা। শহর কলকাতার বুকে এমন ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড কার্যত নজিরবিহীন। গভীর রাত থেকে জ্বলছে আনন্দপুরের নামজাদা মোমো কোম্পানির কারখানা। রাতে নাইট শিফ্টে কারখানার মধ্যে থাকা কর্মীদের কোনও খোঁজ নেই। প্রাথমিকভাবে তিনজন কর্মী নিখোঁজ হয়ে বলে মনে করা হচ্ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বেড়েছে সেই সংখ্যা। তিন নয়, নিখোঁজ ছয় কর্মীর। উদ্বিগ্ন পরিবার, মনে দানা বেঁধেছে প্রাণ সংশয়ের ভয়।
এখনও নেভেনি আগুন, নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা জারি রয়েছে। শ্রমিকদের উদ্বিগ্ন পরিবার তাকিয়ে রয়েছে সেই ভস্মীভূত কারখানার দিকে। খসে পড়ছে কারখানার এক একটা অংশ। এদিন ওই ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক ব্যক্তি বলেন, ‘আমাদের জামাই আটকে রয়েছে। আমাকে শেষবার তিনটের সময় ফোন করেছিল। বলেছিল, খুব শ্বাসকষ্ট হচ্ছে, বাঁচব না। গেট তালা বন্ধ করে রাখা বেরতে পাচ্ছি না।’
এই অভিযোগ তাঁর একার নয়। জ্বলন্ত কারখানার সামনে উপস্থিত কর্মীদের প্রায় প্রত্যেকের পরিবারের দাবি এক। কারখানার গেট বাইরে থেকে তালা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন অনেকেই। ইতিমধ্য়ে কারখানার আরেক দিকে পাঁচিল পড়েছে, আগুন ছড়িয়ে গিয়েছে। উৎস খোঁজার চেষ্টা করছে দমকলবাহিনী। প্রাথমিক ভাবে অনুমান, অত্যাধিক পাম ওয়েল মজুত থাকার কারণে পুড়ে ছাই হয়েছে গোডাউনটি।
এদিন দমকলের এক আধিকারিক বলেন, ‘এই কারখানার পিছনের দিকে একটি আবাসিক রয়েছে। সেখানে প্রায় ১০০ জন বাসিন্দা ছিলেন। প্রত্যেককেই উদ্ধার করা গিয়েছে। কিন্তু গোডাউনের ভিতরে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের উদ্ধার করা যায়নি। ফোন সুইচড অফ।’ দুর্ঘটনার খবর পেয়েছেন রাজ্যের দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। টিভি৯ বাংলাকে তিনি বলেন, ‘ভোর তিনটের সময় খবর পেয়েছি। ওই এলাকায় দু’টি গোডাউন রয়েছে। একটি নামজাদা মোমো কোম্পানির। অন্যটি একটি ক্যাটারিং সংস্থার। দমকল কাজ করছে। সবটাই নজরে রাখা হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।’