
কলকাতা: গর্জে উঠেছেন আশা কর্মীরা। দ্রুত বকেয়া ভাতা প্রদান, ন্যূনতম ১৫ হাজার মাসিক ভাতা সহ একগুচ্ছ দাবিতে স্বাস্থ্য ভবনের সামনে চলছে অনড় আন্দোলন। কিন্তু এই আশা কর্মীদের আগেই সতর্ক করেথেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তাঁর সাফ কথা, রাজনৈতিকভাবে আপনাদের ব্যবহার করতে চাইছে, সেই ফাঁদে পা দেবেন না। তিনি বলেন, “রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য আপনারা হয়তো তাঁদের কিছু চাঁদাও দেন বলে শুনেছি। সঠিক জানি না। শুনেছি। চাঁদা দিতেই পারেন। গণতন্ত্রে তো বাধা নেই। কিন্তু আপনাদের নিয়ে নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করার যে চেষ্টা করা হচ্ছে। রাজ্য সরকার এতকিছু দেওয়ার পরেও সরকারের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলা হচ্ছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে আওয়াজ নেই কেন?”
তবে পাল্টা তোপ দিতে ছাড়েনি বিজেপি। সজলের সাফ কথা, “ওদের আটকাতে স্বাস্থ্য ভবনের সামনে লোহার প্রাচীর তুলেছে। এই লোহার প্রাচীরের পিছনে সরকার বেশিদিন লুকিয়ে থাকতে পারবে না। পাবলিক তাঁদের টেনে-হিঁচড়ে বার করবেই করবে।”
রাস্তায় নেমেছেন প্রায় ৮০ হাজারের বেশি আশা কর্মী। সর্বত্রই দেখা যাচ্ছে SUCI এর শ্রমিক সংগঠন AIUTUC-র পোস্টার। সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক অশোক দাস বলছেন, “রাজনীতির ফাঁদে পা দেওয়ার প্রশ্ন নেই। কিন্তু তৃণমূল সরকার তো রাজনীতি মানে ভোট বোঝে। কিন্তু সমাজের যাতে ভাল হবে, তার জন্য যেটা করা দরকার সেটার নাম রাজনীতি। স্বাস্থ্য সচিব নিজেই একুশ তারিখে আসতে বলেছিলেন। তাঁর দেওয়া ডেটেই আমরা এসেছিলাম। কিন্তু স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে দিয়ে সরকার বলাচ্ছে আমরা রাজনীতি করছি। কিন্তু গোটা বাংলার সমস্ত আশা কর্মীরা এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। তাঁরা বিভিন্ন দলের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন, বিভিন্ন মতের মানুষ তাঁরা। কিন্তু কিছু দাবিতে তাঁরা একজোট হয়েছেন।” আশা কর্মীদের দুরাবস্থা নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “আশা কর্মীদের ২৪ ঘণ্টা ডিউটি করতে হয়। রাত দুটোর সময় ফোন এলেও কিন্তু এক সন্তানসম্ভবা মাকে নিয়ে যেতে হবে। তাঁরা বেতন মাত্র ৫ হাজার ২৫০ টাকায়। এত কম টাকায় এই কাজ করানো যায়? আর তা ছাড়া ভোটের সময়, খেলার সময়, মেলার সময়, পরীক্ষার সময় বহু কাজ দেওয়া হয় যা স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নয়। আর AIUTUC মনে করে দলমত নির্বিশেষে সমস্ত শ্রমীজীবি মানুষকে নিয়ে আমরা এই আন্দোলন করছে।”