
কলকাতা: এবার পরীক্ষামূলক ভাবে কলকাতায় নামানো হল সিএনজি চালিত বাস। সোমবার পরিবহণমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম নিজে স্টিয়ারিংয়ে বসে সেই বাস চালালেন। কসবার এক ডিপো থেকে এই বাসের চলাচল শুরু হয়। একদিকে জ্বালানির খরচ কমানো, অন্যদিকে দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা। এই দুই বিষয়ের কথা মাথায় রেখেই এই উদ্যোগ। সফল হলে রাজ্যজুড়ে সিএনজি চালিত বাস চালানোর পরিকল্পনার কথা জানালেন পরিবহনমন্ত্রী।
ফিরহাদ হাকিম বলেন, “তেলের যা দাম তাতে বাস চালিয়ে অনেক টাকার ক্ষতির মুখে পড়বে সরকার। তারই বিকল্প হিসাবে পরিবেশবান্ধব সিএনজির কথা মাথায় আসে। ব্যাটারির কথাও ভাবা হয়েছিল। কিন্তু সেগুলির এত দাম সব গাড়ি কনভার্ট করা সম্ভব নয়। তখনই একটি সংস্থা এসে জানাল, ‘সিএনজি কিট বানিয়ে দেব। পরীক্ষা আপনার বাস দিয়েই হবে। যদি সফল হই তা হলে যত ডিজেল বাস আছে সব সিএনজি করে দেব’। আমি ভাবলাম এ তো হাতে চাঁদ। এরপরই দু’টি পুরনো পড়ে থাকা বাসে প্রায় দু’মাস ধরে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে এবার দু’টি বাস নামানো হল। আমিও একটু চালিয়ে দেখলাম। কোনও সমস্যা হচ্ছে কি না। ফুয়েল ফ্লো-এর কোনও সমস্যা হচ্ছে কি না তা নিজেই দেখে নিলাম।”
ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, পরীক্ষামূলক ভাবে যে দু’টি বাস চলবে সেগুলি সফল হলে আগামিদিনে অন্যান্য বাসও ডিজেল থেকে সিএনজিতে রূপান্তরিত করা হবে। কেবলমাত্র সরকারি বাস নয়, বেসরকারি বাসও সিএনজিতেই চালাতে চাইছে রাজ্য। এতে একদিকে যেমন জ্বালানির খরচ কমবে, ফলে যাত্রী ভাড়াও নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে। তবে আপাতত গোটা বিষয়টি পরিকল্পনার পর্যায়ে আছে।
যে সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করে রাজ্য সরকার এই পরিবর্তন করেছে, তাদের বক্তব্য সাধারণত ৪ থেকে ৫ লক্ষ টাকা খরচ হচ্ছে একটি বাসকে সিএনজি পরিষেবার যোগ্য করে তুলতে। তবে একসঙ্গে অনেকগুলি বাস হলে সে ক্ষেত্রে খরচ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকছে বলেও জানিয়েছে তারা। একই সঙ্গে ওই সংস্থার দাবি, আগামিদিনে গ্যাস ভরার জন্য যাতে পর্যাপ্ত জায়গা থাকে তার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
ছবি অভিজিৎ দাস।
কিন্তু স্টিয়ারিংয়ে বসে যে ভাবে বাসটি এগিয়ে নিয়ে গেলেন পরিবহনমন্ত্রী তা নিঃসন্দেহে নজরকাড়া। পূর্বে এরকম কোনও অভিজ্ঞতা মন্ত্রীর হয়েছে কি না এ প্রসঙ্গে ফিরহাদ হাকিম জানান, তরুণ বয়সে লরি চালানোরও অভিজ্ঞতা তাঁর হয়েছে। ছোট যে সমস্ত ভারী গাড়ি তাও চালিয়েছেন তিনি। অতীতের সে অভিজ্ঞতাই এবার পুরবাসীর স্বার্থে কাজে লাগালেন ‘মন্ত্রীমশাই’।