Firhad and Sajal: ‘আদর্শ বদলে ফেলেছেন’, ববি খোঁচা দিতেই সজল বললেন, ‘আপনিও মমতার বাড়ি চালে ঢিল মেরেছেন, কোন আদর্শের কথা বলছেন?’

বক্তব্যের শেষের দিকে এসে মেয়র ফের সজল ঘোষকে খোঁচা দেন। 'আদর্শহীন' এবং 'পাল্টিবাজ' বলে কটাক্ষ করেন। ফিরহাদের বক্তব্যের শেষ পর্বে এসে সজল ঘোষকে খোঁচা দিয়ে বলেন, "আপনি গডসেবাদ, মোদীবাদ নীতি নিয়েছেন। সুভাষবাদ-গান্ধীবাদ করুন। আদর্শ বদলে ফেলে, সংস্কৃতি বদলে কোনওদিন মেয়র হওয়া যায় না।"

Firhad and Sajal: আদর্শ বদলে ফেলেছেন, ববি খোঁচা দিতেই সজল বললেন, আপনিও মমতার বাড়ি চালে ঢিল মেরেছেন, কোন আদর্শের কথা বলছেন?
ফিরহাদ হাকিম ও সজল ঘোষImage Credit source: Tv9 Bangla

| Edited By: অবন্তিকা প্রামাণিক

Feb 17, 2026 | 9:24 PM

কলকাতা: নাগরিক পরিষেবা? বাদ যাক, নাগরিকদের সুবিধা অসুবিধা? বাদ যাক। কারণ, কলকাতা পুরসভার আজকের ‘হট টপিক’ ছিল কে আদর্শহীন আর কে পাল্টিবাজ। সজল ঘোষ নাকি ফিরহাদ হাকিম? বাকবিতণ্ডায় সরগরম বাজেট বক্তৃতা। আর এই সবের মধ্যে নাগরিক পরিষেবা নিয়ে আলোচনা ব্রাত্য হয়েই রইল পড়ে।

কলকাতা পুরসভার বার্ষিক বাজেট পেশ হচ্ছিল। কিন্তু তা পরিণত হয়ে গেল পাল্টিবাজ বিতর্কে। কে আদর্শবান এবং কে আদর্শহীন তা নিয়েই মেয়র ফিরহাদ হাকিম এবং বিজেপি কাউন্সিলর সজল ঘোষ বাগযুদ্ধে জড়িয়ে পড়লেন।

এ দিন, কলকাতা পুরসভার বাজেটের শেষ দিনে নিজের জবাবি ভাষণ দিতে উঠে মেয়র ফিরহাদ হাকিম বিরোধীদের বেঞ্চ দেখিয়ে বলেন যে, তিনিও কোনও সময় ওই বেঞ্চে বসতেন। ফলত, সমালোচনা বিরোধীরা করবেই। কিন্তু অপ্রয়োজনীয় ভাবে সমালোচনা ওই বেঞ্চে বসে তিনি করতেন না।

তখনই বিজেপি কাউন্সিলর সজল ঘোষ উঠে দাঁড়ান। বলেন,”আমি তাহলে এখন এই বেঞ্চে, এরপর তাহলে মেয়রের চেয়ারের দিকে বসতে পারি?” তখনই মেয়র সজল ঘোষকে বলেন, “তুমি বা তোমরা এই চেয়ারে (মেয়রের চেয়ারের দিকে আঙুল দেখিয়ে) বসতে পারবে না। কারণ তুমি পাল্টিবাজ। নিজের আদর্শ বদলেছ। নিজের সংস্কৃতি বদলে দিয়েছ।

এরপরই সজল ঘোষ-সহ বাকি দুই বিজেপি কাউন্সিলর নিজেদের বেঞ্চে উঠে ফিরহাদ হাকিমের বক্তব্যের প্রতিবাদ করতে থাকেন। পাল্টা শাসকদলের কাউন্সিলররা বেঞ্চ বাজিয়ে চিৎকার করতে থাকেন।

বক্তব্যের শেষের দিকে এসে মেয়র ফের সজল ঘোষকে খোঁচা দেন। ‘আদর্শহীন’ এবং ‘পাল্টিবাজ’ বলে কটাক্ষ করেন। ফিরহাদের বক্তব্যের শেষ পর্বে এসে সজল ঘোষকে খোঁচা দিয়ে বলেন, “আপনি গডসেবাদ, মোদীবাদ নীতি নিয়েছেন। সুভাষবাদ-গান্ধীবাদ করুন। আদর্শ বদলে ফেলে, সংস্কৃতি বদলে কোনওদিন মেয়র হওয়া যায় না।”

পাল্টা সজল ঘোষ মেয়রকে কটাক্ষ করে বলেন, “আপনিও আদর্শ বদলেছেন। জোড়া পাতায় দাঁড়িয়েছেন। পরে তৃণমূল হয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির চালে ঢিল মেরেছেন। আপনি কোন নীতির কথা বলছেন?

এই নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ বাগযুদ্ধ চলে। যদিও, বাজেটের মূল বিষয় থেকে বেরিয়ে গিয়ে এই বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ায় নাগরিক পরিষেবা সংক্রান্ত আলোচনা বঞ্চিত থেকে যায়। এমনকী, ১০০ দিনের কর্মীদের ভাতা বৃদ্ধি দাবি দীর্ঘদিনের। জঞ্জাল সাফাই কর্মী সংখ্যা বাড়ানোর দাবি প্রতিটি ওয়ার্ডে রয়েছে। সেগুলি বিরোধীদের তরফে দাবি করা হলেও, মেয়রের বক্তব্যে স্থান পায়নি। ফলে নাগরিক পরিষেবা বাজেটের মূল আলোচনায় ব্রাত্য থেকে গেল বলে দাবি পুরসভার আধিকারিকদের একাংশের। ১১১ কোটি টাকা ঘাটতি বাজেট পেশ করে এই বোর্ডের সম্ভবত শেষ পূর্ণাঙ্গ বাজেট সমাপ্তি হয় মঙ্গলবার সন্ধ্যায়।

সজল ঘোষ বলেন, “ইনি মমতার বাড়িতে ঢিল মেরেছিলেন। জোড়া পাতায় প্রার্থী হয়েছিলেন। পরবর্তীকালে ইনি কংগ্রেস ছিলেন। তারপর তৃণমূলের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে বেশ কিছুদিন পুরসভায় ছিলেন। তারপর জোড়াফুল হয়েছেন। আমি এতবার হইনি। আমি দল পাল্টেছি কারণ দল তার চরিত্র বদলেছিল।”