Mirza Ghalib Street fire: ঢাকঢোল পিটিয়ে অডিট কমিটি গঠন করেছিল পূর্বতন সরকার! ৩৭৮৮ টি হোটেলের মধ্যে ১৫টায় অডিট হয়েই ফুরোয় দম!
Kolkata Fire Incident: ছাদের উপরে রেস্তোরাঁ এবং অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা কী অবস্থায় রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে হাতে গোনা ১৫ থেকে ২০টি হোটেল অডিট হয়। কলকাতা পুরসভা এবং দমকল দফতর সূত্রে খবর, গোটা কলকাতায় বড় অভিজাত হোটেল ছাড়াও ৩৭৮৮ হোটেলকে চিহ্নিত করা হয়েছিল, যেগুলোতে অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা ভাল করে খতিয়ে দেখা হবে।

কলকাতা: মির্জা গালিব স্ট্রিটে মাঝরাতে ভয়াবহ আগুন। দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু কমপক্ষে ৯ জনের। অসুস্থ হয়েছেন একাধিক। প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, এসি থেকে আগুন লেগেছে। কিন্তু মির্জা গালিব স্ট্রিটের এই ঘটনা আরও একবার একাধিক প্রশ্ন তুলে দিল? কীভাবে এই ঘিঞ্জি এলাকায় সরু রাস্তার মধ্যে একেবারে ‘আনপ্ল্যানড’ হোটেলগুলো ট্রেড লাইসেন্স পেল? সে প্রশ্ন তুলেছেন খোদ দমকল প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরীও। শহরে এর আগেও একাধিক বড় বড় আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। করা হয়েছিল একাধিক পদক্ষেপও! কিন্তু তারপর কী হল? প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের মুখে উঠে এল ভয়ঙ্কর তথ্য।
জোড়াসাঁকো হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের পর স্থির হয়েছিল শহরের সবকাটি হোটেলে অগ্নি নির্বাপন অডিট চালানো হবে। কিন্তু সেই পরিমাণ লোক ছিল না দমকল দফতরের। স্বাভাবিকভাবেই থার্ড পাটির উপরে নির্ভর করতে হয়েছিল দমকল দফতরকে। কিন্তু দমকল দফতর সূত্রে খবর, সেই অডিট সম্পূর্ণ হতে পারেনি। কলকাতা পুরসভায় তিন দফায় বৈঠক হয়েছিল।
ছাদের উপরে রেস্তোরাঁ এবং অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা কী অবস্থায় রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে হাতে গোনা ১৫ থেকে ২০টি হোটেল অডিট হয়। কলকাতা পুরসভা এবং দমকল দফতর সূত্রে খবর, গোটা কলকাতায় বড় অভিজাত হোটেল ছাড়াও ৩৭৮৮ হোটেলকে চিহ্নিত করা হয়েছিল, যেগুলোতে অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা ভাল করে খতিয়ে দেখা হবে।
এমনকি, কলকাতা পুরসভায় দফায় দফায় এই অডিট কমিটির বৈঠক হবে বলে স্থির হয়েছিল। কিন্তু পুরসভার সূত্রে খবর, মাত্র ৩ থেকে ৪ বার এই বৈঠক হয়। মুখ্য সচিবের নেতৃত্বে এই কমিটি তৈরি হয়েছিল। এই কমিটির রিপোর্ট জমা পড়ার কথা ছিল কলকাতা পুরসভা এবং রাজ্য সরকারের কাছে।
লোকবলের অভাব, নজরদারি ত্রুটি এবং সিদ্ধান্তহীনতায় কলকাতা শহরে এদিন বড়সড় এই অগ্নিকাণ্ড বলে মনে করছেন প্রশাসনের কর্তাদের একাংশ।
প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলছেন, “দমকলের কাছে লোক ছিল না বলে থার্ড পার্টি অডিট টিম তৈরি করার কথা বলেছিলাম। নজরদারি তো পৌরসভা করে না। নজরদারি তো দমকলের দেখার কথা। ট্রেড লাইসেন্স নিয়েছিল কিনা, আমি কীভাবে বলব?”
দমকলমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী প্রশ্ন করছেন, “কীভাবে পূর্বতন সরকারের আমলে KMC ট্রেড লাইসেন্স দিল? তাদের অভিশাপ বহন করে নিয়ে বেড়াতে হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে তদন্ত হবে। প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা হবে।”
