
কলকাতা : রাজ্য-রাজনীতিতে জোর জল্পনা বিজেপির প্রার্থী হচ্ছেন তিলোত্তমার মা। TV9 বাংলার এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে নিজেই জানিয়েছেন, তিনি প্রার্থী হতে চান। তাঁর কাছে প্রস্তাব এসেছিল। আর সেই প্রস্তাবে তিনি সম্মতি দিয়েছেন। একইসঙ্গে জানিয়েছেন, বিজেপিই একমাত্র তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারবে। সিপিএম-কে তৃণমুলের জন্য সুযোগ করে দেবেন না। তিলোত্তমার মা-এর এই মন্তব্যের পরই মুখ খুলেছেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তাঁর দাবি, আরএসএস-এর শেখানো বুলি আওড়াচ্ছেন তিলোত্তমার মা। তাঁর আর্জি, কোনও নির্দিষ্ট পক্ষ যেন অবলম্বন না করেন তিলোত্তমার মা।
দিন কয়েক আগে বিজেপি নেতা অর্জুন সিং তিলোত্তমার বাড়িতে গিয়েছিল। তাঁর বাবা-মায়ের সঙ্গে প্রায় ঘণ্টা দেড়েক কথাও বলেন। আর তাঁর এই সাক্ষাতের পরই তিলোত্তমার মায়ের বিজেপি-তে যোগদান নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়। এমনকী, তিনি বিজেপির প্রার্থী হতে পারেন বলেও খবর ছড়ায়। সূত্রের খবর, পানিহাটি থেকেই টিকিট পেতে পারেন তিলোত্তমার মা। এই বিষয়ে, তিলোত্তমার মা বলেন, “দুঃখ-যন্ত্রণা ভিতরে রয়েছে। কিন্তু সেটাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে সব পরিস্থিতি। তাই কালকে আমি নিজেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি নিজেই ফোন করেছি। আমি প্রার্থী হতে চাই। আমার মেয়েকে কেউ ভোটে ব্যবহার করুক, সেটা আমি চাই না। তাই বিজেপিতে যোগ দিতে চাই। সিপিএম-কে তৃণমূলের জন্য সুযোগ করে দেবো না। স্বাস্থ্য, শিক্ষা দুর্নীতি আর নারীদের সুরক্ষায় লড়াইয়ের জন্যই বিজেপিতে যাচ্ছি। আর বিজেপিই পারবে তৃণমূলের সঙ্গে লড়াই করতে।” তিলোত্তমার বাবা দাবি করেন, তৃণমূল সরকারকে উৎখাত করার ক্ষমতা রয়েছে বিজেপির।
বৃহস্পতিবার এই বিষয়ে মহম্মদ সেলিম বলেন, “হাসপাতালের চত্বরের মধ্যে ডিউটিরত ছাত্রী, একজন চিকিৎসককে ধর্ষণের পর খুন করা হয়। ,এরকম আগে আমাদের রাজ্য তো দূর, দেশেও ঘটেনি। তারপর সব সাক্ষ্মী, প্রমাণ লোপাট করার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, স্বাস্থ্য দফতর, তৃণমূল কংগ্রেস সক্রিয় হয়। তখন বুদ্ধদার লাশ পড়ে রয়েছে এই ঘরে, সেইসময় এই ঘটনার কথা সিপিএম প্রথম জানায়। তারপর কোর্টে যাই আমরা। তড়িঘড়ি করে পোস্টমর্টেম করা হয়। অন্ধকারে নামার পর সব করা হয়। আমরা প্রথম এই বিষয়টাকে সামনে নিয়ে আসি। কোনও আরএসএস, কোনও বিজেপি কিন্তু বিষয়টা সামনে আনেনি।”
সেদিনে ছাত্র যুবদের লড়াইকেও মনে করিয়ে দিয়েছেন সেলিম। তিনি বলেন,”সেদিন ছাত্র যুব বাহিনী, বুদ্ধদার শেষ যাত্রা থেকে বেরিয়ে গাড়ি আটকায়। অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ায়। পুলিশের অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। বিজেপি, আরএসএস-এর মুরোদ আছে ধর্ষিতাকে ন্যায় দেবে, বিচার দেবে, অপরাধীকে ধরবে? কলকাতা পুলিশ যা বলেছে, সিবিআইও তাই বলেছে।” পরোক্ষভাবে তৃণমূল-বিজেপি-র সেটিং তত্ত্বকেই তুলে ধরলেন তিনি।
সেলিমের কথায়, “ভোট নির্বাচন আলাদা বিষয়। সেটা পরিবার সিদ্ধান্ত নেবে। আমরা কখনও বলিনি সিপিএম হও। আমরা সবসময় সন্তানহারা পরিবারের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। এসব বলে কিছু লাভ হবে না।” তবে, তিলোত্তমার বাবা-মায়ের প্রতি তাঁর অনুরোধ, কোনও পক্ষ না নিয়ে তাঁরা যেন লড়াই করেন।