Mukul Roy-TMC: ‘মুকুল’ ধরার সময় থেকেই ছিলেন, কীভাবে কাঁচরাপাড়ার ছেলে তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড হয়েছিলেন?

Mukul Roy Life: তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন মুকুল রায়। ১৯৯৮ সালে যখন জাতীয় কংগ্রেস ভেঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করেন, তখন সর্বদা পাশে ছিলেন যিনি, তিনিই মুকুল রায়। বাংলার সাধারণ মানুষকে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে পরিচয় করাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতোই মুকুল রায়ের ভূমিকা বা অবদানও অনস্বীকার্য। সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রাম আন্দোলনের অন্যতম মুখ ছিলেন মুকুল রায়।

Mukul Roy-TMC: মুকুল ধরার সময় থেকেই ছিলেন, কীভাবে কাঁচরাপাড়ার ছেলে তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড হয়েছিলেন?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে মুকুল রায়। ফাইল চিত্র।Image Credit source: X

|

Feb 23, 2026 | 8:27 AM

কলকাতা: জীবনাবসান মুকুল রায়ের (Mukul Roy)। চলে গেলেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মুকুল রায়। দীর্ঘদিন ধরে নানা অসুস্থতার সঙ্গে লড়ছিলেন তিনি। অবশেষে তাঁকে হার মানতে হল মৃত্যুর কাছে। মুকুল রায়ের প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমেছে রাজনৈতিক মহলে। অনেকেই করছেন স্মৃতিচারণ। চলে গিয়েও মুকুল রায় যেন ফের একবার মনে করিয়ে দিয়ে গেলেন যে কেন তিনি বঙ্গ রাজনীতির চাণক্য় ছিলেন।

জন্ম ও লেখাপড়া-

১৯৫৪ সালের ১৭ এপ্রিল জন্ম গ্রহণ করেন মুকুল রায়। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসির ডিগ্রি, তারপর ২০০৬ সালে পাব্লিক অ্যাডমিনিসট্রেশন নিয়ে মাদুরাই কামরাজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ করেন মুকুল রায়। তবে ততদিনে তিনি বাংলার রাজনীতির পরিচিত মুখ হয়ে গিয়েছেন।

তৃণমূলের কারিগর-

কংগ্রেসের গাছে যখন তৃণমূলের মুকুল ধরছিল মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়ের হাতে, সেই সময় থেকেই ছিলেন মুকুল রায়।  যুব কংগ্রেস নেতা হিসাবে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেছিলেন মুকুল রায়। সেখানেই পরিচয় হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। দিদি বলে শ্রদ্ধা করতেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও তাঁকে ভাইয়ের স্নেহ দিয়েছিলেন। প্রতি বছর ভাইফোঁটা দিতেন, তবে শেষ কয়েক বছরে সেই রীতিতে ছেদ পড়েছিল নানা কারণে।

তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন মুকুল রায়। ১৯৯৮ সালে যখন জাতীয় কংগ্রেস ভেঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করেন, তখন সর্বদা পাশে ছিলেন যিনি, তিনিই মুকুল রায়। একসময়ে তৃণমূলের তিলজলার পার্টি অফিসে সপরিবারে থাকতেন। কোন বিধানসভায় কোথায় কী ক্ষমতা, কোথায় খামতি- সব নখদর্পণে ছিল মুকুল রায়ের। এটাই তাঁর ক্ষমতা ছিল। জেলা থেকে শহর, প্রতিটি ব্লক বা বুথ স্তরে পরিচিতি ছিল। বাংলার সাধারণ মানুষকে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে পরিচয় করাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতোই মুকুল রায়ের ভূমিকা বা অবদানও অনস্বীকার্য। সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রাম আন্দোলনের অন্যতম মুখ ছিলেন মুকুল রায়।

দিল্লির মুখ হলেন মুকুল-

তৃণমূল স্তরে গিয়ে সংগঠন করেছিলেন মুকুল রায়।  তাঁর এই পরিশ্রমের দাম পান ২০০৬ সালে, তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক করা হয় তাঁকে। দলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড ছিলেন তিনি। ২০০১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে প্রথমবার জগদ্দল বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন মুকুল রায়। তবে হেরে যান ফরওয়ার্ড ব্লক প্রার্থী হরিপদ বিশ্বাসের কাছে। তবে মুকুল রায়ের হার না মানা স্পিরিটই তাঁর উত্থান কখনও আটকাতে পারেনি। ২০০৬ সালে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সদস্য মনোনীত হন। দিল্লিতে তৃণমূলের মুখ ছিলেন মুকুল রায়। ২০০৯ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত রাজ্যসভায় তৃণমূলের দলনেতা হিসাবে ছিলেন। ২০১৭ সাল পর্যন্ত সাংসদ ছিলেন তিনি। ২০১১ সালে নির্বাচনে তৃণমূলের অন্যতম কাণ্ডারী ছিলেন মুকুল রায়।

২০০৬ সালে জমি আন্দোলনের সময় ফের একবার সক্রিয় হয়ে ওঠেন মুকুল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে তাঁকে সেকেন্ড ইন কম্যান্ড হিসাবে পরিচয় দিয়েছিলেন।

২০১৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে সাংগঠনিক নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। এরপরে দেড় বছর ধরে দলবদল কর্মসূচি চলে মুকুল রায়ের হাত ধরে। কংগ্রেস থেকে বামের বিভিন্ন শরিক দল ভাঙিয়ে নেতা-কর্মীদের তৃণমূলে নিয়ে আসেন। বঙ্গ রাজনীতি ‘ঘোড়া কেনা-বেচা’র সঙ্গে পরিচিত হয়।

দ্বিতীয় ইউপিএ জমানায় জাহাজ মন্ত্রী হন মুকুল রায়। ২০১২ সালে রেল বাজেটে ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে অসন্তোষের কারণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৎকালীন রেলমন্ত্রী দীনেশ ত্রিবেদীর ইস্তফা দাবি করেন। দীনেশ ত্রিবেদী ইস্তফা দিলে মুকুল রায় পরবর্তী রেলমন্ত্রী হন।  তবে ছন্দ কাটে ২০১৭ সালে। তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেন। কৃষ্ণনগর থেকে বিজেপির টিকিটে জয়ীও হন। তারপরে ২০২১ সালে ফের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে পতাকা নিয়ে ফের তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন করেন। তবে কিছুদিন পর থেকেই আর সেভাবে সক্রিয় রাজনীতিতে দেখা যায়নি মুকুল রায়কে।