Suvendu Adhikari: ‘বেড়া দিন, আবার আসব’,নাছোড় বিরোধী দলনেতা, মানবাধিকার কমিশনে অভিযোগ, বার্তা রাজ্যপালকেও

Kolkata: ১২ জন বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে বিক্ষোভ দেখান শুভেন্দু। বৃহস্পতিবার দুপুরে সল্টলেকে শুভেন্দু অধিকারীর বাড়িতে ছিল বিজেপি নেতাদের একটি বৈঠক। সেই বৈঠক শেষেই বিকাশ ভবনের দিকে যাচ্ছিলেন তিনি।

Suvendu Adhikari: 'বেড়া দিন, আবার আসব',নাছোড় বিরোধী দলনেতা, মানবাধিকার কমিশনে অভিযোগ, বার্তা রাজ্যপালকেও
শুভেন্দুর চিঠি, নিজস্ব চিত্র
Follow Us:
| Edited By: | Updated on: Jan 28, 2022 | 7:24 AM

কলকাতা: বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে (Suvendu Adhikari) বাধা পুলিশের। কনভয় আটকায় পুলিশ। বৃহস্পতিবার বিকেলে বিকাশ ভবন যাওয়ার পথে আটকানো হয় শুভেন্দুর কনভয়। বাধা দেওয়ার পরই পুলিশের সঙ্গে বচসা শুরু হয়ে যায় তাঁর। গাড়ি থেকে নেমে রাস্তায় বসে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তিনি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আসানসোলের বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল। স্কুল খোলার দাবি নিয়েই এ দিন তাঁরা বিকাশ ভবনে যাচ্ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। এ বার সেই ঘটনার বিবরণ দিয়ে সরাসরি প্রতি পদে বাধা দেওয়ার অভিযোগে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে চিঠি দিলেন শুভেন্দু। গোটা ঘটনার বিবরণ জানালেন রাজ্যপালকেও।

সূত্রের খবর, মানবাধিকার কমিশনে একটি চারপাতার অভিযোগপত্র  পাঠিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, স্কুল খোলা নিয়েই শিক্ষাসচিবের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলেন তিনি। সেইসময়ে তাঁকে বাধা দেওয়া হয়। বিকাশ ভবনে যেতে না দিলে রাস্তা থেকেই অভিভাবকদের বার্তা দেবেন বলে হুঙ্কার দেন শুভেন্দু। কিন্তু, পুলিশ কনভয় আটকে রাখলে পুলিশের সঙ্গেই তাঁর বচসা বাধে। রাস্তা বসেই ফের বিকাশ ভবন যাত্রার হুঙ্কার দেন অধিকারী পুত্র। গোটা বিষয় নিয়ে মানবাধিকার কমিশনকে চিঠি পাঠানোর পাশাপাশি রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়কেও গোটা ঘটনার বিবরণ জানিয়ে বার্তা দিয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা।  এ নিয়ে একটি টুইটও করেছেন বিরোধী দলনেতা।

টুইটে, বিরোধী দলনেতা উল্লেখ করেছেন, ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী, তিনি ভারতের নাগরিক হয়ে যেখানে ইচ্ছে সেখানে ঘুরতে পারেন। কিন্তু বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট তাঁর মৌলিক অধিকারে হস্তক্ষেপ করেছেন।

শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, এ দিন শিক্ষা সচিবের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলেন তিনি। যাওয়ার পথেই বাধার মুখে পড়তে হয় তাঁকে। তিনি আরও জানান, আগে থেকে সময় চেয়েই যাচ্ছিলেন বিকাশ ভবনে। বিরোধী দলনেতার কথায়, ‘আমাদের বিকাশ ভবনে যাওয়ার অধিকারটুকু নেই। আমরা কোনও মিটিং, মিছিল, আন্দোলন করতে আসিনি। শিক্ষা সচিব সময় না দিলে ফিরে যেতাম।’ শুভেন্দু জানান, শিক্ষা সচিবের দফতরে একাধিকবার ফোন করা হয়েছিল। তিনি বিকেল ৫ টার পর সময় দিতে পারবেন জেনেই এসেছিলেন বলে উল্লেখ করেন শুভেন্দু।

তবে এ ভাবে তাঁকে থামানো যাবে না, আবারও আসবেন বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু। তিনি জানান, প্রবেশ করতে না দিলে বাংলার পড়ুযা ও অভিভাবকদের বার্তা দিয়ে তিনি চলে যাবেন। আগামিকাল অর্থাৎ শুক্রবার আবারও আসবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। স্কুল খোলার দাবিতে সরব হন বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পালও। তিনি বলেন, ‘দুয়ারে মদ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে, আর স্কুল খোলা হচ্ছে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কেন আটকানো হচ্ছে, আমরা তো ক্রিমিনাল নই।’

এ দিন ১২ জন বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে বিক্ষোভ দেখান শুভেন্দু। বৃহস্পতিবার দুপুরে সল্টলেকে শুভেন্দু অধিকারীর বাড়িতে ছিল বিজেপি নেতাদের একটি বৈঠক। সেই বৈঠক শেষেই বিকাশ ভবনের দিকে যাচ্ছিলেন তিনি। পুলিশ তাঁদের বলে, ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে, তাই যাওয়া যাবে না। এই বলে বাধা দেওয়া হয় বিধায়কদের। পরে শুভেন্দু রাস্তা থেকে উঠে গেলেও তিনি জানিয়েছেন যে তিনি আবারও আসবেন।

অন্যদিকে, বৃহস্পতিবারই  মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখাতে যান কয়েকজন চাকরিপ্রার্থী। সঙ্গে সঙ্গে ২২ জন চাকরিপ্রার্থীকে আটক করে পুলিশ। ওই চাকরিপ্রার্থীরা তাঁরা বিষের বোতল হাতে নিয়ে আত্মহত্যার হুমকি দিতে শুরু করেন। পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় তাঁরা হুমকি সুরে বলে যান, চাকরি না পেলে মৃত্যুবরণ করতেও পিছপা হবেন না তাঁরা। হাজরা মোড় থেকে মমতার বাড়ির দিকে এগিয়ে যান বিক্ষোভকারীরা। আগেই থেকেই প্রস্তুত ছিল পুলিশ। মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির রাস্তার সামনে ব্যারিকেড দিয়ে পুলিশ ঘিরে রেখেছিল পুলিশ। এরপর বিক্ষোভকারীরা এগোতেই তাঁদের গাড়িতে তুলে নেয় পুলিশ।

আরও পড়ুন: Suvendu Adhikari on Shantanu Thakur: ‘শান্তনু আমার ভাই, সহকর্মী…কোনও কথা নয়’