NCPI: এনসিপিআইয়ের কমিটি গঠন নিয়ে নয়া মোড়, কাকলি-সুদীপদের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে ওম বিড়লাকে চিঠি প্রতিষ্ঠাতা সদস্যের
NCPI Committee Row: তাহলে কি তাঁরা চাইছেন না, কাকলি-সুদীপরা তাঁদের দলে থাকুন? এই প্রশ্নের জবাবে শান্তনু দে বলেন, "আমরা চাইছি সাংসদরা আসুক। কিন্তু, স্বচ্ছতা রেখে আসুক।" এরপরই তাঁর বক্তব্য, "দল তৈরি করেছিলাম মানুষের অধিকার রক্ষা করার জন্য। আর এখানে যারা ফাউন্ডার, তাদেরই অধিকার রক্ষা হচ্ছে না।"

কলকাতা: একদিকে দলত্যাগী বিরোধী আইনে তাঁদের সাংসদপদ খারিজের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছে তৃণমূল। আবার লোকসভার স্পিকারের চিঠির জবাব দিতে গিয়েও ‘হোঁচট’ খেতে হচ্ছে। চিঠির জবাব দিতে ফের সময় চেয়েছেন তাঁরা। এই অবস্থায় যে দলে গিয়েছেন, সেই এনসিপিআই-য়ের নতুন কমিটি গঠন করেছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়রা। এবার ওই কমিটি গঠন নিয়ে কাকলি-শতাব্দীদের বিরুদ্ধে সরব হয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি পাঠালেন এনসিপিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য শান্তনু দে। তাঁর অভিযোগ, এনসিপিআই-কে দখল করতে চাইছেন তৃণমূল-ত্যাগী সাংসদরা।
কী বলছেন শান্তনু দে?
এনসিপিআইআয়ের নতুন কমিটি গঠনের বিরোধিতা করে লোকসভার স্পিকারকে চিঠি দেওয়ার কথা জানিয়ে শান্তনু দে বলেন, “একটা কমিটি তৈরি করতে গেলে যারা প্রতিষ্ঠাতা সদস্য রয়েছে, যারা দায়িত্বে ছিল, তাদের সঙ্গে একটা আলোচনার দরকার ছিল। সেটা তো হয়নি। আমাকে তো আজ পর্যন্ত ডাকেনি। কিংবা আমার সঙ্গে যারা দলটাকে তৈরি করেছে, তাদের কাউকেই ডাকেনি। আমরা ইতিমধ্যে স্পিকারকে চিঠি পাঠিয়েছি। আমি নিজেও পাঠিয়েছি। কিংবা ত্রিপুরায় যারা দায়িত্বে ছিল, তারাও চিঠি পাঠিয়েছে। ওই চিঠিতে আমরা স্পিকারকে জানিয়েছি যে আমাদের সঙ্গে আলোচনা না করে, আমাদের সমর্থন ছাড়া যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেটা একটু বিবেচনা করে দেখবেন।”
এনসিপিআইয়ের জাতীয় কর্মসমিতি গঠনে সভাপতি হিসেবে সই রয়েছে জ্যোতিপ্রকাশ চট্টোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তির। এই নিয়ে শান্তনু দে বলেন, “জ্যোতিপ্রকাশ চট্টোপাধ্যায়কে সভাপতি বলছে। কিন্তু, আমরা কোনওদিন তার মুখ দেখিনি। আমাদের সঙ্গে তার পরিচয় নেই। এনসিপিআইয়ের পেজে কোথাও তার ছবি ও পরিচয় নেই। সব নিয়ে অন্ধকারের মধ্যে রয়েছি আমরা।”
বছর চারেক আগে তাঁরা এনসিপিআই গঠন করেছিলেন জানিয়ে শান্তনু দে বলেন, “এনসিপিআইয়ের জাতীয় সম্পাদক (সংগঠন) পদে ছিলাম। ২০২২ সালে দলটা শুরু করেছিলাম। আমাকে দল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে কি না, সেটাও জানায়নি।” এরপরই তাঁর অভিযোগ, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়রা নিজেদের মতো কমিটি গঠন করে দল দখলের চেষ্টা করছেন। তাঁরা মনে করছেন, এটা সম্পূর্ণ আইন বিরোধী।
একইসঙ্গে তিনি বলেন, “যাঁরা এনসিপিআইয়ে যোগ দিচ্ছেন, তাঁরা একবার এই দলের টিকিটে জিতে আসুন। তাঁরা তৃণমূলের টিকিটে জিতেছেন। এখানে এসে দলে যোগ দিলে, সেই দলের দুই তৃতীয়াংশ লোক কোথায়? শুধু এমপিরা যোগ দিলে হবে না।”
তাহলে কি তাঁরা চাইছেন না, কাকলি-সুদীপরা তাঁদের দলে থাকুন? এই প্রশ্নের জবাবে শান্তনু দে বলেন, “আমরা চাইছি সাংসদরা আসুক। কিন্তু, স্বচ্ছতা রেখে আসুক।” এরপরই তাঁর বক্তব্য, “দল তৈরি করেছিলাম মানুষের অধিকার রক্ষা করার জন্য। আর এখানে যারা ফাউন্ডার, তাদেরই অধিকার রক্ষা হচ্ছে না।”
