
কলকাতার অন্যতম পছন্দের শপিং ডেস্টিনেশন নিউ মার্কেট। অনলাইন শপিংয়ের যুগে আজও নিজের জৌলুস বজায় রেখেছে নিউ মার্কেট। পুজোর শপিং হোক বা অনুষ্ঠানের আগে দরকারি জিনিস সবই মেলে নিউ মার্কেটে। খাওয়া দাওয়া, শপিং, সিনেমা দেখা সব মিলিয়ে এই চত্বরে কাটানো যায় গোটা একটা দিন। তবে কলকাতার নিউ মার্কেট শুধু শপিং ডেস্টিনেশন নয়, শহরের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক চিত্রের এক জীবন্ত নিদর্শনও। ১৮৮৪ সালে ব্রিটিশ শাসনের সময় মূলত শহরের অভিজাত এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণির কেনাকাটার সুবিধার জন্য নিউ মার্কেট প্রতিষ্ঠা করা হয় । তবে প্রথমে ছিল “হগ মার্কেট”।
ভারতের অন্যতম প্রাচীন বাজার ব্রিটিশরা কেন তৈরি করেছিলেন জানেন?
ব্রিটিশ শাসনের সময় কলকাতা ছিল ভারতের প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। সেই সময়কার উচ্চবর্ণীয় ইংরেজ নাগরিকরা এমন একটি বাজার চেয়েছিলেন, যেখানে তাদের অন্যান্য জনগণের সঙ্গে বেশি ঘনিষ্ঠ হওয়ার প্রয়োজন পড়বে না। সেই কারণেই ব্রিটিশ প্রশাসন ল্যান্ড একুইজিশন আইন (Act VIII of 1871) অনুযায়ী জমি নিয়ে বাজার তৈরি শুরু করে। প্রথমে এই বাজারকে Municipal New Market’ বলা হত। পরে ১৯০৩ সালে ভিক্টোরিয়ান যুগের ব্রিটিশ অফিসার ও কলকাতা কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান Sir Stuart Hogg‑এর সম্মানার্থে এই বাজারকে Sir Stuart Hogg Market নামে নামকরণ করা হয়। ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের মুখে মুখে নাম হয়ে যায় নিউ মার্কেট।
নিউ মার্কেটের আর্কিটেকচার তৎকালীন ব্রিটিশ স্থাপত্যের এক উৎকৃষ্ট উদাহরণ। লাল ইটের দেয়াল, খিলানাকৃতি আর্চ, সবুজ জানালা এবং আইকনিক ক্লক টাওয়ার‑সহ ভিক্টোরিয়ান শৈলী এখনও ব্রিটিশ শাসনের স্মৃতি বহন করে চলেছে। শুরুর দিকে এই বাজার মূলত ব্রিটিশদের আভিজাতশীল কেনাকাটার জায়গা ছিল বিশেষ করে পোশাক, জুতো, বই এবং আনুষঙ্গিক পণ্য কিনতে ব্রিটিশরা এখানে আসত।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি শুধুমাত্র শহরবাসীরই নয়, বিদেশী ভ্রমণকারীদেরও অন্যতম শপিং হাব হয়ে ওঠে। বাজারে আজও প্রচুর দোকান রয়েছে, যেখানে কাপড়, গয়না, ইলেকট্রনিক আইটেম, ফুড, ফুল, মশলাসহ নানা পণ্য পাওয়া যায়। এখানে ব্যবসায়ী পরিবারগুলো প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে জীবিকা চালাচ্ছেন।