
কলকাতা: ভোটমুখী বাংলায় কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রকের তরফে আরও চারটি রেল প্রকল্প অনুমোদন পেল। যা ভোটের আগে নিতান্তই তাৎপর্যপূর্ণ। কোথায় কোথায় এই প্রকল্পগুলি হচ্ছে? কী কী প্রকল্প হচ্ছে? এক নজরে সবটা…
বনগাঁ – চাঁদাবাজার (১১.৫ কিমি) নতুন রেললাইন:
এই ১১.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ নতুন রেললাইনটি বনগাঁ জংশন থেকে চাঁদা বাজার পর্যন্ত রেললাইন বসছে
রেল সূত্রে খবর, এই বিভাগে তিনটি বড় সেতু এবং ১টি ছোট সেতু নির্মিত হবে। যাত্রীদের সুবিধার জন্য নতুন প্ল্যাটফর্ম, শেড, ফুট ওভার ব্রিজ, টিকিট কাউন্টারসহ আধুনিক স্টেশন বিল্ডিং তৈরি হবে।
২) বনগাঁ–পোড়া মহেশতলা ২০ কিলোমিটার নতুন রেললাইন-
এই ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ রেললাইনটি বনগাঁ থেকে কল্যাণীর অভিমুখে পোড়ামহেশতলা পর্যন্ত রেল সংযোগ স্থাপন করবে।
এই বিভাগে একটি বড় সেতু এবং ৩৭টি ছোট সেতু তৈরি হবে। বনগাঁ-রানাঘাট শাখা লাইনের ২১ নম্বর লেভেল ক্রসিংয়ের কাছ থেকে (বনগাঁ স্টেশনের প্রায় ১ কিমি আগে) এই নতুন লাইনটি শুরু হবে।
৩) চাঁদাবাজার – বাগদা (১৩.৮ কিলোমিটার) নতুন রেললাইন
প্রস্তাবিত এই ব্রডগেজ লাইনটি বনগাঁ-পেট্রাপোল সেকশন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বনগাঁ-বাগদা স্টেট হাইওয়ের সমান্তরালে তৈরি হবে।
চাঁদাবাজার ও বাগদাকে সংযোগকারী এই লাইনে ২টি বড় সেতু এবং ১৪টি ছোট সেতু থাকবে। আধুনিক যাত্রী সুবিধাসহ নতুন স্টেশন ভবন নির্মিত হবে।
দ্রুতগামী ইএমইউ. (EMU) পরিষেবা চালু করে শহরতলি (Suburban) রেল ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত করলে স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন হবে। ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
৪) রানাঘাট (আড়ংঘাটা) – দত্তফুলিয়া (৮.১৭ কিমি) নতুন রেললাইন:
নদিয়া রানাঘাট শিয়ালদহ থেকে ৭৩ কিমি দূরে অবস্থিত। এই জংশনটি গেদে ও লালগোলার সঙ্গে যুক্ত। অন্যদিকে, দত্তফুলিয়া নদিয়া জেলার পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত একটি সমৃদ্ধ এলাকা। যা রানাঘাট শহর থেকে প্রায় ২৫ কিমি দূরে। বর্তমানে এই অঞ্চলের মানুষদের ট্রেন ধরতে প্রায় ৯ কিমি পথ ব্যয়বহুল সড়কপথে যাতায়াত করতে হয়।
এই ৮.১৭ কিমি দীর্ঘ লাইনটি আড়ংঘাটা থেকে শুরু হয়ে রাজ্য সড়কের সমান্তরালে দত্তফুলিয়া পর্যন্ত যাবে। এই সেকশনে ১৫টি ছোট সেতু নির্মাণ করা হবে।
এই নতুন সংযোগটি প্রায় ২৮০ বর্গ কিমি এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের রেলের অভাব পূরণ করবে। দ্রুতগামী লোকাল ট্রেন চলাচলের ফলে কৃষিভিত্তিক এই গ্রামীণ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কাঠামো শক্তিশালী হবে।