Fire Department: দমকলেরই ‘দম’ নেই, আগুন নেভাবে কীভাবে? সুজিতের দফতরের করুণ ছবি

Fire Fighter: বর্তমানে দমকলের অভ্যন্তরীণ পরিসংখ্যান বলছে, বর্তমানে রাজ্যে দমকল কেন্দ্র রয়েছে ১৭০টি। কিন্তু গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দমকলের সদর দফতরের একমাত্র কারখানাটি বন্ধ। একাধিক গাড়ি খারাপ। মেরামতের জন্য বেসরকারি সংস্থার উপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

Fire Department: দমকলেরই ‘দম’ নেই, আগুন নেভাবে কীভাবে? সুজিতের দফতরের করুণ ছবি
প্রতীকী ছবি Image Credit source: Getty Images

| Edited By: জয়দীপ দাস

Jan 28, 2026 | 3:31 PM

কলকাতা: নেই কর্মী। নেই পরিকাঠামো। আগুন নেভাতে গিয়ে ভুক্তভোগী দমকল কর্মীরাই। আনন্দপুরের নাজিরাবাদে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড চোখে আঙুল দিয়ে ফের দমকল কর্মীদের অভাবের বিষয়টি তুলে ধরল। শুধু দমকল কর্মীরাই নয়, অপর্যাপ্ত দমকল কর্মীর বিষয়টি স্বীকার করতে বাধ্য হলেন খোদ দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু।

নাজিরাবাদ অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আনার ব্যাপারে অন্যতম অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল কর্মীর অভাব। দমকলের অব্যবস্থা নিয়ে বারবার ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গিয়েছে বিরোধীদের। খবর পাওয়ার কিছু সময়ের মধ্যে দমকল পৌঁছালেও আগুন ও ধোঁয়ায় ঢাকা এলাকায় পৌঁছাতে রীতিমতো বেগ পান কর্মীরা। কারণ অপর্যাপ্ত মাস্ক। তাতেই উৎসস্থলে পৌঁছতে গিয়ে বাধা তৈরি হয় বলে দাবি দমকল কর্মীদের একাংশের। 

দমকল কর্মীদের কথায় যে ভয়াবহতা ছিল, তাতে উৎসস্থল পৌঁছতে ৪-৫ ঘন্টা লাগে। এতেই যেন গোদের উপর বিষফোড়ার মতো কাজ কাজ করে অপর্যাপ্ত পরিকাঠামো এবং মাস্কের অভাব। যার জেরে উৎসস্থলে পৌঁছতে গিয়ে প্রায় ৯ ঘন্টা পেরিয়ে গিয়েছিল। একইসঙ্গে, এই ধরনের অগ্নিকাণ্ডে কাজের চাপ ভয়াবহ থাকে। ফলে টানা কাজ করতে করতে রীতিমতো হাঁপিয়ে পড়েন দমকলের কর্মীরা। তখন ব্যাকআপ হিসেবে রাখা কর্মীরা হাল ধরেন। 

কিন্তু বর্তমানে দমকল কর্মীদের এমনই অবস্থা, ব্যাকআপ রাখা তো দূর অস্ত, একটা শিফটে যে পরিমাণ লোক থাকা দরকার, সেটাই নেই। ফলে ক্লান্ত হয়ে পড়লেও জলে পাইপ নিয়ে আগুন যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে হচ্ছে কর্মীদের। কিন্তু ক্লান্তির কারণে কাজে গতি আসছে না। ফলে আগুন নেভানো রীতিমতো বড়সড় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। দমকল কর্মীদের কথায়, একের পর এক দমকল কেন্দ্র তৈরি হলেও, কর্মী নিয়োগ হয়নি। নিয়োগের ক্ষেত্রে জটিলতা এবং কলকাতা হাইকোর্টের মামলা, সব মিলিয়ে এখন ভুগছে পরিষেবাও।

কী বলছে পরিসংখ্যান? 

বর্তমানে দমকলের অভ্যন্তরীণ পরিসংখ্যান বলছে, বর্তমানে রাজ্যে দমকল কেন্দ্র রয়েছে ১৭০টি। কিন্তু গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দমকলের সদর দফতরের একমাত্র কারখানাটি বন্ধ। একাধিক গাড়ি খারাপ। মেরামতের জন্য বেসরকারি সংস্থার উপর নির্ভর করতে হচ্ছে। মেকানিক, অটো ইলেকট্রিশিয়ান, মেট (হেল্পার) ইত্যাদি পদ মিলিয়ে প্রায় ১৩০ জন কর্মী ছিলেন। 

২০১০ সালের পরে কর্মীরা অবসর নিলেও নিয়োগ না হওয়ায় প্রাচীন প্রতিষ্ঠানটি শেষ হওয়ার মুখে। রাজ্যের ১৬৭টি দমকলকেন্দ্রে ১৫০০ জন ‘ফায়ার ইঞ্জিন অপারেটর কাম ড্রাইভার’ (এফইওডি) থাকার কথা। যাঁরা মূলত গাড়ি চালান। কিন্তু আদতে আছেন মাত্র ৭০৯ জন। অর্থাৎ, ৭৯১টি পদ শূন্য। অন্যদিকে সারা রাজ্যে দমকলের ২৩টি ডিভিশনে ৩৪ জন ডিভিশনাল অফিসার (ডিও) থাকার কথা। কিন্তু আছেন ১৪ জন। এক এক জন ডিভিশনাল অফিসারকে একাধিক জেলার কাজ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে অভিযোগ।