
কলকাতা: টানা ৩৭ দিন জেলবন্দি দশা কাটিয়ে সাময়িক স্বস্তি। আন্তর্জাতিক তারকা ফুটবলার লিয়োনেল মেসির ভারত সফরের আয়োজক শতদ্রু দত্তকে অন্তর্বর্তী জামিন দিল বিধাননগর মহকুমা আদালত। ১০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডের বিনিময়ে সোমবার তাঁকে জামিন দেওয়া হয়েছে। জেল মুক্তির সময় তাঁর সঙ্গে দেখা যায় স্ত্রী ও আইনজীবীকে।
এদিন সন্ধ্যায় দমদম সেন্টার জেল থেকে শতদ্রু দত্তকে নিতে আসেন তাঁর স্ত্রী ও আইনজীবী। এক মাসের সামান্য অধিক সময় জেলে কাটিয়ে অবশেষে বেরলেন শতদ্রু। জেলের বাইরে তাঁকে যুবভারতী-কাণ্ড প্রশ্ন করা হয়েছিল। কিন্তু কোনও উত্তর তিনি দেননি। শুধু বলেছেন, ‘আমি খুব ক্লান্ত, এখন কিছু বলব না।’ এরপর সরাসরি জেল চত্বর ছেড়ে চলে যান শতদ্রু।
গত ১৩ ডিসেম্বর যুবভারতী-কাণ্ডে শতদ্রু দত্তকে গ্রেফতার করেছিল বিধাননগর পুলিশ। লিয়োনেল মেসির কলকাতা সফর ঘিরে যুবভারতীতে তৈরি হওয়া বিশৃঙ্খলা ও অব্যবস্থাপনার দায় তাঁর দিকেই ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। মেসিকে শহরে এনে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়েছে শতদ্রুকে। যুবভারতী যখন বিশৃঙ্খলা তুঙ্গে, সেই সময় শহর ছাড়ার আগেই কলকাতা বিমানবন্দর থেকে শতদ্রুকে গ্রেফতার করে পুলিশ। যদিও শতদ্রু দাবি বরাবরই ভিন্ন ছিল। সূত্রের খবর, ওই দিনের বিশৃঙ্খলায় তাঁর কোনও দায় নেই বলেই আদালত এবং তদন্তকারীদের জানিয়েছিলেন শতদ্রু। নিজেকে বারংবার নির্দোষ বলেই অভিহিত করেছিলেন তিনি। সম্পূর্ণ দায় ঠেলে দিয়েছেন রাজ্য় সরকার এবং ভিআইপি সংস্কৃতির দিকে।
শতদ্রুর গ্রেফতারির পরে যুবভারতী-কাণ্ডের তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করেছিল পুলিশ। বাজেয়াপ্ত করা হয় তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা ২২ কোটি টাকা। এই সময়কালেই একাধিকবার অন্তর্বর্তী জামিনের আবেদন জানিয়েছিলেন শতদ্রু। কিন্তু সেই প্রতিটি আর্জি খারিজ হয়ে যায়। অবশেষে সোমবার, জেলবন্দি হওয়ার ৩৭ দিনের মাথায় শতদ্রু জামিন-আবেদনে ‘গ্রিন সিগন্যাল’।
একাধিক শর্ত-সহ অন্তর্বর্তী জামিন পেলেন শতদ্রু দত্ত। আদালতের সাফ নির্দেশ, শতদ্রুর সমস্ত নথি এখন জমা রাখতে হবে আদালতের কাছেই। বিধাননগর জুরিডিকশনের বাইরে কোথাও যেতে পারবেন না তিনি। সপ্তাহে একদিন তদন্তকারী অফিসারের সঙ্গে দেখা করতে হবে, সঙ্গে তদন্তে সহযোগিতাও করতে হবে।