
কলকাতা: তাঁর হাতে একটা প্ল্যাকার্ড। সেই প্ল্যাকার্ডে সাঁটানো একটা ছবি। মুখ্যমন্ত্রীর ছবি। মুখ্যমন্ত্রী বিদেশের কোনও একটি রাস্তায় হাঁটছেন, তাঁর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিমাতেই। কিন্তু নাজিরাবাদে ‘জতুগৃহে’র অদূরে এই ছবি নিয়ে হাঁটার অন্তর্নিহিত অর্থ কী? প্ল্যাকার্ডে আবার লেখা, ‘ছবি কথা বলে।’ সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে সেই ছবির অর্থ বোঝালেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
নাজিরাবাদে এখন জারি ১৬৩ ধারা। তার মধ্যেই অকুস্থলে শুভেন্দু। হাইকোর্টের অনুমতি নিয়ে আদালতের নির্দেশিত পথে মিছিল করলেন তিনি। সঙ্গে বিজেপি বিধায়করাও। মিছিলে হাঁটলেন মমতার ছবি নিয়ে। কিন্তু কেন? শুভেন্দু বললেন, ছবি মমতার সঙ্গে যাঁকে দেখা যাচ্ছে, তিনি আদতে মোমো কারখানার মালিক। যে কারখানার বিরুদ্ধে অব্যবস্থপনার একাধিক অভিযোগ উঠেছে। আর তার বলি হয়েছেন ৩ কর্মী। গোডাউন মালিক গঙ্গাধর দাস গ্রেফতার হয়েছেন। কিন্তু কেন গ্রেফতারি নয় মোমো কারখানার মালিককে? প্রশ্ন তোলেন বিরোধীরা।
শুক্রবার পুলিশ মোমো কারখানার ম্যানেজার মনোরঞ্জন শিট এবং ডেপুটি ম্যানেজার রাজা চক্রবর্তীকে গ্রেফতার করেছে। গত ২৫ জানুয়ারি মধ্যরাতে গুদামে যখন আগুন লাগল, তখন তাঁরা কোথায় ছিলেন, তাঁদের ভূমিকা কী ছিল, পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে। জানা যাচ্ছে, মনোরঞ্জন শিট ওই গুদামের দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু মালিককে কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না, সেই প্রশ্নের উত্তর দিতেই এই ছবি নিয়ে মিছিল করলেন শুভেন্দু। ছবি দেখিয়ে সাংবাদিকদের শুভেন্দু বুঝিয়ে দিলেন কার সঙ্গে মুখ্য়মন্ত্রী হাঁটছেন। শুভেন্দুর কথায়, “মোমো সংস্থার মালিকের বিদেশ সফরের সঙ্গী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী যাঁর সঙ্গে রাস্তায় হাঁটছেন, তিনি ওই মোমো সংস্থার মালিক। কর্মীদের ধরছেন কেন, গঙ্গাধর দাসকেও যেমন ধরেছেন, আমরা সমর্থন করি। তেমনি মোমো সংস্থার মালিককেও গ্রেফতার করতে হবে।” পাশাপাশি, খেয়াদহ ২ গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের গ্রেফতারি, স্থানীয় থানার আইসিকে সাসপেন্ড, দমকলমন্ত্রীকে পদত্যাগ-সহ একাধিক দাবি করেন।
এদিন পাঁচ দফা দাবি নিয়ে শুভেন্দু মিছিল করেন।
দাবি ১. দখল হওয়া জলাভূমির তালিকা তৈরি করতে হবে
দাবি ২. অগ্নিকাণ্ডে নিখোঁজদের খুঁজে দিতে হবে
দাবি ৩. মৃতদের পরিবারকে ৫০ লক্ষ টাকা দিতে হবে
দাবি ৪. পরিবারের একজনকে সরকারি চাকরি দিতে হবে
দাবি ৫. অগ্নিকাণ্ডে দোষীদের গ্রেফতার করতে হবে
জোড়া গুদামের অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১৬ জনের। যদিও সংবাদসংস্থা পিটিআই ২১টি দেহাংশ উদ্ধারের কথা জানিয়েছে। সেগুলি শনাক্ত করার জন্য ডিএনএ ম্যাপিং শুরু হয়েছে।