
কলকাতা: রয়েছে ৬টি স্তবক। এতদিন গাওয়া হত দুটি স্তবক। সম্প্রতি কেন্দ্র নির্দেশ জারি করেছে, দেশের রাষ্ট্রীয় গীত বন্দে মাতরমের ৬টি স্তবকই গাইতে হবে। কেন্দ্রের এই নির্দেশের বিরুদ্ধেই এবার কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হল জনস্বার্থ মামলা। কেন্দ্রীয় সরকারের বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মামলা হয়েছে। প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চে দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত শুনানির আবেদন জানানো হয়েছে। আগামী সপ্তাহে মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বন্দে মাতরমে ৬টি স্তবক রয়েছে। ১৯৩৭ সালে জাতীয় কংগ্রেস শুধুমাত্র প্রথম দুটি স্তবক গাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ১৯৫০ সালে এই দুটি স্তবকই ভারতের রাষ্ট্রীয় গান হিসেবে স্বীকৃতি পায়। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছে, সরকারি অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির আগমন ও যাওয়ার সময়, জাতির উদ্দেশে তাঁর ভাষণের আগে ও পরে রাষ্ট্রীয় গীত বাজানো হবে। একইরকমভাবে রাজ্যপালদের আগমন ও ভাষণের আগে ও পরে ‘বন্দে মাতরম’ গান বাজানো কিংবা গাওয়া হবে। বন্দে মাতরমের ৬টি স্তবকই বাজাতে হবে। ওই নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, যদি রাষ্ট্রীয় গীত ‘বন্দে মাতরম’ এবং জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণমন’ একসঙ্গে গাওয়া বা বাজানো হয়, তাহলে প্রথমে ‘বন্দে মাতরম’ বাজানো হবে।
কেন্দ্রের এই নতুন নির্দেশিকা ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর বেড়েছে। এই নির্দেশিকার পিছনে কেন্দ্রের শাসকদল বিজেপির উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল। এরই মধ্যে হাইকোর্টে দায়ের হল জনস্বার্থ মামলা। মামলাকারীর প্রশ্ন, কেন্দ্রের বিজ্ঞপ্তির এই সংযোজিত স্তবকগুলির ফলে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হবে না তো?
এই জনস্বার্থ মামলা নিয়ে আইনজীবী শিলাদিত্য রক্ষিত বলেন, “বন্দে মাতরমের ৬টি স্তবকই বাধ্যতামূলকভাবে গাইতে হবে বলে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে কেন্দ্র। সেই বিজ্ঞপ্তির বিরুদ্ধে আমরা একটা জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছি। মামলাটি গৃহীত হয়েছে। পরের সপ্তাহে মামলার শুনানি রয়েছে।”