
কলকাতা: পুলিশ চেষ্টা করেও নাকি খুঁজে পাচ্ছে না, অথচ ইদ উপলক্ষে বড় অনুষ্ঠানের আয়োজন সোনা পাপ্পুর, এলাকায় কার্ড বিলি, নিমন্ত্রিত মেয়র থেকে সাংসদ প্রত্যেকেই। কিন্তু এই সোনা পাপ্পুই আবার পুলিশের খাতায় নিখোঁজ। এখনও নাকি তাঁর কোনও খোঁজই নেই। কাঁকুলিয়া গুলি-বোমা কাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত সেই সোনা পাপ্পু ওরফে বিশ্বজিৎ পোদ্দারের ইফতারের আয়োজন ঘিরেই এবার শুরু হয়েছে জোর চর্চা। নিমন্ত্রণের কার্ড পৌঁছে গেল গোটা কসবার তৃণমূল কর্মী এবং নেতাদের আমন্ত্রণ জানিয়ে।
প্রধান অতিথিদের তালিকায় কলকাতা দক্ষিণের সাংসদ মালা রায় থেকে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম, বিধায়ক-মন্ত্রী জাভেদ আহমেদ খানও। এমনকি, সোনা পাপ্পুর ‘ত্রাতা’ হিসেবে যাকে কাঠগড়ায় তোলা হয়েছিল, সেই বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় রয়েছেন অথিতিদের তালিকায়। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, যাকে পুলিশ খুঁজেই পাচ্ছে না, তাঁর সভাপতিত্বে হতে চলা ইফতার পার্টির কার্ড কীভাবে বিতরণ হচ্ছে?
আগামী ১৮ মার্চ ইফতার পার্টি থেকে ২১ মার্চ ইদ উপলক্ষে একাধিক কর্মসূচি ঘোষণা করে কার্ড ছাপিয়েছে এই বিশ্বজিৎ ওরফে সোনা পাপ্পু। তাদের সংগঠন বোসপুকুর পশ্চিমপাড়া ইদ কমিটি এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। যার সভাপতি খোদ সোনা পাপ্পু ওরফে বিশ্বজিৎ পোদ্দার। তাঁকে নিয়ে বিতর্কের আবহে বারবার বিরোধীরা বারবার পুলিশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে সরব হয়েছে। তাহলে কি সেই অভিযোগই দিনের শেষে সত্যি হল? তৃণমূলের চাপেই কি এখনও পর্যন্ত সোনা পাপ্পু অধরা? অথচ সোনা পাপ্পুই নেতা-কর্মীদের ফোন করে এই ইফতার পার্টি আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছেন বলে তৃণমূল সূত্রে খবর।
এমনকি, এই অনুষ্ঠানের জন্য একটি ভিডিও তৈরি করা হয়েছে, সেটাও সোনা পাপ্পু ফোনে কথা বলে তৈরি করে দিয়েছে বলে এলাকা সূত্রে খবর। এরপরেও পুলিশ কীভাবে তাঁকে খুঁজে পাচ্ছে না, সেটাই প্রশ্ন। ইতিমধ্যেই কাঁকুলিয়ার ঘটনায় ২৩ জনকে গ্রেফতার করা হয় অস্ত্র আইন, এলাকায় গণ্ডগোল পাকানোর অভিযোগে। তাদের মধ্যে ১৭ জন জামিন পেয়ে যায়। অস্ত্র আইনের গ্রেফতারের পরেও কীভাবে জামিন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন খোদ মেয়র ফিরহাদ হাকিম। এরইমধ্যেই ভয়ঙ্কর সেই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সোনা পাপ্পু ইদ উপলক্ষে এত বড় অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে কিভাবে? কসবা থানা থেকে মাত্র দেড় কিলোমিটার দূরে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলেও পুলিশ কেন চুপ সেটাও প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা।