AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

R N Ravi : তামিলনাড়ুর নাম পরিবর্তন থেকে বিল পাস…স্ট্যালিন সরকারের সঙ্গে সংঘাতে নজির গড়েছেন বাংলার নতুন রাজ্যপাল

R N Ravi : বিল ইস্যুতেই স্ট্যালিন সরকারের সঙ্গে সংঘাত চরমে পৌঁছয়। তামিলনাড়ু সরকার অভিযোগ তোলে, রাজ্যপাল তাঁর ক্ষমতার অপব্যবহার করে এই বিলগুলিকে আটকে রেখেছে। শুধু তাই নয়, ২০২৩ সাল থেকে রাজভবনের চা-চক্র বয়কট করে আসছেন স্ট্যালিন। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে একাধিকবার রাজ্যপালকে বরখাস্ত করার আবেদনও করেছে স্ট্যালিন সরকার।

R N Ravi : তামিলনাড়ুর নাম পরিবর্তন থেকে বিল পাস...স্ট্যালিন সরকারের সঙ্গে সংঘাতে নজির গড়েছেন বাংলার নতুন রাজ্যপাল
আর এন রবিImage Credit: x
| Updated on: Mar 06, 2026 | 2:25 PM
Share

কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গে রাতারাতি রাজ্যপাল বদল। আর এই বদলকে কেন্দ্র করে জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। বৃহস্পতিবারই রাজ্যপাল পদে ইস্তফা দিয়েছেন সিভি আনন্দ বোস। তারপরই পশ্চিমবঙ্গের নতুন রাজ্যপাল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে আর এন রবি-র নাম। পুরো নাম রবীন্দ্র নারায়ণ রবি। তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল ছিলেন তিনি। সেইসময় স্ট্যালিন সরকারের সঙ্গে তাঁর সংঘাত বারবার সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছে। এমনকী, রাজ্যপালের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে পর্যন্ত যেতে বাধ্য হয়েছিলেন এম কে স্ট্যালিন। কোন ইস্যুতে তামিলনাড়ু সরকারের সঙ্গে সংঘাত ছিল রবি? রাজ্য-রাজ্যপালের মধ্যে কী কী ঘটেছিল?

স্ট্যালিনের সঙ্গে সংঘাতের কারণ

বিল পাস

তামিলনাড়ুতে বিজেপি বিরোধী এম কে স্ট্যালিনের সরকার। ২০২১ সালে তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন রবি। অভিযোগ, রাজ্য বিধানসভায় পাশ হওয়া একাধিক বিল তিনি আটকে রেখেছিলেন। জানা গিয়েছে, তিন বছর ধরে রাজ্যপালের দফতরে ১২টি বিল আটকে রেখেছিলেন তিনি। তালিকায় রয়েছে তামিলনাড়ু ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস ইউনিভার্সিটি (সংশোধনী) বিল, তামিলনাড়ু ফিসারিজ় ইউনিভার্সিটি (সংশোধনী) বিল, মাদ্রাজ ইউনিভার্সিটি (সংশোধনী) বিল, তামিলনাড়ু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধনী) বিল, তামিলনাড়ু ডঃ আম্বেদকর আইন বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধনী) বিল ইত্যাদি।

বিল ইস্যুতেই স্ট্যালিন সরকারের সঙ্গে সংঘাত চরমে পৌঁছয়। তামিলনাড়ু সরকার অভিযোগ তোলে, রাজ্যপাল তাঁর ক্ষমতার অপব্যবহার করে এই বিলগুলিকে আটকে রেখেছে। শুধু তাই নয়, ২০২৩ সাল থেকে রাজভবনের চা-চক্র বয়কট করে আসছেন স্ট্যালিন। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে একাধিকবার রাজ্যপালকে বরখাস্ত করার আবেদনও করেছে স্ট্যালিন সরকার। তারপর ২০২৩ সালের ৩১ অক্টোবর তামিলনাড়ু সরকার রাজ্যপালের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করে। তারপরই সরকার ও রাজ্যপালের মধ্যে আইনি যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়।

সুপ্রিম কোর্টে তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়েন আর এন রবি। একবার নয়, তিন তিনবার ভর্ৎসনা করা হয়। বিল আটকে রাখাকে ‘বেআইনি’ বলে শীর্ষ আদালত। ২০২৫ সালের ৮ এপ্রিল একটি ঐতিহাসিক রায়ে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা এবং আর মহাদেবনের ডিভিশন বেঞ্চ রায় দেয়, রাজ্যপাল রবির ১০টি বিলের সম্মতি স্থগিত রাখা ‘অবৈধ’ এবং ‘স্বেচ্ছাচারী’। আদালত আরও বলেছে, রাজ্যপালদের একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে রাজ্যের পাশ করা বিলের উপর কাজ করতে হবে। এই রায় সব রাজ্যের রাজ্যপালের জন্যই কার্যকর ছিল। স্ট্যালিন এই রায়কে তামিলনাড়ু এবং সমস্ত রাজ্যের জন্য ‘ঐতিহাসিক জয়’ বলে দাবি করেন।

যদিও, বিল পাস নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট কি রাজ্যপালকে সময়সীমা বেঁধে দিতে পারে? শীর্ষ আদালতের এই রায় সাংবিধানিকভাবে বৈধ কিনা, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। সংবিধানের ১৪৩ অনুচ্ছেদের অধীনে সুপ্রিম কোর্টের মতামত চেয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি। ১৪টি সাংবিধানিক প্রশ্ন তুলে শীর্ষ আদালতকে একটি চিঠি লিখে সুপ্রিম কোর্টের মতামত জানতে চান। তবে, সুপ্রিম কোর্টকে রাষ্ট্রপতির চিঠি নজিরবিহীন বলে মনে করা হচ্ছে। বিরল থেকে বিরলতর ঘটনার ক্ষেত্রে এমনটা দেখা যায়।

রাষ্ট্রপতির প্রশ্নের জবাবে নভেম্বর মাসে একটি রায় দেয় সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত জানায়, বিল আইন হওয়ার আগে রাজ্যপালের সিদ্ধান্ত নিয়ে আদালত বিচার করতে পারবে না। তবে, রাজ্যপাল বিল আটকে রাখতে পারেন না। আবার একইসঙ্গে শীর্ষ আদালত জানিয়ে দেয়, রাজ্যপালকে কত দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, সেই সময়সীমাও আদালত নির্ধারণ করে দিতে পারে না।

রাজভবনের নাম পরিবর্তন

২০২৪ সালের রাজ্যপালদের সম্মেলনের সময় রবির সভাপতিত্বে একটি কমিটি সমস্ত রাজভবনের নাম পরিবর্তন করে ‘লোক ভবন’ এবং রাজ নিবাসের নাম ‘লোক নিবাস’ রাখার সুপারিশ করে। প্রস্তাবে, রবি যুক্তি দিয়েছিলেন ‘রাজভবন’ শব্দটি ‘একটি স্বতন্ত্র ঔপনিবেশিক ছাপ’ বহন করে। কেন্দ্র এই সুপারিশ গ্রহণ করে। পরে ২৫ নভেম্বর নির্দেশিকা জারি করা হয়। কিন্তু এই পরিবর্তনের বিরোধিতা করেন স্ট্যালিন। তিনি বলেন, ‘মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন’।

এছাড়াও আরও একাধিক কারণে রাজ্যপালের সঙ্গে সংঘাত বেঁধেছিল স্টালিনের। ২০২৪ সালের মার্চ মাসে মন্ত্রিসভায় নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। সুপ্রিম কোর্ট কে.পোনমুডির সাজা স্থগিত রাখার পরও রবি তাঁকে মন্ত্রিসভায় পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করতে রাজি হননি। আর একটা ইস্যু হল ‘তামিলনাড়ু’ বনাম ‘তামিজগম’ বিতর্ক। ২০২৩ সালের গোড়ার দিকে রবি পরামর্শ দেন রাজ্যের জন্য উপযুক্ত নাম ‘তামিজগম’। তবে,ডিএমকে সরকার এই নামকরণকে ভাষার প্রতি অবমাননা বলে দাবি করেন।

তামিলনাড়ুর সেই রাজ্যপাল আর এন রবি এখন বাংলার রাজ্যপাল। এদিকে, পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল থাকাকালীন সি ভি আনন্দ বোসের বিরুদ্ধেও রাজ্যের একাধিক বিল আটকে রাখার অভিযোগ তুলেছিলেন। সেই সংক্রান্ত ইস্যুতে একাধিকবার রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাত চরমে পৌঁছেছিল। জগদীপ ধনকড়ের সময়ও একাধিক ইস্যুতে রাজ্যের সঙ্গে সংঘাত হয়। তবে, আর এন রবির মতো দেশের আর কোনও রাজ্যপালের বিরুদ্ধে এত বিল আটকে রাখার নজির অতীতে নেই।