কলকাতা: টলিউডের দুই নায়িকার লড়াইয়ের সাক্ষী থাকবেন হুগলি লোকসভা কেন্দ্রের বাসিন্দারা। সেখান থেকে দিদি নম্বর ১-এর সঞ্চালক রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। ওই কেন্দ্রের বর্তমান সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়ও প্রাক্তন অভিনেত্রী। ২০১৯ সালে হুগলি লোকসভা কেন্দ্র থেকে জিতেছিলেন তিনি। এ বারও ফের তাঁকেই প্রার্থী করেছে পদ্মশিবির। কলকাতায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা রচনার সঙ্গে হুগলির সে অর্থে সরাসরি কোনও যোগ নেই। যদিও সাংসদ হতে তাঁর দরকার সেখানকার মানুষের ভোট। দিদি নম্বর ১-এর সাফল্য কি রাজনীতিতেও ধরা দেবে রচনার ঝুলিতে? না দিনের শেষে হুগলিতে লকেটের হাসিই চওড়া হবে?
কলকাতাতে জন্ম রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান তিনি। ছোটবেলায় তাঁর নাম দেওয়া হয়েছিল ঝুমঝুম বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও পরিচালক সুখেন দাসের নজরে আসার পর সিনেমা জগতে নতুন নামে আবির্ভাব ঘটে ঝুমঝুমের। তাঁর নাম হয় রচনা।
কলকাতাতেই পড়াশোনা শুরু রচনার। স্কুল পর্ব মিটিয়ে সাউথ সিটি কলেজে স্নাতক স্তরে ভর্তি হন তিনি। সেখানে দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময়ই বেষ কয়েকটি সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় খেতাব জিতেছিলেন তিনি। মিস ইন্ডিয়া প্রতিযোগিতাতেও অংশ নেন। যদি ফাইনালে সেই প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে গিয়েছিলেন। সে সময় থেকেই সিনেমা জগতে পা দেন রচনা। বাংলা সিনেমা ছাড়াও প্রচুর ওড়িয়া ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। তামিল এবং তেলুগু ভাষার সিনেমাতেও দেখা গিয়েছে তাঁকে। এমনকি অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গেও অভিনয় করার অভিজ্ঞতা রয়েছে রচনার।
১৯৯৩ সালে ‘দান প্রতিদান’ ছবিতে অভিনয় করে বাংলা ছবির জগতে রচনার আগমন। যদি তার আগেই ২-৩টি ওড়িয়া ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। এর পর একাধিক হিট বাংলা সিনেমায় অভিনয় করেছেন। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের নায়িকা হিসাবে অনেক ছবিতে দেখা গিয়েছে রচনাকে। এমনকি ‘সূর্যবংশম’ হিন্দি ছবিতে অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে দেখা গিয়েছে তাঁকে।
কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে টেলিভিশন দুনিয়ায় বিপুল সাফল্য পেয়েছেন রচনা। তাঁর সঞ্চালনায় ‘দিদি নম্বর ১’ সুপারহিট। দিন কয়েক আগেই সেই ধাবাবাহিকে হাজির হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পর থেকেই রচনার ভোটে লড়ার জল্পনা শুরু হয়েছিল বিভিন্ন মহলে। ১০ মার্চ ব্রিগেডের ‘জনগর্জন সভা’ থেকে সেই জল্পনার অবসান হল। হুগলি কেন্দ্র থেকে লোকসভায় তৃণমূলের প্রার্থী হলেন রচনা। লকেটের হাত থেকে হুগলি ছিনিয়ে মমতাকে রচনা উপহার দিতে পারেন কি না, সেদিকেই এখন নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।