
কলকাতা: গোটা রাজ্যের অর্থনীতির একটা বড় অংশ নির্ভর করে দুর্গা পুজোর ওপর। পুজোকে কেন্দ্র করে খাবার কিংবা পোশাকের ব্যবসা বিশেষভাবে প্রভাবিত হয়, তেমনই বড় প্রভাব পড়ে যানবাহনে। দেখা গিয়েছে, চলতি বছরের পুজোর দিনগুলোতে প্রতিদিন ৭-৮ লক্ষ করে মানুষ যাতায়াত করেছেন মেট্রোর বিভিন্ন রুটে। তবে সে তো গেল মূলত শহরবাসীর কথা। শহরের চোখ ধাঁধানোর উৎসবের সাক্ষী থাকতে যে সব মানুষ বিভিন্ন জেলা থেকে ওই সময়ে কলকাতায় আসেন, তাঁদের যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম হয় লোকাল ট্রেন। এবছর পুজোর ৬ দিনে শুধুমাত্র শিয়ালদহ ডিভিশনে লোকাল ট্রেনে যাতায়াত করেছেন ১ কোটির বেশি যাত্রী। ওই সময়ে রেলের আয়ও হয়েছে গত বছরের তুলনায় অনেকটাই বেশি। পূর্ব রেলের তরফ থেকে প্রকাশ করা হয়েছে সেই তালিকা।
শিয়ালদহ থেকে রাজ্যের উত্তর ও দক্ষিণের একাধিক জেলায় যাতায়াত করে লোকাল ট্রেন। পঞ্চমী, ষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী ও দশমী- এই ৬ দিন শিয়ালদহ ডিভিশনের বিভিন্ন লোকাল ট্রেনে যত যাত্রী যাতায়াত করেছেন, তার তালিকা সামনে এসেছে।
পঞ্চমী- এবছরের যাত্রী সংখ্যা ১৮৪২৯১৫। গত বছর সংখ্যাটা ছিল ১৬৭৯১৪০।
ষষ্ঠী- এবছরের যাত্রী সংখ্যা ১৮৩০৬৪৬। গত বছর সংখ্যাটা ছিল ১৬৯০০২৮।
সপ্তমী- এবছরের যাত্রী সংখ্যা ১৯২৩৪৮০। গত বছর সংখ্যাটা ছিল ১৭৪৯০৯২।
অষ্টমী- এবছরের যাত্রী সংখ্যা ১৬৮৯৪৩৪। গত বছর সংখ্যাটা ছিল ১৫৮০০২৫।
নবমী- এবছরের যাত্রী সংখ্যা ১৬৮২১৪৬। গত বছর সংখ্যাটা ছিল ১৭০৫৯২৫।
দশমী- এবছরের যাত্রী সংখ্যা ১৫১৫০৬৩। গত বছর সংখ্যাটা ছিল ১৪১৮১৯১।
অর্থাৎ ওই ৬ দিন মিলিয়ে মোট যাত্রী সংখ্যা ১,০৪,৮৩,৬৮৪। এর মধ্যে শুধুমাত্র নবমীর দিন বাদে পুজোর প্রতিদিনই যাত্রী সংখ্যা বেড়েছে গত বছরের তুলনায়।
কত আয় করল রেল?
পুজোর কয়েকদিনে শিয়ালদহ শাখা থেকে রেল কোটি কোটি টাকা আয় করেছে। পঞ্চমীতে শিয়ালদহের লোকাল ট্রেন থেকে রেলের মোট উপার্জন, ১ কোটি ৬ হাজার ৮২৫ টাকা, ষষ্ঠীতে উপার্জন হয়েছে ১ কোটি ৯৬ লক্ষ, ৩৬ হাজার ৬৩৫ টাকা, সপ্তমীতে ২ কোটি ১০ লক্ষ ৩৭ হাজার ৩৮৫ টাকা, অষ্টমীতে ১ কোটি ৮২ লক্ষ ৮৫ হাজার ৭০ টাকা, নবমীতে ১ কোটি ৭০ লক্ষ ২৮ হাজার ৫০০ টাকা ও দশমীতে ১ কোটি ৪৯ লক্ষ ৬৯ হাজার ৫৪৫ টাকা। অর্থাৎ মোট আয়ের অঙ্ক দাঁড়াচ্ছে, ১০ কোটি ৯৯ লক্ষ ৬৩ হাজার ৯৬০ টাকা (প্রায় ১১ কোটি)। এই অঙ্কও গত বছরের তুলনায় অনেকটাই বেশি। এই ৬ দিনে গত বছর ওই ডিভিশনের লোকাল ট্রেন থেকে রেলের আয় হয়েছিল সাড়ে ৮ কোটি।