‘ওরা খুব গরিব, ওদের কোনও দোষ নেই’, আরজি করের লিফট-কাণ্ডে কাতর আর্জি
এটা গাফিলতি নাকি ইচ্ছাকৃত, সে ব্যাপারে তদন্তে চলছে বলে জানিয়েছেন সরকারি আইনজীবী। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ঘটনার দিন ভোর ৪ টে ১৫ থেকে ৪ টে ৪৪ পর্যন্ত আটকে ছিলেন মহিলা ও শিশু। চিৎকার করছিলেন। লিফটম্যান বা নিরাপত্তারক্ষী কেউ আসেনি। ১ ঘন্টা পর উদ্ধার করা হয় তাঁদের।

কলকাতা: লিফটের দরজায় আটকে, কার্যত পিষে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তি। ছেলের চিকিৎসা করাতে নিয়ে মর্মান্তিক পরিণতি হয়েছে আরজি কর হাসপাতালে। চিৎকার করলেও কেউ খুলতে পারেনি লিফটের দরজা, কারণ দরজার চাবিই পাওয়া যায়নি। সেই ঘটনায় ধৃত পাঁচজনকে আদালতে তোলা হলে তাঁদের আইনজীবী দাবি করেন, ফাঁসানো হচ্ছে। জামিনের বিরোধিতা করে সরকারি আইনজীবীর বক্তব্য, সিসিটিভিতেই সবটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।
পুলিশের তরফে এদিন অভিযুক্তদের আরও সাতদিনের জন্য হেফাজত চেয়ে আবেদন জানানো হয়। অন্যদিকে অভিযুক্তরা প্রত্যেকেই জামিনের আবেদন করেন আদালতে।
সরকারি আইনজীবী জামিনের বিরোধিতা করে বলেন, “যে কোনও লোক লিফট-ম্যান হয়না। লিফট ম্যানের লাইসেন্স থাকে। নির্দিষ্ট ট্রেনিং থাকে। ওঁরা লিফটের ঘাড়ে দোষ দিচ্ছেন। কিন্তু ঘটনার সময়ে অভিযুক্তরা কোথায় ছিলেন? তবে ওঁরা লিফট ফাঁকা রেখে অন্য জায়গায় যে গিয়েছিলেন তা সিসিটিভি-তেই স্পষ্ট। এদের প্রত্যেকের গতিবিধি দেখা গিয়েছে। কে কতক্ষণ ছিলেন না, কখন এসেছেন সবটাই দেখা গিয়েছে।”
এটা গাফিলতি নাকি ইচ্ছাকৃত, সে ব্যাপারে তদন্তে চলছে বলে জানিয়েছেন সরকারি আইনজীবী। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ঘটনার দিন ভোর ৪ টে ১৫ থেকে ৪ টে ৪৪ পর্যন্ত আটকে ছিলেন মহিলা ও শিশু। চিৎকার করছিলেন। লিফটম্যান বা নিরাপত্তারক্ষী কেউ আসেনি। ১ ঘন্টা পর উদ্ধার করা হয় তাঁদের। চাবিও পাওয়া যাচ্ছিল না বলে অভিযোগ। যে ধারা দেওয়া হয়েছে, তা যথার্থ বলে দাবি করেন সরকারি আইনজীবী।
অভিযুক্তদের আইনজীবীদের বক্তব্য, অভিযুক্তরা টাকার বিনিময়ে কাজ করেন। এই ঘটনার দায় তাঁদের নয়। তাঁরা বলেন, “গরিব বলে আমাদের ফাঁসানো হয়েছে। সুপারভাইজারকে জানানো হয়েছিল। কেন পদক্ষেপ নয়, তাঁর বিরুদ্ধে। লিফট ম্যালফাংকশন হয়েছিল। মেকানিক্যাল সমস্যা ছিল।” অভিযুক্তদের জন্য লিফটে কোনও সমস্যা হয়নি বলে দাবি করা হয়। যে ধারা দেওয়া হয়েছে সেটা যথার্থ নয় বলে দাবি অভিযুক্তদের। আরও উল্লেখ করা হয় লিফট দেখভাল করার দায়িত্ব ছিল পূর্ত দফতরের। আইনজীবীরা বলেন, “ওদের কোনও দোষ নেই। ওরা খুব গরিব।”
অভিযুক্তদের তরফে আইনজীবী সৈয়দ নাফিরুল ইসলাম বলেন, “এই লিফট ম্যানদের মধ্যে মানস গুহ ও মিলন দাসের ডিউটি লিফট ২-তে ছিল না। ফাঁসানো হয়েছে। ওই নির্দিষ্ট লিফটে কাদের ডিউটি ছিল, তা এখনও তদন্তকারীরা জানতে পারেনি।”
শুনানি শেষে জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে গিয়েছে। ৫ অভিযুক্তকে আগামী ০১ এপ্রিল পর্যন্ত ফের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে শিয়ালদহ আদালত।
