AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Dhakuria Chaos: একাধিক তৃণমূল নেতার সঙ্গে ছবি, ঢাকুরিয়ায় গুলি-বোমাবাজিতে অভিযুক্ত কে এই সোনা পাপ্পু?

Bombing in Dhakuria: সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, পৌরনিগমের ভোট হোক বা অন্যান্য নির্বাচন, বিরোধীদের ঘর-বন্দি করে রাখতে শাসকদলের অস্ত্র এই কুখ্যাত দুষ্কৃতী। কলকাতা পৌরনিগমের ৬৭ এবং ৯১ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ৫০-৫৫টি বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ কলকাতা পৌরনিগমে মাসখানেক আগে জমা পড়ে। প্রতিটি বেআইনি নির্মাণের পিছনে সোনা পাপ্পু রয়েছেন বলে অভিযোগ।

Dhakuria Chaos: একাধিক তৃণমূল নেতার সঙ্গে ছবি, ঢাকুরিয়ায় গুলি-বোমাবাজিতে অভিযুক্ত কে এই সোনা পাপ্পু?
শাসকদলের একাধিক নেতার পাশে সোনা পাপ্পুImage Credit: Social Media
| Edited By: | Updated on: Feb 02, 2026 | 3:18 AM
Share

কলকাতা: গুলি, বোমাবাজি। রবিবার রাতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল ঢাকুরিয়ার কাঁকুলিয়া রোড। এলাকা দখলকে কেন্দ্র করে এই হামলা বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। আর এই এলাকা দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে সোনা পাপ্পু ও তাঁঁর দলবলের বিরুদ্ধে। কিন্তু, কে এই সোনা পাপ্পু? কারও কি মদত রয়েছে তাঁর পিছনে? ঢাকুরিয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন তাঁর বিরুদ্ধে। আর সামনে আসছে সোনা পাপ্পুর সঙ্গে শাসকদলের ঘনিষ্ঠতার ছবি।

সোনা পাপ্পু কসবা, ঢাকুরিয়া কিংবা রামলাল বাজারে এখন সব থেকে আতঙ্কের নাম। অভিযোগ, কলকাতা পৌরনিগমের ৬৭ নম্বর ওয়ার্ড এবং ৯১ নম্বর ওয়ার্ডে শাসকদলের হয়ে যাবতীয় নিয়ন্ত্রণের কাজ করেন এই সোনা পাপ্পু। ৯১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়কে এদিন কাঁকুলিয়া রোডে ঘটনাস্থলে আসতে দেখা গিয়েছে। ওই এলাকাটি অবশ্য ৯০ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে। যার কাউন্সিলর বৈশ্বানরের স্ত্রী চৈতালি চট্টোপাধ্যায়। 

এদিন সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, পৌরনিগমের ভোট হোক বা অন্যান্য নির্বাচন, বিরোধীদের ঘর-বন্দি করে রাখতে শাসকদলের অস্ত্র এই কুখ্যাত দুষ্কৃতী। কলকাতা পৌরনিগমের ৬৭ এবং ৯১ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ৫০-৫৫টি বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ কলকাতা পৌরনিগমে মাসখানেক আগে জমা পড়ে। প্রতিটি বেআইনি নির্মাণের পিছনে সোনা পাপ্পু রয়েছেন বলে অভিযোগ। কলকাতা পৌরনিগমের বিল্ডিং বিভাগের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়াররা তা জানতে নাকি ব্যবস্থা নিতে পারেন না। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, শাসক নেতাদের সঙ্গে সোনা পাপ্পুর ঘনিষ্ঠতাই এর কারণ।

কসবা বিধানসভার এই এলাকাজুড়ে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ প্রায়ই ওঠে। স্থানীয় সূত্রে খবর, বেআইনি নির্মাণ নিয়ে শাসকদলের দু’টি থেকে তিনটি গোষ্ঠী এখন এলাকা নিয়ন্ত্রণে ব্যস্ত। আর তাদের মধ্যেই ঝামেলার জেরে বারুদের উপরে রয়েছে এই গোটা এলাকা। বিশেষ করে ৬৭ এবং ৯১ নম্বর ওয়ার্ড। রবিবার রাতে তার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে বলেই এলাকার বাসিন্দাদের দাবি।

কিন্তু কেন এদিনের গন্ডগোল?

এলাকা সূত্রে খবর, ঢাকুরিয়ার পঞ্চাননতলা বস্তি দীর্ঘদিন ধরেই নজরে রয়েছে সোনা পাপ্পুর। যে বস্তির বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করে ভয় দেখিয়ে অন্যত্র পাঠিয়ে সেখানে নির্মাণকাজ শুরুর পরিকল্পনা ছিল সোনা পাপ্পুর। এই সময় নাম উঠে আসে বাপি নামে স্থানীয় এক যুবকের। বর্তমানে ওই বস্তি বাপির নিয়ন্ত্রণে। এলাকার বাসিন্দারা মূলত বাপির কথা শুনেই এখন চলাফেরা করেন। অভিযোগ, সোনা পাপ্পুর মূলত টার্গেট হয়ে ওঠে এখন এই বস্তির কিছু মাতব্বর। শাসক দলের একটা গোষ্ঠীর ছত্রছায়ায় থাকা এই মাতব্বররা গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে সোনা পাপ্পুর। যে কারণে বস্তি কোনওভাবেই নিজেদের হাতে নিতে পারছেন না সোনা পাপ্পু এবং তাঁর দলবল, এমনই দাবি স্থানীয় সূত্রে। আর তার জেরেই এত বড় ঘটনা ঘটেছে বলেই দাবি এলাকার বাসিন্দাদের।

সোশ্যাল মিডিয়ায় সোনা পাপ্পুর সঙ্গে শাসকদলের একাধিক নেতার ছবি সামনে এসেছে। কখনও কসবার বিধায়ক জাভেদ খানের পাশে। আবার বিধায়ক তথা তৃণমূলের দক্ষিণ কলকাতার জেলা সভাপতি দেবাশিস কুমারের একাধিক কর্মসূচিতে দেখা গিয়েছে সোনা পাপ্পুকে। বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রীকে সোনা পাপ্পুর মেয়ের অন্নপ্রাশনের অনুষ্ঠানে দেখা গিয়েছে। তবে এদিন ঘটনার পর দেবাশিস কুমার বলেন, “যে এটা করেছে, তাকে গ্রেফতার করা উচিত।” তাঁর সঙ্গে সোনা পাপ্পুকে বিভিন্ন সময় দেখতে পাওয়া নিয়ে তৃণমূল বিধায়ক বলেন, “আমার সঙ্গে থাকলেই যে তার শাস্তি হবে না, এমনটা নয়। যে মঞ্চেই থাকুক, অন্যায় যে করবে, তার শাস্তি হওয়া উচিত।”