
কলকাতা: শিক্ষা দফতরের নির্দেশে জেলায় জেলায় শুরু দাগিদের কাছ থেকে বেতন ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া। প্রত্যেক জেলার জেলাশাসকের কাছে দাগিদের তালিকা পাঠিয়েছেন দফতরের সচিব। স্কুল পরিদর্শকের সঙ্গে হাত মিলিয়ে দাগিদের কাছ থেকে সুদ সমেত বেতন উদ্ধার হবে। ইতিমধ্যেই দাগিদের ঠিকানা পৌঁছেছে জেলা শিক্ষা প্রশাসনের কাছে। বেঙ্গল পাবলিক ডিমান্ড রিকভারি আইন অনুয়ায়ী টাকা ফেরত দেবেন দাগিরা।
কলকাতা হাইকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল যাঁরা দাগি, যাঁরা দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে চাকরি পেয়েছেন তাঁদের বেতন দ্রুত সুদ সমেত ফেরত দিতে হবে। এই নির্দেশ বলবৎ থাকে সুপ্রিম কোর্টেও। কিন্তু তারপরেও জেলাশাসকদের মাধ্যমে টাকা ফেরতের যে প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা ছিল তা শুরু হয়নি। সেই ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টে ভৎর্সনার মুখে পড়তে হয় রাজ্য সরকারকে। রাজ্যের আইনজীবীকে উদ্দেশ্য করে সুপ্রিম কোর্ট পরিষ্কার জানিয়ে দেয়, কেন টাকা ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু হয়নি তার ব্যাখ্যা দিতে হবে।
হাই কোর্টের রায়ে বলা হয়েছিল, ‘দাগি’দের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে তদন্তকারী সংস্থা। সেই রায়ই বহাল রাখে সুপ্রিম কোর্ট। সিবিআইয়ের আইনজীবী তথা ডেপুটি সলিসিটর জেনারেল ধীরাজ ত্রিবেদীর উদ্দেশে বিচারপতি বসাকের প্রশ্ন, কেন অযোগ্যদের ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি? কী ভাবে তাঁরা চাকরি পেলেন? দাগিদের কাছ থেকে টাকা ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এতদিনে সেই প্রক্রিয়া শুরু হল।
প্রসঙ্গত, প্রথম দফায় ১৮০৬ জন ‘দাগি’র নাম প্রকাশ করেছিল এসএসসি, তবে পরবর্তীতে এই সংখ্যা ও তালিকা নিয়ে ধন্দ তৈরি হয়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে, যাঁদের নিয়োগ অযোগ্য ও নিয়মবহির্ভূত (দাগি) প্রমাণিত হয়েছে, তাঁদের এতদিন পর্যন্ত প্রাপ্ত সমস্ত বেতন ১২% সুদের হারে ফেরত দিতে হবে। আইনজীবী ফিরদৌস শামিমের মতে, অন্যায়ভাবে চাকরি পাওয়া ব্যক্তিরা ১০-১২ লক্ষ টাকা ঘুষ দিয়েছেন এবং এখন সুদসহ বেতন ফেরত দিলে ২৫-২৬ লক্ষ টাকা পর্যন্ত পকেট থেকে যেতে পারে।