
কলকাতা: আদর্শ হিন্দুত্ব। কিন্তু ভোট দিতে আবেদন করলেন ‘সেক্যুলার’ বামেদের কাছে। শুক্রবার বাঘাযতীন তালপুকুর মাঠে রামনবমী পালন করতে গিয়ে যাদবপুরের বিজেপি প্রার্থী শর্বরী মুখোপাধ্যায়কে করজোড়ে বামেদের কাছে ভোট চাইতে দেখা গেল। বামেদের উদ্দেশ্যে বললেন, “আদর্শের লড়াই থাকবে। কিন্তু যাদবপুরের ভোট বিভাজিত হতে দেবেন না। ভোট আমাকে দিন। তৃণমূলের প্রধান বিরোধী শক্তিকে দিন। বামপন্থী প্রার্থীকে দিয়ে ভোটটা নষ্ট করবেন না।”
প্রসঙ্গত, বঙ্গ বিজেপির রাজ্য় সভাপতির দায়িত্বে থাকার পর খানিক একই সুর শোনা গিয়েছিল শমীক ভট্টাচার্যের গলাতেও। এবার যাদবপুরে বামেদের প্রার্থী বিকাশ ভট্টাচার্য। কিন্তু বামেদের ভোট গেরুয়া ঝুলিতে টানতে এবার রামনববীর মঞ্চ ব্যবহার বিজেপির প্রার্থীর। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বড় অংশ বলছে, এবারের নির্বাচনে তৃণমূলকে পরাস্ত করতে অনেক পকেটেই বামেদের ভোট অত্যন্ত প্রয়োজন, তা টের পাচ্ছেন পদ্ম প্রার্থীরা। সে কারণেই এই উদ্যোগ বলে মনে করা হচ্ছে।
ভারতীয় রামসেনা সংগঠনের তরফে ওই এলাকায় রামনবমী গত তিন বছর ধরেই পালন হচ্ছে। এদিন মঞ্চে গিয়ে রামনবমী পালনের পাশাপাশি ভোগ বিতরণের লাইনে দাঁড়ানো সাধারণ মানুষদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ জনসংযোগ করেন যাদবপুরের বিজেপি প্রার্থী। ভোগ বিতরণও নিজের হাতে করেন তিনি।
কিন্তু তার আগেই বামেদের ভোট যাদবপুরের তার জয়ের পথ মসৃণ করার জন্য কতটা প্রয়োজন, তা নিজের বক্তব্যে পরিষ্কার করে দেন বিজেপি প্রার্থী। তিনি এও বলেন, যাদবপুরে অনুন্নয়ন এবং গুন্ডামির শিকার সাধারণ মানুষ। সকলকে সঠিক পথে নিয়ে আসার জন্য এলাকায় পরিবর্তন প্রয়োজন।
সোজা কথায়, বামেদের সঙ্গে নিয়ে নিজের পথ মসৃণ করতে চান বিজেপি প্রার্থী। যে কারণে শাসকদলকে ক্ষমতাচ্যুত করতে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যকে নয় বা শর্বরী মুখোপাধ্যায়কে দেখে নয়, পদ্মফুলকে দেখেই যেন সাধারণ মানুষ ভোট দেন তাঁরও আবেদন করেন তিনি।
তবে এদিনের মঞ্চে রাম লক্ষণ সীতার যে মূর্তি তৈরি করা হয়েছে, সেখানে ১৪ বছরের বনবাস কাটিয়ে পুনরায় অযোধ্যা ফেরার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। সংগঠনের সভাপতি কৌশিক গোস্বামী বলেন, “গত ১৪ বছর ধরে এ রাজ্যের মানুষ বনবাস পালন করছে। তাই সেখান থেকে শান্তি-শৃঙ্খলার মধ্যে উন্নত সমাজে মানুষ যাতে ফিরে আসতে পারে, সেই বার্তাই মূর্তির মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে।”