
কলকাতা: একদিকে তৃণমূল। যারা শুধুমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখকে সামনে রেখেই লড়াই করছে। দলের সুপ্রিমো সভায় গিয়ে বলে আসছেন, তিনিই ২৯৪টি আসনের প্রার্থী। আর একদিকে বিজেপি। যারা কখনই কোনও একটি মুখ সামনে রেখে রাজনীতি করে না, কোনও রাজ্যেই নয়। বলা ভালো, শুধুমাত্র নরেন্দ্র মোদীকে ‘মুখ’ করেই নির্বাচন লড়ে বিজেপি। তবু পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্য, যেখানে বিভিন্ন সবসময় মুখ্যমন্ত্রী মুখ গুরুত্ব পেয়ে থাকে, সেখানে জল্পনা তো থাকবেই।
বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী মুখ কে?
বঙ্গ বিজেপির মুখ বলতে আলোচনায় উঠে আসে সুকান্ত মজুমদার, শমীক ভট্টাচার্য, শুভেন্দু অধিকারীর মতো নাম। ছাব্বিশের নির্বাচনে সক্রিয় হয়ে ময়দানে রয়েছেন দিলীপ ঘোষও। তবে বিজেপি যদি ক্ষমতায় আসে, তাহলে মুখ্যমন্ত্রী হবে কে? এর উত্তর কখনই দেয় না বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব। দলের সংগঠনের নীতি মেনেই কাজ করে গেরুয়া শিবির। তবে এবারের নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারীকে ঘিরে জল্পনা বাড়ছে।
অতীতে তাকালে দেখা যাবে, ২০১৫ তে দিল্লিতে কিরণ বেদী বা ২০১৬-তে অসমের মুখ্যমন্ত্রী মুখ হিসেবে সর্বানন্দ সোনোয়ালের নাম ঘোষণা করেছিল গেরুয়া শিবির। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণা হয়েছে ফলাফল ঘোষার পর। সে ক্ষেত্রে একদিকে যেমন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে যোগী আদিত্যনাথ বা বিপ্লব দেবের মতো আরএসএস যোগ থাকা নেতার নাম ঘোষণা করা হয়েছে, অন্যদিকে, হিমন্ত বিশ্বশর্মার মতো নজিরও রয়েছে, যিনি কংগ্রেস থেকে বিজেপিতে এসে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার এক সভায় বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার বলেছেন, “আগামিদিনে রাজ্যে যিনিই বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী হোন না কেন, তিনি আমিষাশী হবেন।”
শুভেন্দুর মনোনয়নে সঙ্গী শাহ
সোমবার নন্দীগ্রামে মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান, আর বৃহস্পতিবার ভবানীপুরে শুভেন্দুর সঙ্গে থাকবেন অমিত শাহ। বিজেপির সর্বোচ্চ নেতৃত্বের উপস্থিতি শুভেন্দুকে কি সবার থেকে আলাদা করে দিচ্ছে না?
বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতির নাম নিতিন নবীন হলেও, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীই যে দলের সর্বেসর্বা, তেমনটাই মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সাম্প্রতিক অতীতে সেই অমিত শাহ অন্য কোন বিজেপি প্রার্থীর সঙ্গে এভাব মনোনয়ন জমা দিতে গিয়েছেন, তা কেউ মনে করতে পারছেন না।
তবে, ২০২২-এ গুজরাটের সানন্দ বিধানসভার প্রার্থী কানু পটেলের সঙ্গে শুধুমাত্র যেতে দেখা গিয়েছিল শাহকে। সে ক্ষেত্রে কানু পটেল কোনও মুখ্যমন্ত্রী মুখ ছিলেন না। এ ক্ষেত্রে রাজনীতিকদের আরও একটা মত হল, ভবানীপুরে এসে সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর চাপ তৈরি করতে চাইছেন শাহ। বুঝিয়ে দিতে চাইছেন, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বই আদতে মমতার প্রতিপক্ষ।
শাহের মুখে বারবার শুভেন্দুর নাম
শাহ শুধু মনোনয়নের সঙ্গীই হচ্ছেন না। সম্প্রতি তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করার সময় তিনবার শুভেন্দু অধিকারীর নাম নিতে শোনা যায় অমিত শাহকে। বিজেপির ‘চার্জশিট’-এ ‘গণতন্ত্রের উপরে আঘাত’ শীর্ষক অধ্যায়ে শুভেন্দুর উপরে ‘হামলা’র অভিযোগের কথা আলাদা করে উল্লেখ করা হয়েছে। শাহ নিজে যখন পশ্চিমবঙ্গের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা বলছিলেন, তখনও তিনি শুভেন্দুর উপর ‘হামলা’র কথা উল্লেখ করেন। পশ্চিম মেদিনীপুরে শুভেন্দুর উপর হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। শুধু তাই নয়, বিধানসভায় ৭৭ জন বিধায়ককে কীভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন শুভেন্দু, সে কথাও বলেন অমিত শাহ। শুভেন্দু অধিকারী কীভাবে অনুপ্রবেশ ইস্যু গোটা রাজ্যে তুলে ধরেছেন, সেই বর্ণনাও দেন অমিত শাহ। বঙ্গ বিজেপিতে শুভেন্দুর গুরুত্ব যে ক্রমশ বাড়ছে, তেমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
কী বললেন শুভেন্দু?
বুধবার শুভেন্দুকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে, তিনি বলেন, “কর্মীরা আবেগে মুখ্যমন্ত্রীর কথা বলছেন। আমাদের মুখ মোদীজি। কর্মীদের আবেগকে মাথায় রেখেই কেউ মুখ্যমন্ত্রী হবেন।”
এই বিষয়ে দলীয় নেতৃত্বের তরফে কোনও বার্তা পাওয়া যায়নি। এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে বিজেপি মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, “শুভেন্দু অধিকারী আমাদের নেতা, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা। আমাদের নেতা-কর্মীদের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী মুখ নিয়ে কোনও জল্পনা নেই। আমাদের একটা বোর্ড আছে, তারাই সিদ্ধান্ত নেবে।”