
কলকাতা: ২৫ দিন ধরে গৃহবন্দি। ঘরের বাইরে তো দূরের কথা, না জানিয়ে বাথরুমে পর্যন্ত যাওয়ার উপায় ছিল না। খেতে বসলেও অন রাখতে হত মোবাইল, ঘুমনোর সময়ও ছাড় মিলত না। খাস কলকাতায় এমনই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার সাক্ষী হয়েছেন এক শিক্ষক। লক্ষ লক্ষ টাকা খোয়াও গিয়েছে তাঁর।
সাইবার ক্রাইম নয়, সম্প্রতি আরও একটা অপরাধের কথা সবার মুখে মুখে ফিরছে- ডিজিটাল অ্যারেস্ট। আর এটা সেই ঘটনাই ঘটে গিয়েছে বিপুল সাহা নামে ওই শিক্ষকের সঙ্গে। খাস কলকাতায় ২৫ দিন ধরে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ হয়ে থাকলেন এক শিক্ষক। ২৫ দিন ধরে বন্দি ঘরে বন্দি ছিলেন তিনি। খোয়া গেল ৫৩ লক্ষ টাকা।
২৫ দিন ধরে টানা ভিডিয়ো কলে ধরে রাখা হয়েছিল বিপুল সাহাকে। ফোনের ওপারে কারা? ফোনের ওপারে বিজয় খান্না, নিশা পটেল। একজন ফেক সিবিআই অফিসার, অপরজন ফেক ইডি অফিসার। দরিয়াগঞ্জ থানা থেকে আসে সমন। তারপরই শুরু হয় পুলিশ, ইডি, সিবিআই-এর কল। সবটাই ফেক!
ফেক সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি রাহুল গুপ্তর এজলাশে চলল ফেক মামলা। এমনকী ফেক কোর্ট রুমে ১৩ দিনের মাথায় হল সওয়াল জবাব। দিনের পর দিন এমন ভয় দেখানো হল যে চিন্তাশক্তি পর্যন্ত হারিয়ে ফেলেছিলন ওই শিক্ষক। শেষ পর্যন্ত সব খোয়ালেন তিনি।
ওই শিক্ষক জানিয়েছেন, গত ডিসেম্বরের ২ থেকে ২৭ তারিখ পর্যন্ত ঘরের মধ্যে আটকে রাখা হয়েছিল। শিক্ষক বলেন, “টয়লেটে গেলে পারমিশন নিতে হত, ভাত খেলেও সামনে মোবাইল রেখে দিতে হত।” কেন এতটা বিশ্বাস করলেন তিনি? শিক্ষকের দাবি, যা যা নথি দেখানো হয়েছে, সেগুলো দেখলে মনে হবে সব সত্যি। যেভাবে কথা বলেছে ওরা, তাতে মনে হয় সিবিআই অফিসারদের থেকেও স্মার্ট।
জাতীয় সুরক্ষার ব্যাপার বলে দাবি করে কাউকে জানাতে নিষেধ করা হয়েছিল ওই শিক্ষককে। এমনকী মেয়েকে বললেও বিপদ হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল। মেয়েও চাকরি করে, সে কথাও মনে করিয়ে দেওয়া হয়। সব গোপন রাখতে বলা হয়েছিল। এক মিনিটের জন্য ফোন অফ করতে দেওয়া হয়নি। ভাবার মতো পরিস্থিতি ছিল না। বলা হয়েছিল, একটি বিশেষ অ্য়াকাউন্টে ৫৩ লক্ষ টাকা পাঠালে এআই দিয়ে ১১ স্তরের চেকিং হবে। তারপর ছেড়ে দেওয়া হবে। শেষ পর্যন্ত সেই টাকা আর ফেরত না আসায় সবটা বুঝতে পারেনি তিনি। ২৫ দিন পর তাঁকে ছেড়ে দেয় প্রতারকরা। সব বুঝতে পেরে আপাতত কসবা থানার দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।